দুর্গাপুরে ১৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য || ভেঙে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম

আপডেট: জুলাই ১৬, ২০১৭, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

এসএম শাহাজামাল, দুর্গাপুর


রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে শিক্ষক সঙ্কট। উপজেলা এলাকায় মোট ৮৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৮ জন প্রধান শিক্ষক ও ২০ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষক দিয়েই চলছে পাঠদান। এর ফলে পুরো উপজেলায় ভেঙে পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলা পুরানো ৪৫টি ও নতুন ৩৪টিসহ মোট ৮৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ২০টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক শূন্য থাকা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে-  হোজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিশমতবগুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পলাশবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আড়ইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাতুগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নান্দিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চৌপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলায় ১৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও ২০টি সহকারি শিক্ষকের পদশূন্য রয়েছে।
একাধিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষক দিয়ে কোন মতে চালিয়ে নেয়া হচ্ছে পাঠদান কর্মসূচি। ফলে অফিসিয়াল কাজ ও বিদ্যালয়ের পাঠদান করাতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা হিমশিম খাচ্ছেন। আবার  শ্যামপুর, চৌপুকুরিয়া, পলাশবাড়ি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। তিনজন শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে এসব বিদ্যালয়ের পাঁচটি ক্লাসের কার্যক্রম। তিনজন শিক্ষক ক্লাসে গেলে অন্যান্য সব ক্লাস বন্ধ রাখা হয়। ফলে বিদ্যালয়গুলির শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়ছে। অন্যদিকে দুইটি ক্লাসে শিক্ষক না থাকার কারণে ছেলেমেয়েদের চিৎকারে বাকী ক্লাসে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ফলে এ বিদ্যালয়গুলির শিক্ষার্থী সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাত্র তিন জন শিক্ষক দিয়ে কীভাবে বিদ্যালয়ের পাঁচটি ক্লাস চালানো যায়- এটাই এখন এলাকার সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের  প্রশ্ন।
অভিভাকরা জানান, অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ ও শ্রেণিতে শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় শিক্ষরা চাইলেও ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছেন না। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে সাধারণত গ্রামের হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে। ক্লাসে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকায় এবং প্রয়োজণীয় শিক্ষক না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী কিছুই শিখতে পারছে না। তাই তারা অবিলম্বে বিদ্যালয়গুলোর শূন্যপদ পূরণ করে পাঠ কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনার দাবি করেছেন।
উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি বেলঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ আলী বলেন, ১৮টি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন থেকে প্রধান শিক্ষক না থাকায় ঝিমিয়ে পড়েছে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়গুলো প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় প্রত্যেক বছর কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বিদ্যালয়গুলোতে সহাকারী শিক্ষকেরা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বের কারণে সহকারী শিক্ষকও তার পাঠদান ঠিকমতো করতে পারেন না। আর সহকারী শিক্ষক পদে ২০ জনের পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে জেলা শিক্ষা অফিসে শূন্য পদের জন্য আবেদন করলেও পূরণ হচ্ছে না শূন্য পদগুলো।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোফরান হালিম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে উপজেলার ১৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আমরা ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে শিক্ষকের পদশূন্যের বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু কোন লাভ হচ্ছে না। প্রাথমিক ও সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় অন্যান্য শিক্ষকদের উপর কাজের চাপ বেড়ে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমএ কাশেম বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৩ সালে সরকারিকরণ করা হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয় নি। ফলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের শূণ্য পদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির। সেহেতু পদোন্নতির বিষয়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মতামত নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পদোন্নতি যোগ্য সহকারী শিক্ষকদের সকল তথ্য তালিকাটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ খুব শীঘ্রই পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের শূণ্য পদে শিক্ষকদের প্রদায়ন দিবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ