দুদক’র মামলায় শিক্ষা কর্মকর্তা গ্রেফতার || বৃত্তি জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট: আগস্ট ২২, ২০১৭, ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর বৃত্তি নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে বরখাস্তকৃত রাজশাহী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল চারটার দিকে জেলা পুলিশ লাইনের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সকালে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে থানায় একটি মামলা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারি পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ বাদি হয়ে নগরীর রাজপাড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। এরপর দুদকের এই কর্মকর্তাই আবুল কাশেমকে গ্রেফতার করেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের বিভাগীয় তদন্তে বৃত্তি জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় আবুল কাশেম এখন সাময়িকভাবে বরখাস্ত অবস্থায় আছেন।
দুদকের উপ-সহকারি পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ বলেন, ২০১৫ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৪০ জন শিক্ষার্থীর নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে তাদের বৃত্তি পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে বিষয়টি নিয়ে তিনি তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে তার কাছে অভিযোগটি সত্য মনে হয়েছে।
এ জন্য গতকাল সকালে তিনি নগরীর রাজপাড়া থানায় আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেছেন। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর আবুল কাশেমকে রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেমের বাড়ি নগরীর ভদ্রা এলাকায় বলেও জানান তরুণ কান্তি ঘোষ।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকের বৃত্তিতে ফল জালিয়াতির অভিযোগটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরও তদন্ত করেছে। সেখানেও এই জালিয়াতি ধরা পড়েছে। পরে ওই ৪০ শিক্ষার্থীর বৃত্তি বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে এ জালিয়াতির ঘটনায় আবুল কাশেমসহ তিন কর্মকর্তা-কর্মচারির বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়েছে। এরপর আবুল কাশেমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার বৃত্তির ফল জালিয়াতির ঘটনায় ‘সুশিক্ষা আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে অভিভাবকরা আন্দোলন করেন। পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সাইফুল ইসলাম অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন।
ওই তদন্ত প্রতিবেদনের পর প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাসেমসহ তৎকালীন বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা কর্মকর্তা রাখি চক্রবর্তী ও অফিস সহকারী সোনিয়া রওশনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না মর্মে শোকজ করে তার জবাব চাওয়া হয়। তদন্তের পর গত ৩০ নভেম্বর ডিপিইও আবুল কাশেমকে প্রত্যাহার করা হলেও কয়েক দিনের মাথায় আবারও তা স্থগিত হয়ে যায়।
এছাড়াও চলতি বছর জানুযারি মাসে নগরীর চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় ১০ তলা বাড়ির নির্মাণকাজের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেখানে ‘মহানন্দা’ প্রকল্পে নিজের নামে প্লট বরাদ্দ নেন আবুল কাশেম। এ নিয়ে অভিযোগের পর গত বছরের ১০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত শুনানিকালে তিনি দাবি করেন, প্লটটি তার পিতার নামে। কিন্তু পরবর্তীতে ফের শুনানিতে নিজের নামে প্লট নেয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন তিনি। এছাড়া ওই প্লটে তিনি ১০ তলা বাড়ি নির্মাণকাজ শুরু করলেও তার সমর্থনে সরকারের অনুমতি নেন নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ