দুদুকের কর্মউদ্যোগ ও হুশিয়ারি || শক্তি ও সাহসের অভিযাত্রা শুরু হোক

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা ঘুষের টাকা নেয়ার সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উপ-কর কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জমাদ্দারকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে রাজধানীর একটি বাড়ি থেকে ওই কর্মকর্তা গ্রেফতার করা হয়। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ সহ দেশের সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনরে তথ্য অনুযায়ী ধৃত কর কর্মকর্তা জনৈক মোস্তফা মো. আলীর নামে অধিক কর আরোপ করেন। পরে সেই কর কমানোর শর্তে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এরপর এই ঘুষের টাকার মধ্যে ২০ হাজার টাকা গ্রহণের সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ওই কর কর্মকর্তার কাছ থেকে আরও এক লাখ ২ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। দুদক কর্মকর্তারা ফাঁদ পেতেই ওই কর কর্মকর্তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন। নিঃসন্দেহে এই ধরনের অভিযানের ব্যাপক গুরুত্ব আছে। ঘুষের টাকা যতই অল্প হোক না কেনÑ সেটা ঘুষই এবং সমাজে ঘুষ নির্বিঘেœ চলতে থাকলে বড় ঘুষকেই উৎসাহিত করে, ঘুষের অপসংস্কৃতি প্রাধান্য পায়। দুদুক সত্যিকার অর্থেই যদি দন্ত-দংশনে দুর্নীতিবাজদের জর্জরিত করতে অভ্যস্ত হতে পারে, সে ক্ষেত্রে দুর্নীতিবাজরা প্রমাদ গুণবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দুদুক সেটি করতে পারে না বলেই দুদক সম্পর্কে দেশের মানুষের মোটেও ভাল ধারণা নেই। অনেকেই দুদককে ‘নক-দন্তহীন কাগুজে বাঘ’ নামেই অবহিত করে থাকে।
বর্তমান দুদুককে একটু ভিন্নতরই মনে হচ্ছে। তারা গর্জন করছে’ এমনকি কখনো কখনো থাবাও বসাচ্ছেÑ যদিও এখনো ‘রাঘব বোয়াল’ দের স্পর্শ করা যায় নি। এখনো যায় নি বলে যে আগামীতে যাবে না- ব্যাপারটি তেমন নয়। দুদুকের  ক্ষমতার পরিধি যতটুকু আছে মেটাই যদি যথার্থভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয় তা হলে দুর্নীতির ঘাড় মটকে দেয়া অসম্ভব হবে না। দুর্নীতি কমিশনের যে বা যাঁরাই থাকবেন তারা স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারলে দুর্নীতি এতো লাগামহীন হতে পারবে না বলেই সাধারণ মানুষের ধারণা। আর দুদুকসহ সাংবিধানিক যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে তা দেশের মানুষের শক্তির আধার। এই প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হলে জনগণের শক্তি ও ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বাংলাদেশে তেমনটি হতে পারছে না। এসব প্রতিষ্ঠানের অক্ষমতা ও দুর্বলতার কারণে জনগণের কণ্ঠ সোচ্চারিত হতে পারছে না। এই পরিস্থিতি দানবেরই জয়জয়কারের আশংকা তৈরি করে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের ঘুষ, অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করতে তিন  মাস সময় বেধে দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম প্রাইমারি টিচারস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) অডিটোরিয়ামে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রাথমিক শিক্ষায় সুশাসন নিশ্চিতকরণে চট্টগ্রাম বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় স্পষ্টতই বলেছেন যে, ‘প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলী, নারী শিক্ষকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি, অর্জিত ছুটি নিতে এবং অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের পেনশনের কাগজপত্র তৈরি করতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে হয় বলে আমার অফিসে অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে। আমি আগামী তিন মাস সময় দিলাম। এ সময়ের মধ্যে সব শুধরে নিতে হবে।’
বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল (২০১২), দুর্নীতিবিরোধী জাতিসংঘ সনদ বাস্তবায়নে কর্ম পরিকল্পনা (২০০৯), তথ্য অধিকার আইন (২০০৯), জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা) আইন (২০১১), ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (২০১২) এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির আওতাধীন ই-সার্ভিস, ই-টেন্ডার ও ই-তথ্য কেন্দ্র ইত্যাদি বহুবিধ পদক্ষেপ সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের সুনির্দিষ্ট প্রতিফলন, যা দুর্নীতি প্রতিরোধে রাষ্ট্র কাঠামো সুদৃঢ়তর করার ক্ষেত্রে বাস্তব সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। একইসাথে সরকার জাতিসংঘের উদ্যোগে গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ যার অন্যতম পূর্বশর্ত সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ।
‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং একটি স্বাধীন, কার্যকর ও নিরপেক্ষ কর্মউদ্যোগই পারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে কাক্সিক্ষত লক্ষে পৌছে দিতে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ