দুস্থদের চাল ব্যক্তিগত গুদামে দোষিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ

দুস্থদের জন্য বরাদ্দ চাল ব্যক্তিগত গুদামে পাওয়া গেল। নগরীর সপুরা বিসিক শিল্পনগরীর মেসার্স চৌধুরী ফুড ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের গুদাম থেকে সরকারের খাদ্য অধিদপ্তরের ১ হাজার ৩৫৬ বস্তা চাল জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক’র একটি দল। ৫০ ও ৩০ কেজির বস্তায় কেজির হিসেবে মোট চাল রয়েছে ৫৩ হাজার ৮৪০ কেজি। এর মধ্যে ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের চাল ৯৫৮ বস্তা, কাওসার আলীর ৩০১ বস্তা ও হুমায়ুন কবীরের ৯৭ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। এসব চালের বস্তার গায়ে খাদ্য অধিদপ্তরের সিল মারা রয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্র্র্র্র্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গোপন সংবাদে জানতে পেরে দুদক-এর দলটি ওই গুদামে অভিযান চালায়। ওই চাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত চাল দুস্থ ও গরিবদের মাঝে বিতরণের জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের চাল। তবে কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় চালগুলো ওই গুদামে এলো তা অনুসন্ধান করে দেখছে দুদক।
খাদ্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ নতুন কিছু নয়Ñ মাঝে মধ্যেই নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সংবাদ মাধ্যমে আসে। কিন্তু তাতে অভিযোগ থেমে থাকে ব্যাপারটি তেমন নয়। সংবাদ মাধ্যমে দুর্নীতি অনিয়মের খবর প্রকাশিত হয়- তখন কিছুটা হইচই হয়, পরে সেটি এক সময় থেমেও যায়। ওই অভিযোগের চূড়ান্ত পরিণতি- নেপথ্যেই থেকে যায়। ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের সময়ও দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছিল কিন্তু সেগুলির ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে কী না তা জানা যায়নি। কিংবা এগুলোর ফলো-আপ প্রতিবেদনও সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয় নি। তবে জনমনে সাধারণ ধারণা এই যে, বিভিন্ন সময় দুর্নীতি- অনিয়মের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দোষিদের শাস্তি হয় না বলেই বারবার দুর্নীতি- অনিয়মের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার তদন্ত হলেও সেটার যথার্থতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে।
মেসার্স চৌধুরী ফুড ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের গুদাম থেকে দুস্থদের যে চাল জব্দ করা হয়েছে যাতে প্রাথমিক ধারণা হলো- এটি দুর্নীতির আশ্রয়েই হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের চাল সরকারি গুদামেই থাকার কথা- সেটা ব্যক্তিগত কারো গুদামে সংরক্ষিত থাকার কথা নয়। তা হলে ওই প্রশ্নটিই বারবার ঘুরেফিরে আসে যে, কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যম ওই গুদামে চালগুলো গেল। যদিও ব্যক্তির নামে নামে ওই চালগুলি গুদামে সংরক্ষিত হচ্ছিল। যাদের নামে গুদামে ওই চাল সংরক্ষিত হচ্ছিল তারা কোথা থেকে কীভাবে, কার মাধ্যমে ওই চাল সংগ্রহ করলেন? এর সাথে খাদ্য অধিদপ্তরের কে বা কারা জড়িত- এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জরুরি। বিষয়টির সঠিক তদন্তের দাবি রাখে। এ প্রক্রিয়ার সাথে যে সিন্ডিকেশন গড়ে উঠেছে তাদের স্বরূপ মানুষের সামনে আসা দরকার। একই সাথে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ