দুই বছর পর যে ইদের প্রত্যাশা অনাবিল আনন্দে ভরে উঠুক জীবন

আপডেট: মে ১, ২০২২, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ইদুল ফিতর। এখন শুধু সময়ের ব্যাপার, চাঁদ দেখার অপেক্ষায় মুসলিম উম্মাহ। আজ রোববার বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে সোমবার খুশির ইদ। অন্যথায় মঙ্গলবার ইদ হবে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আজ সভায় বসবে। সেই সভা থেকেই ইদের দিন নির্দিষ্ট হবে।
ইদ মানেই আনন্দ, ইদ মানেই উৎসব। আবার ইদের দিনেই আনন্দ- বিষয়টি তেমনও নয়- ইদের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আনন্দ বণ্টনের উৎসব এটি- সৌহার্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব বণ্টনের উৎসব। ধনী-নির্ধন এই উৎসবে সামিল হওয়ার আদর্শই উজ্জীবিত-উদ্ভাসিত হয় ইদের মাহাত্ম্য।
গত দুই বছর শুধুই নিয়ম রক্ষার ইদ উদযাপিত হয়েছে। এবার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। করোনাভাইরাসের চোখ-রাঙানি নেই। দেশের মানুষ এবার স্বস্তির সাথে উৎসবে মেতে উঠবে। দুই বছরে পর ইদের ঐতিহ্য উন্মুক্ত মাঠে অর্থাৎ ইদগাহে ইদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। খোলা আকাশের নিচেই বুকে বুক মিলিয়ে সম্প্রীতি সুরক্ষার অঙ্গীকার পালিত হবে। এবার উৎসবও থাকবে, পরস্পর সম্পর্ক, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বও থাকবে- যা গত দুই ইদে সম্ভব হয়ে উঠেনি।
এক মাস সিয়াম সাধনার পর মানুষের মধ্যেকার পাশবিক বৃত্তিগুলোকে উৎপাটন করে শরীর ও আত্মার যে শুদ্ধতার প্রত্যয় ব্যক্ত হয় তাতে ধৈর্য্য, সহনশীলতা, দরিদ্র ও প্রতিবেশিদের প্রতি কর্তব্য-কাজের দায়বোধ তৈরি হয়। অর্থাৎ মুসলমান হিসেবে নাগরিক ও সামাজিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। আমাদের চিন্তা ও বিশ্বাসের বিশুদ্ধতার মধ্যেই ইদের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত। সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে শরীর ও আত্মার যে শুদ্ধতার প্রত্যয় ব্যক্ত হলো, তাতে ধৈর্য্য, সহনশীলতা অর্জিত হলো- করোনাভাইরাস প্রতিরোধে তারই পরীক্ষা দিতে হয়েছে আমাদের সবাইকে। করোনা প্রতিরোধে সহযোগিতা, ধৈর্য ও সহনশীল আচরণই জাতিকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার শর্তগুলো এখনো বহাল আছে। ধৈর্য ও সহনশীল আচরণ এখনো কাম্য। কেননা করোনাভাইরাস অবশেষরূপে এখনো বহাল আছে।
ইদ সমাজ জীবনে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের জাগরণ তৈরি করুক। কেবল সেই অঙ্গীকারের মধ্যেই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। ইদ সবার জীবনে অনাবিল আনন্দ বয়ে আনুক। ইদ মোবারক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ