দেবী দুর্গাকে প্রাণভরে দেখে নেয়ার ক্ষণ আজ সাধনায় শেষ হলো কুমারী পূজা

আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০২১, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক :


সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় এই ত্রিবিধ শক্তির বীজাবস্থা কুমারী প্রকৃতি বা নারী জাতির প্রতীক। দুর্গোৎসবের অষ্টমীতে কুমারীর মধ্যে দেবীভাব আরোপ করে রাজশাহীতেও নানা আনুষ্ঠানিতায় সাধনার মধ্যে দিয়ে কুমারী পূজা করলেন হিন্দুধর্মাবলম্বীরা।

শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ মহাঅষ্টমীর কুমারী পূজা। এ বছর কুমারী পূজায় দেবীরূপে আসীন হয়েছিলেন নগরীর সাগরপাড়া এলাকার ছয় বছরের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ইন্দু প্রভাহ তিতলী। শাস্ত্রমতে কুমারী পূজার জন্য পূজিত ছয় বছরের কণ্যাকে ‘উমা’ নামে ডাকা হয়। পূজা শুরুর আগে তাকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরিয়ে নানা অলঙ্কার ও ফুলের মালা দিয়ে নিপুণভাবে সাজিয়ে দেবীর আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়।
পূজার শুরুতে মন্ত্রোচ্চারণ, ফুল ও বেলপাতার আশীর্বাদ পৌঁছে দেয়া হয় ভক্তদের কাছে। ভক্তদের উলুধ্বনি আর ধর্মপ্রাণ মানুষের বিনম্র শ্রদ্ধায় সম্পন্ন হয় কুমারী পূজা। দেবীর কাছে আর্শীবাদ নিতে ভিড় জমান ভক্তরা।

দেবীর বর লাভে আরাধনায় মক্ত হন। হিন্দুধর্মাবলম্বীদের মতে, সর্বকামনা সিদ্ধির জন্য ব্রাহ্মণ কন্যা, যশো লাভের জন্য ক্ষত্রিয় কন্যা, ধনলাভের জন্য বৈশ্য কন্যা ও পুত্রলাভের জন্য শূদ্রকুল জাত কন্যা কুমারী পূজার জন্য যোগ্য। গুণ ও কর্ম অনুসারেই এই জাতি বা বর্ণ নির্ধারিত হয়। প্রচলিত শাস্ত্র অনুসারে, বিভিন্ন মন্ডপ ও মন্দিরগুলোতে সর্বমঙ্গলের জন্য ব্রাহ্মণ কন্যাকেই দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। সব নারীর মধ্যেই বিরাজিত রয়েছে দেবীশক্তি। তবে কুমারী রূপেই মা দুর্গা বিশেষভাবে প্রকটিত হয়েছিলেন। তাই কুমারী রূপে নারীকে দেবীজ্ঞানে সম্মান জানানোর একটি হচ্ছে ‘কুমারী পূজা’। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ শুরু করেছিলেন বেলুড় মঠের দুর্গাপূজো। সেই বছরই কুমারী পূজোর প্রচলন করেছিলেন তিনি।

এদিকে, আজ মহানবমী। হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসমতে, মহানবমীর দিন হচ্ছে দেবী দুর্গাকে প্রাণভরে দেখে নেওয়ার ক্ষণ। অগ্নি সব দেবতার যজ্ঞভাগ বহন করে যথাস্থানে পৌঁছে দিয়ে থাকেন। এদিনই দুর্গাপূজার অন্তিম দিন। পরের দিন কেবল বিজয়া ও বিসর্জনের পর্ব।

নগরীর শ্রী শ্রী নারায়ণ দেব বিগ্রহ মন্ডপের পুরোহিত অসখ স্বর্ণেল জানান, নবমী নিশীথে উৎসবের রাত শেষ হয়। নবমী রাত তাই বিদায়ের অমোঘ পরোয়ানা নিয়ে হাজির হয়। এসব বিবেচনা করে অনেকেই মনে করেন নবমীর দিন আধ্যাত্মিকতার চেয়েও অনেক বেশি লোকায়ত ভাবনায় ভাবিত থাকে মন। মহানবমীতে বিহিত পূজার করা হয়। আর দুর্গোৎসবের পূজার আনুষ্ঠানিকতা নবমীতে প্রায় শেষ হয়ে যায়। এরপর দর্পণ বিসর্জনের পর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।