দেশি চলচ্চিত্রের দৈন্য দশা বিবর্তনের ধারায় চলচ্চিত্র নিয়ে ভাবতে হবে

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

গেল শতাব্দির নব্বুইয়ের দশকেও বাংলা সিনেমা বাংলাদেশের নি¤œ ও মধ্যবিত্ত মানুষের বিনোদনের প্রধান অনুষঙ্গ ছিল। সিনেমা চর্চা পরিবারের মধ্যেই হতো। নতুন সিনেমা, তার নায়ক-নায়িকাদের খোঁজ-খবর রাখাও ওই চর্চার মধ্যে ছিল। অনেকের কাছে সিনেমা দেখাটা আসক্তির মত ছিল। একই সিনেমা হয়ত ৫০ বারের বেশি দেখা হয়েছে এমন লোকের সংখ্যা মোটেও কম নেই। সিনেমার টিকিট পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, দালালদের দৌরাত্ম্য তদুপরি টিকিট হাতে পাওয়াটা সোনার হরিণ পাওয়ার মত ছিল। বাংলাদেশে সেটা ছিল সিনেমার স্বর্ণযুগ। কিন্ত বাংলাদেশের সিনেমা সময়ের সাথে তাল মেলে চলতে পারে নি। দর্শকের চাহিদা মাথায় রেখে সিনেমার ধারাকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হয় নি। অধিক ক্ষেত্রেই সিনেমার গল্প, চিত্রনাট্য, সঙ্গীত, সংলাপ ইত্যাদি দর্শকদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা শুরু হয়। আর চাপিয়ে দেয়ার বিষয়টি স্থান কাল ভেদে কখনোই ফলপ্রস্যূ হয় নি। এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কেউ বলতেই পারেন, এখনকার তথ্য-প্রযুক্তির যুগে সবকিছুই হাতের মুঠোয়। বাড়িতে বসে থেকেই ইচ্ছেমত সিনেমা দেখা যায়। সেটা মোবাইল ফোনে কিংবা টেলিভিশনে। এটাকে কোনোভাবেই অকাট্য যুক্তি হিসেবে দাঁড় করান যাবে না- এই কারণে যে, যে সব দেশ বিবর্তনের ধারার সাথে চলচ্চিত্রকে নিয়ে ভেবেছে, চর্চা বা গবেষণা করেছে- তারা টিকে আছে এবং ভালভাবেই টিকে আছে। প্রতিবেশি দেশ ভারতই তার নিকটতম উদ্হারণ। বড় পর্দায় চলচ্চিত্র দেখানোর মুন্সিয়ানা চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত কুশিলবদেরই অর্জন করতে হবে। সেই কাজটা বাংলাদেশ হয়নি বললেই চলে। বড় পর্দার আবেদন শেষ হয়ে যায়নি। শুধু যুগের সাথে যুগের মত করে সাজাতে হবে চলচ্চিত্র শিল্পকে।
বর্তমান সরকার চলচ্চিত্রের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আন্তরিক। তারই আলোকে সিনেমা হলগুলোর জন্য এক হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিল থেকে সিনেমা হল সংস্কার, আধুনিকায়ন ও নতুন হল নির্মাণে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়া যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ১৪ ফেব্রুয়ারি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই তহবিল থেকে ঋণ নিতে চাইলে হল মালিকদের ৫ শতাংশের বেশি সুদ গুনতে হবে না। শুধু তাই নয়, টানা একবছর পর্যন্ত ঋণের টাকা শোধ করতে হবে না। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরের জন্য এই ঋণের সুদহার ৫ শতাংশ ও এর বাইরের এলাকার জন্য সাড়ে ৪ শতাংশ। আর এই ঋণ শোধ করা যাবে আট বছর পর্যন্ত। প্রথম বছরে ঋণ পরিশোধে ছাড় মিলবে (গ্রেস পিরিয়ড)।
সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতা চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিও আছে। তবে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে। গল্পের মান, চিত্রনাট্য ও কারিগরি দক্ষতার ক্ষেত্রে কোনো আপোস করা যাবে না। দর্শকের কাছে ভাল কিছুই উপস্থাপন করতে হবে। জোড়াতালি দেয়া সিনেমা দর্শক গ্রহণ করবে না এটা মাথায় রাখতে হবে। ভাল সিনেমার অভাব থেকেই সিনেমা শিল্পে দুর্দশা নেমে এসেছে। একে একে দেশের সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই সময়ের সাথে সিনেমা শিল্পকে এগোতে হবে নতুবা এই শিল্পের টিকে থাকার কোনো সুযোগই অবশিষ্ট থাকবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ