দুর্গাপুরে ফেরিওয়ালাকে হত্যা, গ্রেফতার এক

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০১৭, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

দুর্গাপুর প্রতিনিধি


রাজশাহী দুর্গাপুরে প্রতিপক্ষের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে সিদ্দিক কাজী (৩৬) নামে এক ফেরিওয়ালা নিহত হয়েছে। তিনি উপজেলার গোপালপাড়া গ্রামের মৃত সমির উদ্দিন কাজীর ছেলে। গতকাল শুক্রবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নিহতর ছোট ভাই বাবু কাজী বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। রাতেই থানা পুলিশ জয়উদ্দিন নামের এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত রোববার ফেরিওয়ালা সিদ্দিক কাজী ফেরির জিনিসগুলো বাড়িতে রেখে তার বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য ঝিনায়ের মোড়ে যায়। সেখানে পৌছানোর আগে বড়ইল গ্রামের লালন মুন্সির ছেলে রোফের (২৮) সঙ্গে দেখা হলে তার পাওনা ১৫০ টাকা চাই। এতে রোফ ও তার সঙ্গে থাকা একই এলাকার দুলাল হোসেনের ছেলে কোরবান ও আক্কাসের ছেলে জাহাঙ্গীর তাকে মারপিট শুরু করে। পরে রোফ ফোন করে তার আরো কিছু লোকজনকে ডেকে নিয়ে নিহতকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। নিহত সিদ্দিক কাজী তাদের মারপিটের আঘাতে মাটিতে পড়ে গেলে তারা সেখান থেকে চলে যায়। এসময় নিহতর চিৎকার শুনে আলতাফ হোসেন নামের এক ব্যক্তির সহায়তায় স্থানীয় লোকজন নিহতকে উদ্ধার করে প্রথমে পুঠিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলেন পুঠিয়া হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রামেক হাসপাতালে স্থানাস্তর করেন। কিন্তু স্থানীয়রা তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি না করে বাড়িতে ফেরত নিয়ে আসে। গত সোমবার এ ঘটনার খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানা পুলিশ গিয়ে আহত অবস্থায় সিদ্দিক কাজীকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতর ছোট ভাই বাবু কাজী বলেন, ‘তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার ভাইয়ের শরীরে ৭৩টি ধারলো অস্তের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এমনকি মাথায় বেশ কয়েকটি আঘাত করা হয়েছে। সে কারণে তার ভাই মারা গেছে।’
তিনি আরো বলেন, আমার ভাইয়ের হত্যার সঠিক বিচার চাই। গ্রামে গ্রামে ঘুরে অষ্টধাতুর আংটি বিক্রি করে জীবন ধারণ করতো সে। পাওনা টাকা চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ভাইকে নিমর্মভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং নিহত সিদ্দিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসাধিন অবস্থায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পরে তার ছোট ভাই বাবু কাজী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছে। সেই রাতেই আমরা একটি এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছি। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।