দেশের উন্নয়নে মূল স্রোতের বাইরে নয় প্রতিবন্ধীরা : মেয়র লিটন

আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২০, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


গোলটেবিল কনফারেন্সে বক্তব্য দেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন-সোনার দেশ

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে দেশের যে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিয়ে সামনে দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের সে মূল স্রোতের বাইরে রেখে করা হচ্ছে না। তাদের অংশগ্রহণ ও সংযুক্তিকে মাথায় রেখেই বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। এক সময় প্রতিবন্ধীদের উপহাস করা হয়েছে। এজন্য অভিভাবকরা প্রতিবন্ধী সন্তানদের বোঝা মনে করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার প্রধান ও তার মেয়ের প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এখন তারা সমাজ ও জাতির বোঝা নয়। তাদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করছে। সেইসাথে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাদের জন্য ভাতাসহ সরকার বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করছে। এক্ষেত্রে রাজশাহী সিটি করপোরেশনও তা ব্যতিক্রম নয়।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর শালবাগান বিজিবি গেট পার্টি কনফারেন্স হলে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা; প্রতিবন্ধী নারীদের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’- শীর্ষক গোলটেবিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ্ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ডাব্লিউডিডিএফ) আয়োজনে গোলটেবিল কনফারেন্সের প্রধান অতিথি লিটন আরও বলেন, নগরীতে যেসব স্থাপনা গড়ে উঠছে। সেখানেও প্রতিবন্ধীদের সহজে প্রবেশগম্যতা ও ব্যবহার উপযোগী হিসাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। যাতে করে সমাজেও তাদের মর্যাদাকে কোনো অংশে ছোট করে দেখা না হয়। তারা অন্যদের মতো সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারেন। কেউ জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী হয়। আবার কেউ কোন দুর্ঘটনায় পড়ে প্রতিবন্ধী হয়। এমনটাই আমাদের ক্ষেত্রেও হয়ে থাকতে পারে। তাই তাদেরকে আমরা কখনও আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি দেখবো না। তারাও তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে সমাজের ভালোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
ডাব্লিউডিডিএফের সদস্য শারমিন দোলনের সভাপতিত্বে কনফারেন্সে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও নারীনেত্রী শাহীন আক্তার রেণী, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের এজিএম আমিরুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শবনম শিরিন, জেলা শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দীন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম প্রমূখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডাব্লিউডিডিএফ’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা রওনক জাহান ঊষা। আর কনফারেন্সের সঞ্চালনা ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন ডাব্লিউডিডিএফ’র নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি। তিনি মূল প্রবন্ধে তুলে ধরে বলেন, সব ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষদের সাথে ভাষাগত যোগাযোগ ও ভাব বিনিময়ের পদ্ধতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভ্যস্থ নয়। এতে করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বক্তব্য শোনা কিংবা নিজের বক্তব্য শোনানো বা বোঝানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাঝে এক ধরনের অনীহা কাজ করে। আবার কোনো একটি ফুটপাত, ওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস, পুলিশ স্টেশন, রেল স্টেশন, বাস স্টপেজ, পাবলিক টয়লেট, টার্মিনাল বিশ্রামাগার, পার্ক, দর্শনীয় স্থান, রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেলগুলোতে প্রতিবন্ধিতাকে মাথায় রেখে নির্মাণ বা সংস্কার করা হয়নি। এমনকি বেশিরভাগ সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, কার্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতার কথা বিবেচনা করছে না। এছাড়াও প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রতিবন্ধিকতা তৈরি হয়েছে। সেসব বিষয়ও মূল প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়। সেগুলো সমাধানের জন্য সিটি মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ