দুর্গাপুরে বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষে সফল কৃষক সাইফুল

আপডেট: জুন ৯, ২০২১, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

এসএমশাহাজামাল, দুর্গাপুর:


রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলা বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবেই পরিচিত। তবে বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে এ উপজেলার চাষিরা আম ও পিয়ারা চাষের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিককালে আমের পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে মাল্টা, পেয়ারা ও ড্রাগনের চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। সেই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে সাইফুল ইসলাম নামের এক কৃষক কমলার চাষ শুরু করেন। বরেন্দ্র রুক্ষ লাল মাটিতে কমলার চাষ কয়েক বছর আগেও কৃষকদের কাছে ছিল স্বপ্নের মতো। কিন্তু কমলা চাষে সাইফুল ইসলামের চোখ ধাঁধানো সাফল্য সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ অনুকূলে থাকায় এই এলাকায় কমলা চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সাইফুল ইসলামের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে অসংখ্য হলুদ সবুজ রং এর কমলা ফল। তার বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে কমলা। এটি নিঃসন্দেহে যে কারো দৃষ্টি কাড়বে। পিয়ারার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে ২ বছর আগে দুর্গাপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড দেবীপুর এলাকায় তার ৭ বিঘার ৪ প্রজাতির কমলা নিয়ে কাজ শুরু করেন এই ফলচাষি। কিন্তু সফলতা পান যুক্তরাষ্ট্রের মেন্ডারিন, চায়না, দার্জিলিং ও অস্ট্রেলিয়া এই চার জাতের কমলায়। বর্তমানে তার বাগানে গাছের সংখ্যা ৫০০টি। এবার প্রতিটি গাছেই ফল ধরেছে। গাছ রোপণের দ্বিতীয় বছরে ফল পেয়ে সাফল্য মনে করছেন। তবে আগামীতে শতভাগ গাছে আশানুরুপ ফল পাবেন। তবে এখনি প্রতিটি কমলার গাছে কাক্সিক্ষত ফলের দেখা মিলেছে। যার কারণে চাষি সাইফুল কমলার বাগান নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছেন।
সফল কমলা চাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার প্রতিটি গাছে গড়ে ফলন পেয়েছেন ৫ থেকে ১০ কেজি। তবে বাগানের এসব কমলা দোকানিরা পাইকারি বিক্রি হবে প্রতিকেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। এ বছর তার বাগানের কমলা বাজারে বিক্রি হবে। এতে আমি খুশি। এমন আমি আশা করছি এ বছর কমলার বাগান থেকে মোটা অংকের টাকা আসবে। ইতোমধ্যে তিনি কমলার চারা বিক্রি প্রক্রিয়া করে চলেছেন। তিনি আরো বলেন, আমি যে চারা তৈরি করবো তা বরেন্দ্র অঞ্চলসহ সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠবে পিয়াররমতই বাণিজ্যিক কমলার বাগান।
সাইফুল ইসলাম আরো বলেন, আমার মতো নতুন উদ্যোক্তারাও বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষে পিয়ারার মতো লাভবান হবেন।
এদিকে, তার সফলতা দেখে উপজেলায় এখন অনেকে শুরু করেছেন বাণিজ্যিক কমলার চাষ। আর এ ফল চাষে সরকারি সহায়তা চান উপজেলার ফল বাগানিরা।
সফল ফলচাষি আব্দুল লতিব মির্জা বলেন, আমি ৪ বিঘার ফলের প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছি। যেখানে পেয়ারা, মাল্টা, ড্রাগন, বারি-১ আমসহ বিভিন্ন জাতের ফলের চাষ করছি। পাশাপাশি দেশি বিলুপ্ত প্রায় ফল চাষ করছি। এবার আমার ফলের প্রজেক্টে নতুন সংযোজন কমলা চাষ। আশা করছি সমানের বছর আমিও ফল পাব এবং সফল হব।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কমলা চাষে পোকামাকড় বড় ধরনের কোনো সমস্যা নয়। সেক্ষেত্রে এবামেকটিন গ্রুপের ইনসেক্টি সাইড সিডিউল স্প্রে করলে এটা দমন করা সম্ভব এবং ফ্রুট ফ্লাইয়ের ক্ষেত্রে ফ্রুট ব্যাগিং, পাশাপাশি অন্যান্য যেসব প্রযুক্তি আছে বায়োলজিক্যাল সেগুলো ব্যবহার করলে এবং সুন্দরভাবে ব্যবস্থাপনা করলে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, এখানকার কৃষকরা পিয়ারা ও আম চাষের উপর ব্যাপক ঝুঁকছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে অনেক নতুন ফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন। এরমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষও শুরু করেছেন। আগামী দিনে এই উপজেলায় পিঁয়ারা ও আমের মতো কমলাতেও আমরা সফল হব। আশা করছি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পিয়ারার মতো কমলা চাষ সম্প্রসারণেও সফল হব। বর্তমানে এ উপজেলার সফল চাষিরা জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে জমি টেন্ডার বা বাৎসরিক চুক্তিতে নিয়ে বিভিন্ন ফলজ বাগান তৈরি করছেন। এতে অনেক লাভবানও হচ্ছেন তারা।