দুর্গাপুরে খাস পুকুরের দখল নিয়ে সংঘর্ষ ।। শিশুসহ আহত ৪

আপডেট: ডিসেম্বর ৯, ২০১৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ

প্রতিনিধি দুর্গাপুর


দুর্গাপুর উপজেলার কুহাড় গ্রামে সরকারি খাস পুকুর দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণসহ সংঘর্ষে শিশুসহ আওয়ামী লীগের তিন সমর্থক আহত হয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের পর থেকে ওই এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার করা হলেও থানায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে এর আগের একটি সংঘর্ষের ঘটনায় আদালতে অনেক আগে থেকেই উভয় পক্ষের লোকজন পাল্টাপাল্টি মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহতরা হলেন, কুহাড় গ্রামের আওয়ামী লীগের কর্মী আবদুুস সালামের ছেলে মাহাবুর রহমান (৭), আওয়ামী লীগ নেতা আজিম উদ্দিন (৪৮), আবদুল খালেক (৪২) ও রবিউল ইসলাম সাদ্দাম (২৪)।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, কুহাড় মৌজার ৯৬৫ নম্বর দাগের একটি সরকারি খাস পুকুর এ বছরের ১২ জুন উপজেলা ভূমি অফিস থেকে কুহাড় উত্তর পাড়া জামে মসজিদের নামে মসজিদ কমিটির সভাপতি সাবের আলী লিজ নেন। এরপর থেকেই স্থানীয় বিএনপি নেতা আলী, ডাবলু, সালাউদ্দিন, মোজাফ্ফর, মুস্তাকিন ও আইয়ুবসহ কয়েকজন মসজিদ কমিটির সভাপতির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। পরে এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে উভয় পক্ষই আদালতে মামলা দায়ের করে। এরপর আদালত প্রথমে স্থিতিবস্থা জারি করলেও পরে মসজিদ কমিটির পক্ষে রায় দেন। এরপর আবারো মসজিদ কমিটির লোকজন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বাবর আলীসহ আহত ব্যক্তিরা ওই পুকুরে জাল ফেলতে গেলে তাদের বাধা দেয় বিএনপি নেতা ও মাদক বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত আলী। গত বুধবার কুহাড় গ্রামের সালামের ছেলে মাহাবুর বড়শি দিয়ে ওই পুকুরে মাছ ধরতে গেলে আলীর লোকজন ওই শিশুটিকে বেদম মারপিট করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ালে ওই দিন সন্ধ্যার দিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় আওয়ামী সমর্থক লোকজন ওই শিশুটিকে মারার কারণ জানতে চাইলে তাদেরকেও মারপিট করা হয়। পরে এ নিয়ে সংঘর্ষ বেধে যায় উভয় পক্ষের মধ্যে। সংঘর্ষে আওয়ামী সমর্থক লোকজনের উপর ককটেল নিক্ষেপ করে বিএনপি সমর্থক লোকজন। খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আলম জানান, সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই থানায় মামলা দায়ের করেন নি।