দেশের পোশাক শিল্পে প্রবৃদ্ধি পরিবেশসম্মত উদ্যোগকে পথ দেখাচ্ছে

আপডেট: ডিসেম্বর ৩, ২০২২, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

চলতি বছরের আটমাসে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মোট পোশাক আমদানির ২২ দশমিক ৮৯ শতাংশই ছিল বাংলাদেশের। ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ‘ইউরোস্ট্যাট ইইউ’র আমদানির সবশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আট মাসে ইইউর পোশাক আমদানিতে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে বাংলাদেশের। বাংলাদেশ থেকে ১৫ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে ইইউ। যেখানে বিশ্ব থেকে তাদের মোট আমদানির পরিমাণ ছিল ৬৭ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট পোশাক আমদানির ২২ দশমিক ৮৯ শতাংশ নিয়ে ইউরোপের পোশাক আমদানির দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এবং একই সাথে অর্থনীতির জন্য একটি উৎসাহব্যঞ্জক ও আশাজাগানিয়া সংবাদ। যখন পৃথিবীজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার কথা বেশ জোরেসোরে উচ্চারিত হচ্ছে এবং সেই মন্দার নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাংলাদেশও বাইরে নয়Ñ বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের এগিয়ে যাওয়া নিশ্চয় অর্থনীতিতে উজ্জীবনের নতুন ধারার সৃষ্টি করেছে। দেশের জন্য সাফল্যের এখানেই শেষ নয়Ñ রপ্তানি খাতে জুড়েই আশার সঞ্চার হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে চলমান বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও রপ্তানি আয় লক্ষ্য ছুঁয়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় এসেছে ২১ দশমিক ৯৪৬ বিলিয়ন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭৬ মিলিয়ন ডলার বেশি। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
দেশের রফতানি আয়ের ৮২ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর বৃহৎ এ খাতটি হোঁচট খেয়েছিল। এ রকম আরও অনেক দুঃসময় পার করেছে শিল্পটি। কিন্তু অনেক খারাপ খবরের ভিড়ে এ শিল্পের জন্য ভালো খবর হচ্ছে- তৈরি পোশাক শিল্পের সবুজ বিপ্লব। রানা প্লাজা ধসের পর পরিবেশবান্ধব টেকসই কারখানা প্রতিষ্ঠায় রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলে উদ্যোক্তাদের মধ্যে। একে একে গড়ে তোলেন পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি।
বিশ্বে এখন যে ১০টি প্লাটিনাম গ্রিন কারখানা রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশেই রয়েছে ৭টি। এটি তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বড় অর্জন বলে মনে করছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। নতুন করে আরও ৩টি সবুজ কারখানা হওয়ায় দেশে এখন সবুজ কারখানার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪৮টি।
সবুজ কারকানার ধারণাটি এসডিজি অর্থাৎ সহস্রাব্দের টেকসই উন্নয়নেরই অভীষ্ট লক্ষ্য। পোশাক শিল্পের সবুজায়নের সাফল্য দেশের সার্বিক শিল্প ব্যবস্থাপনার জন্য দিকনির্দেশনাও বটে। এবং পরিবেশসম্মত কারখানা গড়ে তোলার সাফল্য যে সম্ভব সেটা স্পষ্ট হয়েছে। পোশাক শিল্পের সবুজিকরণ- এ শিল্পের সাফল্য, বিশ্বাসযোগ্যতা ও আস্থার সৃষ্টি করেছে। ফলশ্রুতিতেই পোশাক শিল্প বিশ্ব প্রতিযোগিতায় সফল হচ্ছে। এখন সময় এসেছে প্রতিটি শিল্প ও বাণিজ্য উদ্যোগের সাথে পরিবেশসম্মত ধারণা কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়নের ধারায় বাংলাদেশকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নেয়ার। পোশাক শিল্প সে পথই দেখাচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ