দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে নিরাপদ হোক রাজশাহীর সড়ক-মহাসড়ক

আপডেট: মে ১৯, ২০২২, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। প্রতিদিনিই এ অঞ্চলে ছোট বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। ঝরছে তাজা প্রাণ। আর সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে বাইক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঘটছে। যা নিয়ে সচেতন নাগরিকরা উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করছেন।
গত সোমবার (১৬ মে) আগে পবা উপজেলার নওহাটায় দুই মোটার সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর মাটিবাহী ট্রাক্টর চাপায় একই পরিবারের তিনজনসহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের আমান কোল্ড স্টোরের সামনের এই দুর্ঘটনা ঘটেছিলো। যেখানে কয়েকটি বিষয় স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়। দিনের বেলা নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী অবৈধ এসব গাড়িগুলো নগর সড়কেও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
বুধবার (১৮ মে) নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে মাইক্রোবাসের চালক ও এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩ জন।
ইদের ছুটিতে রাজশাহীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাইক দুর্ঘটনা ঘটে। ইদ পরবর্তীতে মাত্র ৫ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ছয় জন। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আরও ৩১৬ জন। যাদের অধিকাংশই বাইক দুর্ঘটনার শিকার তরুণ ও কিশোর। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওই পাঁচ দিনের তথ্য অনুযায়ী, ১ মে থেকে ৪ মে পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১৯ জন। এর মধ্যে ১ মে ৩৪, ২ মে ৪৮, ৩ মে ৭২, ৪ মে ৬৫ জনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিলো। এছাড়া ৫ মে ৪২ এবং ৬ মে ৫৫ জন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলো।
সোনার দেশের প্রতিবেদকের ইদ পরবর্তী ১০ দিনের নগর সড়ক পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছিলো, কিশোর ও তরুণ বাইকাররা অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালাচ্ছে। দলবেঁধে বাইক নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। এই রিপোর্ট প্রকাশের পরপরই কয়েকদিন নগরীতে পুলিশের তৎপরতা ছিলো চোখে পরার মতো। কিন্তু তা খুব বেশি দিন স্থায়ী হয় নি। সড়ক নিরাপদ রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ও তার বাস্তবায়ন জরুরি।
সড়ক নিরাপদ রাখতে সরকারের আইন আছে। কিন্তু শুধু আইন দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কেউ কেউ আইন ভাঙতে পারলে খুশি হয়। কিশোররা সড়কে বাইক চালানোর নিয়মকানুন জানে না। তরুণরা জানলেও মানতে চায় না। এ কারণে দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে। কিছু উচ্ছৃঙ্খল কিশোর আছে, যারা গ্যাং তৈরি করেছে। তারা কাউকে মানে না। মন যা চায় তাই করে বেড়ায় তারা।
শুধু কিশোর নয়, উচ্চশিক্ষিত দাবি করা অনেকেই বেপরোয়াভাবে বাইক চালাচ্ছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করে না। কোনও ধরনের আইন মানছে না। পারিবারিক সুশিক্ষার পাশাপাশি রাষ্ট্রকেও আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। জনসচেতনতার জন্য প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। যে কোন দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। তবে সচেতনতার পাশাপাশি আইনের কার্যকর প্রয়োগও জরুরি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ