দুর্গাপুরে কালবৈশাখীতে বোরো ধান ও আমের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট: মে ৬, ২০১৭, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

দুর্গাপুর প্রতিনিধি


বৈশাখের মাঝা মাঝি দুর্গাপুর উপজেলার  উপর দিয়ে বয়ে গেছে কালবৈশাখী ঝড়। ফলে বোরো ধান, আম এবং নিচু জমির ভুট্টা ও পাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হঠাৎ করে বৈশাখের এমন তা-বের কারণে বোরো ধান ও আম চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন। কারণ গত কয়েক বছর থেকে আম চাষিরা লোকসান গুণতে গুণতে দিন পার করছেন। এবার অনেকটাই আশা নিয়ে বসে ছিলেন। কিন্তু তা আর হলো না। বৈশাখের এমন তা-বে লাভের অংশটি নিয়ে চলে গেছে বলে মনে করছেন দুর্গাপুরের আম চাষিরা।
গত রোববার (৩০ এপ্রিল) রাতে আকস্মিক ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের তীব্রগতিবেগ সেই সঙ্গে তুমুল বর্ষণ চলছিল। একাধারে  প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে এ ঝড়।
ধানের যখন চাল হওয়ার সময় ঠিক এমন সময় কালবৈশাখীর তা-ব দিয়ে মাটির সঙ্গে নুইয়ে গেল ধান  খেত। এ ধানগুলো থেকে আর ফলন আসবে না বলে জানান কৃষকরা। বিশেষ করে আগাম ধানখেতের বেশিরভাগ ধানগাছ মাটির সঙ্গে নুইয়ে পড়েছে। অতি বর্ষণ ও ঝড়ের কবলে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অপরদিকে নিচু এলাকার পাটখেত পানির নীচে তলিয়ে গেছে। নিচু মাঠ এলাকা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ হয় নি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, সপ্তাখানেক পর থেকেই বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আকস্মিক এই বৃষ্টিতে খেতের ধানগাছ নুইয়ে পড়েছে। নীচু এলাকার ধান খেতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে ধান পাকতে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগবে। অন্যদিকে জলাবদ্ধা স্থায়ী হলে ধান গাছ পচে যাবে। এতে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বোরো ধান চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার দেবীপুর, দেলয়াবাড়ি, কানপাড়া, পাচুবাড়ি, ধরমপুর, মাড়িয়া, কাঁঠালবাড়িয়া এলাকায় ২০টির উপরে কাঁচা বাড়ি ও দোকানের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে।
উপজেলার কৃষি কর্মকতা ড. বিমল কুমার প্রামাণিক জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিসাররা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণে কাজ করছেন। কালবৈশাখীর এ ঝড়ে এ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে আম ও ধানের ক্ষতির পরিমান বেশি হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে বোরো ধান, ১৮ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা, ১৫হাজার ২০ হেক্টর জমিতে পাট এবং ৭ হাজার ৫০ হেক্টর আম আবাদ হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ