দেশি গরুতে জমেছে হাট

আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০১৭, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীর উপকন্ঠ সিটি হাটে দেশি গরুর সমাহার-সোনার দেশ

ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েকদিন আছে। উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ পশুর হাট ‘সিটি হাট’ নগরীতে অবস্থিত। এর মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। বিক্রেতার পাশাপাশি ক্রেতার আগমন বাড়ছে হাটে। ক্রেতারা বড় ও মোটাতাজা ধরনের গরুর দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন বলে জানান বিক্রেতারা। তবে হাটে দুপুর পর থেকে বাড়ছে ক্রেতার সমাগম। দেশি গরুতেই জমেছে পশুর হাট বলে মন্তব্য করছেন গরু ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা।
গত কয়েকদিন নগরীর সিটি হাট ঘুরে দেখা যায়, দেশি গরুর পাশাপাশি কিছু ভারতীয় গরু আমদানি করেছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছরের মতো এবারও ক্রেতাদের কোরবানির জন্য দেশি গরুর চাহিদা বেশি রয়েছে। অন্যদিকে তুলনামূলক ক্রেতা কম। এজন্য দামটা এখনো বেশ কম বলছেন বিক্রেতারা। এদিকে ক্রেতারা বলছেন, পশুর দামটা একটু বেশিই বলে মনে হচ্ছে। এবার ঈদে বিক্রেতারা কোরবানির পশু কম দামে বিক্রি হচ্ছে বললেও কেনার সময় দামটা ঠিকই নিচ্ছেন বলে জানান ক্রেতারা।
রাজশাহী শহরের পশ্চিম দিকে সিটি বাইপাস সড়কের পাশে অবস্থিত সিটি হাট। এটিই বর্তমানে এ অঞ্চলে পশুর জন্য সবচেয়ে বড় ও প্রধান হাট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এছাড়ার নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালি, নওহাটায় কোরবানি ছাড়াও পশুর হাট বসে। তবে সিটি হাটে সারা দেশের মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ঢাকা, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাপারিদের আগমন ঘটে।
সিটি হাট সপ্তাহে রোববার ও বুধবার বসে। এই দুই দিন হাট হওয়ায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের বেশি দেখা যায়। গরুর পাশাপাশি মহিষ, ছাগল ও ভেড়া ওঠে। ঈদের আগে কয়েকদিন প্রতিদিনই দুপুরের পর থেকে পশুর হাট বসে থাকে।
গতকাল মঙ্গলবার হাটের দিন না হলেও দুপুরের সরজমিনে হাটে গিয়ে দেখা যায়, বিকেলের আগে থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আগমন শুরু হয়। বিভিন্ন জাতের গরুর মধ্যে হাটের বেশির ভাগই দেশি গরু ছিল। এরমধ্যে কিছু ভারতীয় গরু ও মহিষও দেখা যায়। তবে কোরবানির জন্য ক্রেতাদের দেশি ষাড়ে প্রতি চাহিদটা বেশি ছিল।
জেলার গোদাগাড়ী গ্রোগ্রাম এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল কুদ্দুস বলেন, ৪১ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে একটি দেশি গরু কিনেছেন। তিনি চারটি দেশি গরু হাটে নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে দুইটি বিক্রি করেছেন। তাতে তার কিছু টাকা লাভ হয়েছে। এবার কোরবানির জন্য ক্রেতারা গরুর মাংস ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা মণ আইডিয়াতে কিনছেন।
কোরবানির গরু ক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, গরুর দাম তেমন বেশি মনে হচ্ছে না। তবে দেশি গরু হাটে বেশি আছে। ক্রেতা কম। ফাঁকা ফাঁকা অবস্থায় গরু কিনে বেশ ভালো লাগছে। ৭০ হাজার টাকা দামে একটা দেশি ষাড় কিনেছেন।
তানোরের মহিষ বিক্রেতা মাহাবুব বলেন, এবার বাজারে একটু গরু ও মহিষের দাম কম। সেই সঙ্গে ক্রেতাও কম হাটে। বড় গরু বা মহিষের মাংস ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা মণে বিক্রি হলে ছোট গরু বিক্রি হচ্ছে ২০ হাজার টাকা মণ দরে।
সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, হাটে ভারতীয় গরুর চেয়ে দেশি গরুই বেশি আসছে। হাটে পর্যাপ্ত গরু আছে, তবে ক্রেতা কম। তিনি আশা করছেন, কোরবানির দিন এগিয়ে আসলে হাটে আরো ক্রেতা বাড়বে। ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে প্রতিদিনই গরু হাট বসবে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আরো ব্যাপক গরুর আসবে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ