দুর্গাপুরে ৮৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পেল স্থায়ী শহিদ মিনার

আপডেট: জুন ১৬, ২০২১, ১০:৫১ অপরাহ্ণ

এস এম শাহাজামাল, দুর্গাপুর:


রাজশাহী দুর্গাপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্থায়ী শহিদ মিনার ছিল না। ফলে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং স্থানীয়রা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারত না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসগুলোতে দু’একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থায়ীভাবে শহিদ মিনার তৈরি করে দিবস পালন করা হতো। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন করে দিবস পালন করা হতো। এমনকি বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেই জাতীয় কোনো দিবস পালন হতো না। কিন্তুু বর্তমানে উপজেলার ৮৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় অর্থায়নে নির্মাণ করা হয় শহিদ মিনার। ফলে উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ীভাবে স্থান পেয়েছে স্মৃতির শহিদ মিনার।
তবে এবারের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস থেকে তাদের আর অস্থায়ী শহিদ মিনার তৈরি করতে হবে না। এবার স্থায়ীভাবে নির্মিত শহিদ মিনারে শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাবে শিক্ষার্থীরা। তাদের এই সুযোগ করে দিয়েছে দুর্গাপুর শিক্ষা অফিস। আন্তরিকতা ও ইচ্ছা থাকলে যে ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায় তা প্রমাণ করলো দুর্গাপুর শিক্ষা অফিস। উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে শহিদ মিনার স্থাপন করে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোখলেছুর রহমান। তিনি এই করোনাকালে উপজেলার ৮৩টি বিদ্যালয়ে নির্মাণ করেছেন শহিদ মিনার।
জানা গেছে, ২০২১ সালের শেষের দিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদেন মোকলেছুর রহমান। তারপর পরিকল্পনা করেন সব স্কুলে শহিদ মিনার তৈরির। সরকারি কোনো বরাদ্দ নয়, স্কুল ফান্ডের নিজস্ব তহবিল থেকে তৈরি করা হলো নান্দনিক এসব শহিদ মিনার।
উপজেলার যুগিশো তোতার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাইসুল, তানিশা ও জোহুরা জানান, তাদের বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার ছিল না। বিভিন্ন দিবসে তাঁরা অস্থায়ী শহিদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধা নিবেদন করতো। এবার স্কুলে নতুন শহিদ মিনার নির্মিত হয়েছে। এতে একসাথে বিভিন্ন দিবসে সকল শিক্ষার্থীরা শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন।
দুর্গাপুর পৌর এলাকার সিংগা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাক্তিবুল ইসলাম ও দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশনআরা জানান, স্কুলে স্কুলে শহিদ মিনার নির্মাণ হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা খুশি। এবার শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ বিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শহিদদের প্রতি প্রথম শ্রদ্ধা জানাতে পারবে। স্কুলে স্কুলে এমন শহিদ মিনানের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান তাঁরা।
দুর্গাপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান জানান, তিনি পবা উপজেলায় থাকা অবস্থায় সব বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার স্থাপন করেছেন। গত বছরের শেষের দিকে দুর্গাপুর উপজেলায় যোগদানের পর এ উপজেলায় সব স্কুলে নিজস্ব অর্থায়নে শহিদ মিনারের পরিকল্পনা করা হয়। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন জাতীয় দিবসে বীর শহিদদের প্রতি কোমলমতি শিশুরা যাতে শ্রদ্ধা জানাতে পারে এবং দিবসগুলোর তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারে, সেজন্য শহিদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন হয়েছে।