দুই বোনের এক দেহ!

আপডেট: এপ্রিল ২৫, ২০১৭, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



কারমেন আর লুপিতা দুই বোন। মার্কিন দেশের কানেক্টিকাটের এই দুই কিশোরীর জীবনের কাছে চাহিদা এমন কিছু অসাধারণ নয়। তারাও আর পাঁচটা সমবয়সি কিশোরীর মতোই হোমটাস্ক করতে চায়, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে চায় আর একটা থুড়ি দুটো ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে চায়। এমনিতে তাদের ভাবনা-চিন্তা বা কাজকর্ম তেমন ব্যতিক্রমী নয়। ব্যতিক্রম তাদের শরীরে। কারমেন আর লুপিতা কনজয়েনড টুইনস বা সংযুক্ত যমজ। তাদের একটি করে হৃদপি-, দু’টি করে হাত, একটি করে ফুসফুস- এ পর্যন্ত ঠিক আছে। সমস্যা হলো পাঁজরের খাঁচা থেকে শরীরের বাকি অংশ একই। তাদের পাচনতন্ত্র, এমনকি জননাঙ্গও কমন। চার বছর বয়সে তারা হাঁটতে শেখে। তারপর থেকে ১২ বছর তারা কদম কদম এগিয়েছে। বুঝতে শিখেছে জীবনের মানে। জন্মের পরেই ডাক্তাররা তাদের আলাদা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এতে বিপদের আশঙ্কা ছিল বলে করা হয়ে ওঠে নি। ১৬ বছর পরে আবার চিকিৎসকরা নড়েচড়ে বসেছেন কারমেন আর লুপিতার কেস নিয়ে। তাদের বক্তব্য-এই সময়ে তাদের আলাদা না করলে বিপদ দেখা দিতে পারে দু’জনেরই।
কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কারমেন আর লুপিতা দু’জনেই জানিয়েছে, তাদের এই অস্ত্রোপচারে মত নেই। কারণ, তারা এই ১৬ বছর ধরে যে জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তাতে তারা পরস্পরের থেকে আলাদা হলে মানসিকভাবেই ভেঙে পড়বে।
অস্ত্রোপচারের ভয় ছাড়াও আর একটা ভয় কারমেন আর লুপিতার পরিবারকে তাড়া করছে। এই পরিবারটি মেক্সিকো থেকে এসেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেক্সিকান শরণার্থী-সংক্রান্ত বিরোধিতা তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। যেকোনো দিন আমেরিকা ছেড়ে চলে যাওয়ার আদেশ আসতে পারে, এই ভেবে চিন্তিত কারমেন আর লুপিতা আন্দ্রাদের পরিবার। আমেরিকা ছাড়লে সেখানকার চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হবে কারমেন ও লুপিতা। সেই বিপদের দিনে কী হবে ভেবে শঙ্কিত তাদের পরিবার। সূত্র : এবেলা।