দুর্ভোগের শিকার আত্রাই আহসানগঞ্জ রেলওয়ে প্লাটফরমের যাত্রীরা

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০১৭, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

রাণীনগর প্রতিনিধি


আত্রাই আহসানগঞ্জ রেলওয়ে প্লাটফরম না থাকায় এভাবেই যাত্রীদের ট্রেনের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয় -সোনার দেশ

নওগাঁর আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ রেলওয়ে প্লাটফরমে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমান ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় যাত্রীদের দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। বিভিন্ন দোকানপাটে প্লাটফরম দখল হয়ে যাওয়ায় কোন দোকানের সামনে যাত্রীরা বসতে চাইলেই বেধে যায় বাকবিতণ্ডা। ফলে চরম দুর্ভোগ ও দুর্দশার মধ্যদিয়ে যাত্রীরা এ প্লাটফরম থেকে ট্রেনে যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ জেলার মধ্যে সব চেয়ে বড় রেলস্টেশন আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন। এখানে ঢাকাগামী একটি, রাজশাহী থেকে চিলাহাটির মধ্যে চলাচলকারী দুইটি ও খুলনা থেকে সৈয়দপুরের মধ্যে চলাচলকারী একটি আন্তঃনগর ট্রেনসহ বেশ কয়েকটি ট্রেনের স্টপেজ রয়েছে। এখান থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চরের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন ট্রেনযোগে শত শত যাত্রী চলাচল করে। এসব যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের রেলের রাজস্ব আয় হয়। এ স্টেশনে রেলের রাজস্ব আয় বাড়লেও বাড়ে নি যাত্রী সেবার মান। বরং নানাবিধ সমস্যার মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয় যাত্রীদের। প্লাটফরম জুড়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দোকানপাট। এসব দোকানপাটের অধিকাংশই অবৈধ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আর অবৈধ দোকানিদের দাপটে নাজেহাল বৈধ ট্রেন যাত্রীরা। অভিযোগ রয়েছে কিছু অসাধু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের যোগ সাজসেই তারা প্লাটফরমের উপর ব্যবসা করে যাচ্ছেন।
জয়সাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মালেকা বানু বলেন, আত্রাই প্লাটফরম যেন দোকানিদের জন্য তৈরি। এখানে যাত্রীদের বসার তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। গত কয়েকদিন আগে আমি ট্রেনে ভ্রমনের জন্য প্লাটফরমে গিয়ে একটি দোকানের সামনে বসতে গেলে ওই দোকানি নারী চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। মধুগুড়নই গ্রামের গৃহবধূ আছুরা খাতুন বলেন, একই সময় ওই নারী আমাকে টুল থেকে উঠিয়ে দিতে টানাহেচড়া শুরু করে দেন। মানসম্মানের ভয়ে আমরা সেখান থেকে অন্যত্র চলে যাই। এসব ব্যাপারে স্থানীয় রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারকে অবহিত করেও কোন প্রতিকার হয় নি।
এ ব্যাপারে আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ছাইফুল ইসলাম বলেন, মৌখিকভাবে আমি অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে ওই ব্যবসায়ী নারীকে সতর্ক করে দিয়েছি। অসাধু রেল কর্তৃপক্ষ নয় বরং স্থানীয় হওয়ার দাপটেই তারা প্লাটফরমের উপর দোকান বসিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। এর সঙ্গে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই।