দুই মুক্তিযোদ্ধাসহ পাকশীর দশ পরিবারের শতাধিক সদস্য উচ্ছেদ আতঙ্কে

আপডেট: June 28, 2020, 2:41 pm

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :


ঈশ্বরদীর পাকশীতে ব্যক্তি মালিকানাধীন ১৫ বিঘা জমিতে প্রায় ৮০ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় বসবাস করছেন প্রায় ১০টি পরিবারের শতাধিক সদস্য। পাকশী ইউনিয়নের দিয়াড় বাঘইল মৌজায় পাকশী নর্থবেঙ্গল পেপার মিলের আবাসিক এলাকা সংলগ্ন গ্রামে এতো বছর ধরে পৈত্রিক ভূমিতে বসবাসকারী এসব বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করতে হঠাৎ রেলের লোকজন এই জমি তাদের বলে দাবি করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের উচ্ছেদ করা হবে বলে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। এ কারণে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছেন দুই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ দশটি পরিবারের শতাধিক মানুষ। এদিকে করোনাকালের এই দুঃসময়ে এসব পরিবারকে উচ্ছেদ না করতে ইতোমধ্যেই পাবনার ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।
রেলের মৌখিক আদেশে উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটানো এসব পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসী বলেছেন, এই ১৫ বিঘা জমি সরকারের যদি প্রয়োজন পড়ে তবে তারা সরকারকে অবশ্যই জমি ছেড়ে দিবেন, কিন্তু তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপুরণ প্রদান না করে উচ্ছেদ করা যাবে না। করোনার এই বৈশ্বিক দুঃসময়ে উচ্ছেদ আতঙ্কে উদ্বিগ্ন এই ১০টি পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৪১ সালে তৎকালীন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই ১৫ বিঘাসহ পাকশীর আরো অনেক জমি অপ্রয়োজনীয় ঘোষণা করে নিলামে বিক্রি করে দেয়। পাবনা কালেক্টর এর নিকট থেকে ১৯৪১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দলিল মূলে স্থানীয় ভগবান দাস এই জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তার নিকট থেকে নুরজাহান বিবি, জিতেন্দ্র নাথ কুন্ডু, মনিন্দ্র নাথ কুন্ডু, মোহিনী মোহন কুন্ডু ক্রয় করেন এ জমি। তৎপরবর্তী সময়ে এসব জমি একাধিকবার ক্রয় বিক্রয় হয়েছে। বর্তমানে এসব জমিতে মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল ইসলাম, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুবুল আলম, আলতাব হোসেন, ঝরনা বেগম, শাহনাজ পারভীন, এমদাদুল হক, আতাউল হক, আব্দুল্লা আল আজিজ, কুমকুম বেগম, গোলাম সাকলাইন খানসহ দশটি পরিবারের সদস্যরা ক্রয় সূত্রে ও পৈত্রিক ওয়ারিস সূত্রে বসবাস করছেন। এসব জমি রেলের নয় এবং উল্লিখিত ব্যক্তিদের নিজস্ব সম্পত্তি বলে ১৯৬৫ সালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারও রায় ঘোষণা করেন।
কয়েকদিন আগে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে এসব জমি রেলের বলে দাবি করে তাদের উচ্ছেদ করার কথা বললে এলাকায় উচ্ছেদ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী এই ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আদালতের মামলা রয়েছে, তাছাড়া আদালত ইতোমধ্যে বালাম বই তলব করেছে। ১২ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করার পর করোনার কারণে আদালত বন্ধ হয়ে যায়। করোনাকালীন দুঃসময়ে এলাকাবাসী এমনিতেই সংকটে রয়েছেন তার ওপর রেল কর্তৃপক্ষ তাদের অযথা হয়রানি ও উচ্ছেদ করছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এলাকাবাসী এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এসব বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান বলেন, ১৯৭৬ সালের আরএস রেকর্ড অনুযায়ী এসব জমি রেলের, সেকারণে এই জমিতে বসবাসকারীদের জমি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ