দুই মাসেও গ্রেফতার হয় নি ধর্ষণ মামলার আসামি

আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০১৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়েরের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে নগরীর এক পুকুর ব্যবসায়ী। এলাকার লোকজন তাকে প্রতিনিয়ত ঘোরাফেরা করতে দেখলেও পুলিশ বলছে, তিনি পলাতক। তাকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। বাদী পক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে এমন রহস্যজনক আচরণ করছে পুলিশ।
গোপনে বিয়ের চারবছর পর স্ত্রীর স্বীকৃতি না পাওয়ায় গত ২১ আগস্ট নগরীর রাজপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী এক নারী (৩২)। প্রতারণামূলক সম্মতি আদায় করে ধর্ষণের অভিযোগে ওই মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা হয় মামলাটি।
নগরীর সুফিয়ানের মোড় এলাকার বাসিন্দা ওই নারীর অভিযোগ, একই এলাকার আতিকুল ইসলাম ওরফে বাবু (৪৫)  ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর গোপনে বিয়ে করেন তাকে। তবে তাদের বিয়ের রেজিস্ট্রি ছিলো না। এরপর থেকেই একই এলাকায় আতিকুল ইসলামের ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রীর মত মেলামেশা করেছেন তারা। যদিও বিষয়টি দুই পরিবারের অজান্তেই হচ্ছিলো। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে আতিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু সন্ত্র্সাী ডেকে হত্যার হুমকি দিয়ে বের করে দেয়া হয় ওই নারীকে।
আতিকুল ইসলাম ওই এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। তার নয় বছর বয়সি একটি মেয়েও রয়েছে। চার বছর আগে মৌখিকভাবে আগের স্ত্রীকে তালাক দেন বাবু। এরপর সম্পর্কে জড়ান ওই নারীর সঙ্গে। আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ের এক বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় ওই নারীরও। তার ১৬ বছরের এক মেয়ে এবং ১৩ বছরের এক ছেলে রয়েছে।
ওই নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মামলা দায়েরের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করছে না। এনিয়ে টালবাহানা করছে। এছাড়া এলাকায় পুকুর লিজ নিয়ে মাছচাষ করছেন আতিকুল ইসলাম। মামলা তুলে নিতে সহযোগীদের মাধ্যমে হুমকিও দিচ্ছেন তিনি। ফলে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
তবে নিময় মেনেই মামলা চলছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজপাড়া থানার উপপরিদর্শক ইফতেখার আল আমীন। আসামি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ অস্বীকার করেন তদন্তদকারী কর্মকর্তা।
তিনি আরো বলেন, মামলার তদন্ত কাজ শেষ। এখন মেডিকেল প্রতিবেদন পাবার অপেক্ষা। ওই প্রতিবেদন পেলেই তিনি আদালতে অভিযোগপত্র দেবেন। এনিয়ে অবহেলার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।