দুই মাসে রেমিটেন্স বেড়েছে ১৬%

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর প্রবাহ বাড়ছে; চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আগের একই সময়ের চেয়ে রেমিটেন্স প্রবাহ ১৬ শতাংশ বেড়েছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কারণে বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রবাহে ভাটা পড়েছিল।
কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে আগস্ট মাসে ১৪২ কোটি ডলার রেমেটিন্স পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা।
এই রেমিটেন্স গত ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ১৪৬ কোটি ডলার রেমিটেন্স আসে, যা ছিল ওই অর্থবছরের একক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ।
আগের মাস জুলাইতে ১১১ কোটি ৫৬ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছিল, যা ছিল গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ১১ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রেমিটেন্স সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য পর‌্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস অগাস্টে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৪১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
গত অর্থবছরের একই মাসে যা ছিল ১১৮ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।
এ হিসাবে অগাস্ট মাসে রেমিটেন্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের অগাস্টের চেয়ে সদ্য সমাপ্ত অগাস্টে ২০ শতাংশ বেশি রেমিটেন্স বাংলাদেশে এসেছে।
আর অর্থবছরের দুই মাসের হিসাবে অর্থাৎ জুলাই-অগাস্ট সময়ে রেমিটেন্স বেড়েছে ১৬ শতাংশের মতো।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-অগাস্ট)২১৮ কোটি ৯১ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছিল। আর চলতি অর্থবছরের জুলাই-অগাস্ট সময়ে এসেছে ২৫৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার।
রেমিটেন্স বেড়েছে
২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ (১৫.৩১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স বাংলাদেশে আসে।
এরপর প্রতিবছরই রেমিটেন্স কমেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আড়াই শতাংশ কমে রেমিটেন্স আসে ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে তা সাড়ে ১৪ শতাংশ কমে আসে ১ হাজার ২৭৭ কোটি ডলার। যা ছিল আগের ছয় অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
রেমিটেন্সের উৎস দেশগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দা এবং মোবাইল ব্যাংকিংসহ অন্যান্য মাধ্যমে হুন্ডি প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈধপথে রেমিটেন্স কম আসছিল।
২০১৬-১৭অর্থবছরের প্রায় পুরো সময় ধরে পড়তির দিকে থাকা রেমিটেন্স প্রবাহের ঊর্ধ্বগতি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সুখবরই দিচ্ছে।
দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি রেমিটেন্সের নিম্নগতি সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছিল।
রেমিটেন্স বাড়াতে মাশুল না নেয়াসহ নানা ঘোষণাও দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অগাস্টে ১৪২ কোটি ডলার রেমিটেন্সর মধ্যে সরকারি ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪০ কোটি ডলার। দুটি বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে আসে ১ কোটি ১৭ লাখ ডলার।
৩৯টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৯৯ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। আর নয়টি বিদেশি ব্যাংকের মাধামে আসে ১ কোটি ২৮ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন,“প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠাতে আগ্রহী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়। তারই ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে এখন।”
মাশুল না নেয়ার ঘোষণা কার্যকর হলে রেমিটেন্স প্রবাহ আরও বাড়বে বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কর্মকর্তা।
বাংলাদেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখে প্রবাসীদের পাঠানো এই বৈদেশিক মুদ্রা।
রেমিটেন্স কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিদেশ থেকে অবৈধ পথে টাকা পাঠানোকে দায়ী করছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।
অন্যদিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের অর্থনীতির নাজুক অবস্থার কথা বলে আসছে আইএমএফ। সেখানে গিয়ে অনেকের বেকার পড়ে থাকার খবরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আসছে।
দেশের রেমিটেন্সের অর্ধেকের বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ- সৌদিআরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইন থেকে।
রিজার্ভ ৩৩.৫ বিলিয়ন ডলার
রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ার প্রভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারও বেশ মজবুত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৩৫০ কোটি (৩৩.৫ বিলিয়ন) ডলার। যা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা।
প্রতি মাসে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার হিসেবে এই রিজার্ভ দিয়ে ৯ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী,একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ