দুই শিশু সন্তান নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী মালয়েশিয়ায় নিহত আহেদের লাশ দেশে আনার দাবি স্বজনদের

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০২৩, ৪:১৮ অপরাহ্ণ


পাবনা প্রতিনিধি :


মালয়েশিয়ার পেনাঙে দুর্ঘটনায় নিহত তিন বাংলাদেশির একজন পাবনা চাটমোহরের আহেদ আলী (৪৩)। তার মৃত্যু-খবর জানার পর পরিবার-স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবারে স্বচ্ছলতার আশায় বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন আহেদ। কিন্তু দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর সাথে শেষ হয়ে যায় পরিবারের সব স্বপ্ন। দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে এখন দিশেহারা আহেদ আলীর স্ত্রী হালিমা খাতুন রত্না।

পারিবারিক সূত্রমতে, চাটমোহরের ফৈলজানা ইউনিয়নের সাঁইপাই গ্রামের মৃত ওসমান মন্ডল ও আবেদা খাতুন দম্পত্তির সন্তান আহেদ আলী। সাত ছেলেমেয়ের মধ্যে আহেদ পঞ্চম। ব্যাংক থেকে ঋণ করে বছর দেড়েক আগে কাজের সন্ধানে পাড়ি দিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়। সেখানের পেনাং রাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি।

স্বপ্ন ছিল পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর, দুই ছেলেকে মানুষ করার। সে লক্ষেই ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করে ফ্রি ভিসায় মালয়েশিয়ায় যান আহেদ। কিন্তু ২৮ নভেম্বর কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় আহেদসহ তিন বাংলাদেশি শ্রমিকের।

মৃত্যুর খবর জানার পর থেকেই আহেদের পরিবারে আহাজি চলঝে। তার স্ত্রী ভবিষ্যত অন্ধকার দেখছেন।।দুই শিশু সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তায় তার কান্না থামছেই না। কীভাবে শোধ হবে ঋণের টাকা, কিভাবেই বা চলবে সংসার!
হালিমা খাতুন রত্না বলেন, ‘মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায় তার সাথে শেষ কথা হয়। সবার খোঁজ খবর নিলো। তখন আমি বলেছিলাম, কাজে ব্যস্ত আছি। পরে আবার কথা কবোনে। সে বললো, আমিও তো ব্যস্ত থাকপোনে। কথা হবিনি কি না। সত্যি আর কথা হলো আর। স্বামীর লাশটা শেষবারের মতো দেখপের চাই।’
আহেদ আলীর দুই ছেলে রাসেল (১২) ফৈলজানা দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণি এবং ছোট ছেলে রাহিম হোসাইন (৮) সাঁইপাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র।
রত্না বলেন, ‘এখনও দুই লাখ টাকা ঋণ রইছে। সেই টাকা এখন কিভাবে পরিশোধ করবো, আর ছাওয়াল দুইডেক মানুষ করবো কিভাবে। আমার তো সব শ্যাষ হয়া গেলো। এখন আমরা কি করবো, দুই ছাওয়ালেক লিয়ে কোনে যাযা দাঁড়াবো।

আহেদের ভগ্নিপতি নাজিম উদ্দিন জানান, যেদিন আহেদ ভাই মারা যান সেদিনই আমার সাথে কথা বলতে বলতে ফোনটা অন্য প্রান্ত থেকে নিস্তব্ধ হয়ে যায়। শুধু একটা শব্দে ফোন কল বিছিন্ন হয়ে যায়। ফোন কল বিছিন্ন হওয়ার আগে বাড়ি-ঘর মেরামত সহ বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সাথে।’

আহেদ আলীর সত্তরোর্ধ মা আবেদা খাতুন (৭০) ভালো করে হাঁটতে পারেন না। ছেলের শোকে কথা বলার ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেছেন। কাঁদতে কাঁদতে তার দু’চোখ শুকিয়ে গেছে। শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছেন আর ছেলেকে ডাকছেন। ছেলের মৃদেহ শেষবারের মতো দেখার আকুতি তার।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেদুয়ানুল হালিম বলেন, এ বিষয়ে তাদের কিছু করণীয় নেই। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ