দেশপ্রেমিক মানুষ গড়তে সুস্থ ও মানবিক পাঠসূচি অনিবার্য

আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০১৭, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

সুজিত সরকার


দেশের চলমান আর্থ-রাজনীতিক অবস্থা অনেকেরজ্জবিশেষ করে জামাত-বিএনপির দৃষ্টিতে খারাপ মনে হলে দেশের মানুষ সে রকম মনে করে না। কারণ সাধারণ মানুষ ভাত-কাপড় আর নিরাপদে জীবন অতিবাহিত করতে পারলেই সন্তুষ্ট। তারা কখনোই ভাবে না কে কোন্ ধর্ম কেনো পালন করে এবং বিপরীত ধর্মের মানুষ খারাপ বা আক্রমণাত্মকজ্জএ আশঙ্কা তাদের মোটেই নেই। কারণ বাঙালি শ্বাশতকাল ধরে শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। এখনো সে পরিবেশ অনেকটাই বলবৎ আছে। বিন্তু কতিপয় সাম্প্রদায়িক এবং অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল সেটা ভাবে বলেই তারা সশস্ত্র জঙ্গি আর সাম্প্রদায়িক মতবাদ ও কর্মকা-ে বেশ স্বচ্ছন্দবোধ করে। প্রগতিশীল মানুষকে নৃশংসভাবে খুন-জখম করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। জাতির সৌভাগ্য যে শেখ হাসিনা সরকার মানবতাবিরোধী এই অশুভ শক্তিকে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশ্ব জনমতও সেটা মনে করে। দেশে আজকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মানুষ যাতে বসবাস করতে না পারে, সে লক্ষ্যে তারা সরকারকে পরিকল্পিতভাবে দোষারোপের পাশাপাশি অপকথার ফুলঝুরি ছোটাচ্ছে। তাতে জনমত কতোটা প্রভাবিত হচ্ছে তা তাদের কর্মসূচির ব্যর্থতা দেখেই সচেতন মানুষ অনুমান করতে পারেন।
বাংলাদেশ এই উর্বর ভূমি আর জল-হাওয়ার গুণে মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং সম্প্রীতির পক্ষে। এ দেশের নিরঙ্কুশ অধিবাসীর ভাষা অভিন্ন। খাদ্যাভাষও এক রকম। কথায় আছে, মাছে-ভাতে বাঙালি। আমরা ওইটুকু পেলেই স্বস্তি পাই। স্বাচ্ছন্দবোধ করি। তাহলে বিরোধের জায়গাটা তো নেই। কেউ গোরু জবাই করলে কিংবা শুকর কাটলে তার বৃত্তের মধ্যে সে সব করে। কাউকে হেয় করার লক্ষ্যে কিংবা উৎপীড়নের জন্যে সেটা করে না। নিছক রসনা পরিতৃপ্তির জন্যে অথবা আমিষের অভাব পূরণের লক্ষ্যে করে। কিন্তু কেউ কারো আয়োজনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেজ্জএমন ঘটনা অপ্রতুল।
বাংলাদেশ একদিন বিশ্বমানের আর্থ-রাজনীতিক অবস্থানে পৌঁছুবে যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের পক্ষের সরকার ও বিরোধীদল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে জনগণ দেয়। তাবে তার পূর্ব শর্ত স্বাধীনতা সংগ্রাম আর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি যারা আস্থাশীল ও শ্রদ্ধাশীল তারা ব্যতিত আর কেউ সরকারি ও বিরোধী দলে থাকবেন না। অবশ্য সে রায় দেয়ার অধিকার ও দায়িত্ব জনসাধারণের। ভোটারের। তবে এটাও এখন সত্যি যে, বাংলাদেশের ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দেশের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল নেতাদের তারা ইতোমধ্যে চিনে নিতে সক্ষম। তারা আর ভারতীয় জুজু কিংবা হিন্দুর আধিপত্যের ভীতি যে ভূয়া, তা বুঝতে সক্ষম হয়েছে। কেনো না, এ সব অপকথা বলেই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অপশক্তি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ নিয়েছে। ক্রমে দেশবাসীর সে শুভ দৃষ্টির আরো প্রসারিত হবে। দেশের মানুষ এখন কেউ কি না খেয়ে থাকে? এমন দৃষ্টান্তও খুব কম। কারণ তথাকথিত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ক্রমাগত কর্মক্ষেত্রেরও প্রসার ঘটছে। শিল্পায়ন হচ্ছে। উন্নতি ঘটছে আন্তর্দেশিয় যোগাযোগ ব্যবস্থা। চিন-রাশিয়া-ভরত-বাংলাদেশ-ভূটান-নোপল-মায়ানমার-আফগানিস্তানসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও যোগাযোগের চুক্তি করে প্রত্যেকের অবস্থানে আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রসারের সদ্ব্যবহার করার সুযোগ পাবে। এ ক্ষেত্রেও জনবল অপরিহার্য। সেখানে বাংলাদেশের কর্মজীবী মানুষের ঠাঁই হবে বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। যখন কাজ থাকে, মানুষ জীবিকা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন সাম্প্রদায়িকতার বিষ তখন উবে যায়। কখন ওসব অশুভ-অপরাধপ্রবণতা নিয়ে মানুষ ভাবার সময় পাবে না। তখন বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পণ্য উৎপাদন এবং মূল্য নির্ধারণের চিন্তায় সকলকে সময় দিতে হবে। না হলে আরো বড়ো বড়ো শিল্পোন্নত দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হেরে যাবো। উৎপাদিত পণ্যের মান-গুণ এবং মূল্য সব মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকতে গেলে সাম্প্রদায়িকতা, বর্ণবাদ কিংবা কে আদিবাসী কে মূল স্টিমের অধিবাসী সব ভুলে যাবে। একজন নিগ্রো যখন আমেরিকা কিংবা জার্মানের হয়ে অলিম্পিকে সোনা জেতে সেটা কিন্তু আফ্রিকার কোনো দেশের স্বর্ণজয় নয়, সেটা যে দেশের তিনি প্রতিনিধিত্ব করেছেন, সে দেশেরই গৌরব। এ ভাবে একদিন সারা দুনিয়া বর্ণ-সুবর্ণ সব মিলিয়ে এক মানবসমাজে রূপান্তরিতও হবে। হতে হবে। না হলে বিশ্বায়ন শব্দটি মিথ্যে হয়ে যাবে।
আজকের সরকার বাংলাদেশকে প্রতিদিন সম্ভবনার খতিয়ান তৈরি করছে, তাতে জাতি বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থাশীল বলে মনে হয়। তারা আশাবাদীও। দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি ব্যতিত তো জাতির কোনো প্রত্যাশা নেই। ব্যক্তিগত পরিসরে সেটা থাকলেও তা কেবল কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার প্রত্যাশা। সেটা একদিনে হবে না। একটা ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র তলটা যখন গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে, তখন তা ফুলে-ফলে পরিণত হতে সময় দিতেই হবে। বিএনপিঅলাদের মতো রাতারাতি ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হওয়া যাবে না। তা সম্ভব নয়। জনগণও তা ভালোচোখে দেখবে না। বিশ্বের প্রতিটি দেশের বিপ্লব-স্বাধীনতা সংগ্রামের পর পরাজিত-প্রতিক্রিয়াশীলেরা নানা আঙ্গিকে উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত করেছে। এই মানবতাবিরোধী অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দখলবাজ-আধিপত্যবাদী আন্তর্জাতিক মহল। আজকে পাকিস্তান সে ভাবে বাংলাদেশের যুদ্ধাপারাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তা তাদের এ দেশিয় ঘাতক-দালাল চক্র এবং তাদের পুনর্বাসনকারী বিএনপির অপরাজনীতিকেই উৎসাহিত করছে। তারা ভাবছে, অপরাধ করলেও অনেক দেশ তাদের সমর্থন দেবে। সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গিও এ ক্ষেত্রে অনেকটা নমনীয় হয়েছে। একদিন এই সৌদিরাই যুদ্ধাপরাধী আর তাদের আশ্রদাতা বিএনপির পৃষ্ঠপোষক ছিলো। পাকিস্তানকে আজকে ‘সন্ত্রাসীরাষ্ট্র’ হিসেবে অনেক দেশ ঘোষণা দিচ্ছে। তাদের সঙ্গে সম্পর্কও ছিন্ন করতে উদ্যত অনেকেই। সার্ক সম্মেলনে পাকিস্তানে বাংলাদেশসহ ভারত-শ্রীলঙ্কা-ভূটান প্রমুখ দেশ অংশ না নেয়ায় সম্মেলন বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে তারা। আবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ চুক্তি হতে যাচ্ছে, সেখান থেকেও পাকিস্তানকে বাদ দেয়া হয়েছে। তার সঙ্গে কোনো রাষ্ট্র সম্পর্ক ও চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি। এটা তাদের সাম্প্রদায়িক মানসিকতা ও সন্ত্রাসের ফলশ্রুতি। এ জন্যে পাকিস্তানের জনসাধারণকেও দুর্ভোগ পোহাতে হবে। কিন্তু সেখানে তো নির্বাচিত সরকারের কোনো শক্তি নেই। সামরিক বাহিনীর ওপর তাদের সব নির্ভর করতে হয়। সামরিক স্বৈরতন্ত্র-স্বেচ্ছাচারিতা আর সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পোষণের ফলে সৃষ্ট সন্ত্রাস পাকিস্তানকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। আগামী দিনে তাদের অবস্থান হবে আরো ভয়াবহ। খোদ আমেরিকাও আর তাদের ওপর সন্তুষ্ট নয়। সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচিত নেওয়াজ শরীফের সরকারের মধ্যে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তা ছিলো উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়। এমনও হতে পারে, দ্রুত সে দেশে সামরিক বাহিনী সরকারের ব্যর্থতা ও ভারতের কাছে নতজানু নীতির অভিযোগ উত্থাপন করে ক্ষমতা দখলে নেবে। বাংলাদেশের সরকার ও সেনাবাহিনী এমন বর্বরতার রাজনীতি করে না। করলে এই উন্নয়নটুকু হতো না। মানুষের আস্থার জায়গাটাও তৈরি হতে না। জিয়াউর রহমান জাতির পিতাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে অন্তরালে থেকে কলকাঠি নেড়ে সুযোগ বুঝে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাসকে বিকৃত-খ-িত করার যে উদ্যোগ নেন, তাতে তারও শুভ হয়নি। তাকেও স্ত্রী-পুত্র থেকে দূরে নির্মমভাবে নিহত হতে হয়। দুই দু’বার প্রধানমন্ত্রী থেকেও বেগম জিয়া স্বামী হত্যার বিচার করেননি। করলে হয়তো ‘কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে পারতো’। আর সে ভয়েই বেগম জিয়া স্বামী হত্যার বিচারের কথা উচ্চারণও করেননি। আজকে ৫ জানুয়ারি নিয়ে তারা যে অবস্থানে রয়েছেন, সেটাকেও জনগণ গ্রহণ করছেন না। অর্থাৎ বাংলাদেশের জনগণও সংবিধানের পক্ষে। বিএনপি বিজয়ী হলে কী হয়? দেশে সন্ত্রাস বৃদ্ধি পায়। গড়ে ওঠে সশস্ত্র খুনি বাহিনী। তাতে সাধারণ মানুষই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারাই হয় বলির শিকার। বাগমারা-আত্রাইয়ে বাংলাভাইয়ের উত্থানে কয়জন প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ্ আক্রান্ত হয়েছেন? একজনও না। আক্রান্ত হয়েছেন খেজুর আলীর মতো কিছু প্রান্তিক মানুষ। বিএনপি যে জামাতের কাঁধে ভর করে দেশময় আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টা চালিয়েছে, তাতে তাদের লাভ হয়নি। কারণ তারা নিরস্ত্র-নিরীহ জনগণের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছিলেন। এখনো জামাতনির্ভর রাজনীতি করছে। জামাত একাত্তরে মানবতা ও শান্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে যে অপরাধ করেছিলো, দেশবাসী সে কথা ভোলেনি। তারা সে জন্যে আজকে ঘৃণিত ও বিচারাধীন। যতোদিন অপরাধী চক্র থাকবে ততোদিন বিচারিক প্রক্রিয়া চলবেই।
বর্তমান সরকারের অনেক সাফল্যের পরও সরকারের কিছু দায়িত্বহীন আর অদক্ষ মন্ত্রী ও উচ্চ পদের কর্মকর্তার কারণে তা ভূ-লুণ্ঠিত হচ্ছে। এ বছর প্রাথমিক শিক্ষার বই নিয়ে যে তেলেসমাতি হয়েছে, তা সত্যি অবিশ্বাস্য। তবে কি সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা মুক্তিযুদ্ধেও চেতনা ও মূল্যবোধ বিরোধী রাজকারের মতালম্বীদের ষড়যন্ত্র এটা, নাকি দায়িত্বশীলদের অদক্ষতা? কোনটা তার জবাব তারাই ভালো দিতে পারেন। তবে এটা নিঃসন্দেহে জনমানসে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটা অপ্রত্যাশিত। কোমলমতি শিশু-মনে সুকৌশলে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপণের যে আয়োজন তারা জাতির অন্তরালে করেছেন, তাতে এটাও ভেবে নিতে কারো কষ্ট পেতে হবে না যে, এরাও বিএনটি-জামাতকে খুশি করতে এ আয়োজন পরিপূর্ণ করেছেন। কোনো কোনো গ্রন্থের সম্পাদক ও সংকলক তো জামাত-বিএনপির সমর্থক। তারা বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী বাদ দিয়ে অন্য কাহিনি পরিবেশন করেছেন। দেশের শ্রেষ্ঠ ও কৃতী সন্তানদের কথা উত্তর প্রজন্মের বাঙালিরা জানতে না তো অন্য দেশের কারো জীবনী জানবে। সেটা তারা জানবে আরো বড়ো হয়ে স্ব-উদ্যোগে। কিন্তু দেশপ্রেমিক জাতি গড়তে অবশ্যই বীরশ্রেষ্ঠদেও জীবনী পড়ার সুযোগ তাদের করে দিতে হবে। আর তা প্রাথমিক শিক্ষার পাঠসূচির মধ্যে দিয়ে। সেটা সুপরিকল্পিতভাবে করেননি এ জন্যে তারা বিএনটি-জামাতের পারপাস সার্ভ করেছেন তাদের তুষ্ট করতে। এখন পর্যন্ত শিক্ষা নিয়ে যে তেলেসমাতি চলছে তা দেশপ্রেমিক জাতি গঠনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এই একবার এটা করো, পরের বছর আবার ওটা করো। এ সব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্যে ফি বছর যে পরিমাণ অর্থ প্রশিক্ষণের এবং কত্তাদের যাতায়াতের পেছনে ব্যয় হচ্ছে, পরের বছর সে কর্মসূচি বাতিল করলে তো আগের বছরের সমুদয় অর্থই অপচয় হয়েছে বলে মনে করতে হবে। তাহলে এতো কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা? কেনো এতো অর্থেও অপচয়? আমলারা তো আঙুলে তুড়ি মেরে দিব্যি কামিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিবেকেও বাধছে না। খালেদার যেমন পথচলতি মানুষ পোড়ালে কিছু মনে হয়না, কতিপয় মন্ত্রী ও বড়ো কত্তাও সে রকম দেশের কোষাগারে অর্থ অপচয় হচ্ছে তারা হচ্ছেন লাভবান বিধায় গোল্লায় যাক জাতি, আমি তো আগে ভোগ-বিলাসের নিশ্চয়তা করে নিই। সে কারণে তাদের সঙ্গে বিএনপি-জামাতের দূরত্ব খুব কম। আমাদের সন্তানেরা দেশের কৃতিমানদের কথা জানবে না তো কার কথা জানবে? কী করে সন্তানদের সুস্থ ধারার মধ্যে দিয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী এবং এতদ্বিষয়ে আরো নানা সংস্থার কত্তারা জানবেন না? তাদের নাকের ডগায় বসে যারা এই দুষ্কর্ম সম্পাদন করেছেন তারা সেটা কী করে পারলেন? জামাতিকরণের এই প্রক্রিয়া প্রতিবাদের এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আজকে সরকারকে ভাবতে হবে যেমন ভেবেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে এবং দেশের উন্নয়নের পক্ষে, অবিকল ভাবতে হবে। না হলে কেবল সেতু কিংবা ওভার ব্রিজ আর বহুতল দালানকোঠাই উন্নয়নের স্মারক নয়, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক মানবসম্পদ গড়ে তোলাও সরকারের অন্যতম উন্নয়ন কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত। শিক্ষামন্ত্রী এবং এনসিটিবির কত্তামহোদয়েরা যে আত্মঘাতী কাজ করেছে, তা খালেদার কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এদের বিষয়টিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দৃষ্টি দিতে সবিনয় অনুরোধ জানাই। তাহলে দেশে অপরাজনীতির সঙ্গে ঘুষ-দুনীর্তিসহ যাবতীয় অন্তর্ঘাতীরা খালেদার মতোই জনসমর্থন আদায়ে যেমন ব্যর্থ যেমন হচ্ছেন এরাও সরকারের ছায়াতলে থেকে দ্রুত অপসারিত হবে। দেশও তার সুস্থ সুন্দর ভাবমূর্তি নিয়ে আরো সামনে দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করি।