‘দুই মাসের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ডিজিটাল সার্টিফিকেট পৌঁছে দেয়া হবে’

আপডেট: জুন ২৬, ২০২২, ২:৪২ অপরাহ্ণ

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক

সোনার দেশ ডেস্ক :


মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেছেন, আগামী দু’মাসের মধ্যে সকল মুক্তিযোদ্ধার হাতে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও আইড কার্ড তুলে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাশিত ডিজিটাল সার্টিফিকেট এবং আইডি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম আজ থেকে শুরু করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ১৩টি জেলার ৩৭ হাজার ৯১ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ডিজিটাল সনদ ও কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।

মোজাম্মেল হক আজ নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও আইডি কার্ড প্রদান, চিকিৎসা সেবা প্রদান, সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত বুকলেটের মোড়ক উম্মোচন ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন।

এ সময় মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রঞ্জিত কুমার দাসসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
মোজাম্মেল হক বলেন, প্রথম পর্যায়ে গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নড়াইল ও গাজীপুর জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেট ও আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। তারপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের এই কার্ড দেয়া হবে।

তিনি বলেন, সারাদেশে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও আইডি কার্ড বিতরণ করতে দু’মাসের বেশি সময় লাগবে না। ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি সার্টিফিকেট ও কার্ড তৈরি হয়েছে, বাকী সার্টিফিকেট ও কার্ড তৈরির কাজও দ্রæততম সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, এই সার্টিফিকেট এবং কার্ড উপজেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সেখান থেকেই বিতরণ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যারা জীবিত আছেন তারা সার্টিফিকেট এবং আইডি কার্ড দু’টিই পাবেন, কিন্তু যে সকল মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন, তাদের জন্য শুধু ডিজিটাল সার্টিফিকেট দেয়া হবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও আইডি কার্ড যাতে কেউ জাল করতে না পারে, সেজন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল সার্টিফিকেটে ১৪ ধরণের এবং ডিজিটাল আইডি কার্ডে ১২ ধরণের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় হাসপাতাল এবং ঢাকার ২২টি বিশেষায়িত হাসপাতালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে ১৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই হাসপাতালগুলোর রিকুইজিশন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, বিদেশে কোন মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন অনুষ্ঠনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কোন কিছু করার নেই। শুধুমাত্র ভোটার তালিকা তৈরি করে দেওয়াই মন্ত্রণালয়ের কাজ। ভোটার তালিকা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।