বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

দুর্নীতিবাজদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী হুশিয়ারি দুর্নীতি প্রতিরোধে গণজাগরণটা জরুরি

আপডেট: July 15, 2019, 12:15 am

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতির বিষয়ে হুঁশিয়ার দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ীেিক্ষপের সাথে বলেছেন, ‘আমরা সারাদিন খেটে এত কাজ করে এখন যদি এই দুর্নীতির কারণে এটা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সেটা দুঃখজনক।’শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্যে শেখ হাসিনা একথা বলেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনের তথ্যমতে সচিবদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উন্নয়নটা যেন দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টা সকলকে ভালোভাবে দেখতে হবে। আপনাদেরই নির্দেশনা দিতে হবে একেবারে নি¤œস্তর পর্যন্ত যারা কাজ করে তাদের। দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমি বলব, খালি ঘুষ নিলেই সে অপরাধী তা না। যে দেবে সেও অপরাধী, যে নেবে সেও অপরাধী।’
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষে জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবরা ২০১৯-২০ অর্থবছরের কর্মসম্পাদন চুক্তিতে সই করেন। পরে তারা প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই চুক্তিপত্র তুলে দেন। সরকারি কর্মচারীদের দক্ষতা এবং দায়বদ্ধতা বাড়ানোর লক্ষ্য অর্জনের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ ধরনের ‘পারফরমেন্স ম্যানেজমেন্ট’ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
প্রথমত বাংলাদেশে দুর্নীতির বিস্তারটা কোনো রাখঢাকের বিষয় নয়। দুর্নীতি হচ্ছে এবং সেটা ব্যাপকভাবে হচ্ছে। দেশে দুর্নীতির বাস্তবতা যেমন গভীর তেমনি দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে নিবিড় নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংকল্পে অগ্রসর হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বে প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের সমন্বয় ঘটিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সেখানে সন্দেহ নেই দুর্নীতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার গোড়া থেকেই কিন্তু বেয়াড়া দুর্নীতিকে কতটা নিয়ন্ত্রণ করা গেছে তা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। দুর্নীতির ভূতটা প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ক্রিয়াশীল তা এ দেশের মানুষের অভিজ্ঞতায় আছে। এই ভূত তাড়ানোর বিষয়টি মোটেও সহজ কাজ নয়। এর জন্য সর্বাগ্রে যেটা দরকার তা রাজনৈতিক সদিচ্ছা। এই সদিচ্ছা শুধু প্রধানমন্ত্রী বা দু একজন মন্ত্রী-এমপির মধ্যে থাকলেই হবে নাÑ ক্ষমতাসীনদের সর্বত্র এই অঙ্গীকার নিশ্চিত করা দরক্র। দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রম আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে গতিশীল কিন্তু খোদ দুদক-এর মধ্যেকার দুর্নীতির ব্যাপারেও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এর সত্যাসত্য যা-ই হোক না কেনÑ এতে দেশের মানুষ হতাশ হয়, বিভ্রান্ত হয়।
দুর্নীতি এমন একটি উপাদান যা সমাজের মেধাশক্তিকে ভয়ঙ্কররূপে ক্ষতিসাধন করে। যিনি দুর্নীতি করেন, প্রথমত তিনি তার নিজ মেধার প্রতি অবমাননা করেন, যা তার সৃজনীশক্তিকে ধ্বংস করে দেয়। স্বাভাবিকভাবেই দুর্নীতির কুপ্রভাব পড়ে দেশের উন্নয়নে এবং জনগণের উপর। শুধু কথা ও হুশিয়ারিতে দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে- এটা অবাস্তব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন একটি ব্যবস্থার উন্নয়ন দরকারÑ যেখানে নাগরিক সমাজও নির্বিঘেœ অংশ নিতে পারে। এর জন্য পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ভালো অথচ সচেতন- দেশপ্রেমিক মানুষ যারা দুর্বৃত্তায়নের কাছে কোণঠাসা হয়ে আছে তাদের দায়িত্ব ও ক্ষমতায়ন দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক সহায়ক হতে পারে। এই মানুষেরাই গনজাগরণ সৃষ্টি করতে পারেনÑ দুর্নীতিকে ‘না’ বলার ক্ষেত্রে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ