দুর্গাপুরে খালসহ খাস জমি দখল কাউন্সিলরের বাঁধ || কৃষকের শতবিঘা পাকা ধান পানিতে ডুবে নষ্ট

আপডেট: June 24, 2020, 10:04 pm

দুর্গাপুর প্রতিনিধি:


দুর্গাপুরে উপজেলা প্রসাশনের আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক সরকারি খাল দখল করে বাঁধ দিয়েছে পৌর কাউন্সিলর সামশুল ইসলাম। এতে ওই খালের দুই পাশের প্রায় শতবিঘা জসির পাকা ধান পানির নিচে ডুবে পচে গেছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।
সরজমিনে তদন্ত করে খালের দুই পাশের ধান পচে নষ্ট হওয়ার সত্যতা পেয়েছেন উপজেলা প্রসাশন। কিন্তু স্থানীয় প্রসাশনকে কোন তোয়াক্কা না করে খাল ও খাস জমিতে বাঁধ দিয়ে রেখেছেন কাউন্সিলর সামশুল ইসলাম।
এ ঘটনায় চলতি মাসে ১ তারিখে উপজেলা প্রসাশন বরাবর পৌর কাউন্সিলর সামশুল ইসলামের বিরুদ্ধে খাস জমি ও নদী দখল করে বাঁধ দেয়ার অভিযোগ করেন কৃষক ইসব আলী ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উজালখলসী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অধিনে ৭৬ নম্বর দেবীপুর মৌজার আরএস ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সম্পতির দাগ নম্বর ২৫০৮ ও জমির রকম পুকুর দেওয়া আছে। সেখানে আরো সরকারি খাস খাল রয়েছে যার দাগ নম্বর ২৫০৩ ও ২৫৪৩ দাগের রকম ডোবা হিসেবে রয়েছে। এসব জমি ওই কাউন্সিলর জোর করে দখল নেয় এবং বাঁধ দেয়। এতে ওই খালে দবিা পাশের কৃষকের জমির ধান পানির নিচে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহসীন মৃধা সরজমিনে তদন্ত করে দুইদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন।

উজালখলসি ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা আবদুল ওহেদ সরজমিন তদন্ত করে এবং অভিযোগের সত্যতা পেয়ে রিপোর্ট দাখিল করেন।
ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা বলেন, সরজমিনের তদন্ত করতে গেলে এলাকার শত শত কৃষক খালের পাশে এসে প্রতিবাদ করেন।
অভিযোগকারি ইসব আলী বলেন, সরকারি ওই খাল গত বছরও পানির প্রবাহমান ছিল। ওই খালের পানি দিয়ে দুই ধারের কৃষকরা সেচের কাজে ব্যবহার করতেন। কেউ কোনদিন এসবে এসে বাঁধ দেয়নি। কিন্তু হঠাৎ করে কাউন্সিলর সামশুল এসে সরকারি ওই খাল ও জমি আমার বলে দাবি করে সেখানে বাঁধ দেয়। এতে প্রায় কয়ে শতবিঘার ধান পানির নিচে পচে গেছে।
তিনি আরো জানান, উপজেলা নিবার্হী কর্মকতা বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হলে ওই অভিযোগ তদন্ত করে উপজেলা প্রসাশন তাকে ৭ দিন সময়ও বেধে দেয় বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার জন্য । তারপরে ও কাউন্সিলর উপজেলা প্রসাশনের তোয়াক্কা না করে বাঁধ সরিয়ে নেয়নি।
কাউন্সিলর সামশুল উপজেলা প্রসাশনের সাতদিনের মধ্যে বাঁধ অপশারনের নোটিশ পেয়েছি বলে জানান, আমি প্রসাশনের কাছে ১৪ মাসের সময় চেয়েছি। আমাকে সময় দিয়েছে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহসীন মৃধা জানান, সাধারণ কৃষকদের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত রির্পোট পাওয়ার পরে বাঁধ সরানোর জন্য তাকে সাতদিনের একটি নোটিশ দেয়া হয়েছে। তার পরে বাঁধ না সরিয়ে পুনরায় সময় চেয়েছে। তবে দ্রুত বাঁধ সরিয়ে না নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।