দেশের প্রথম থ্রিডি প্রিন্টিং প্রদর্শনী

আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০১৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

রফিকুল ইসলাম, রাবি


থ্রিডি প্রিন্টারের বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রথম থ্রিডি প্রিন্টিং-এর ওপর এটাই প্রথম প্রদর্শনী। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বিজ্ঞান ভবনে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। বিভিন্ন খাতে থ্রিডি প্রিন্টারের ব্যবহার নিশ্চিত করে কীভাবে দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করা সম্ভব তা জানানোই ছিল এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য। এই থ্রিডি প্রিন্টারের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ডিজিটালাইজেশনে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন আয়োজকরা।
প্রদর্শনীর প্রধান সমন্বয়ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাসনাত কবীর বলেন, সাধারণ প্রিন্টারের তুলনায় ভিন্ন প্রযুক্তির থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে জটিল বস্তুরও থ্রিডি অবকাঠামো তৈরি সম্ভব। এই প্রিন্টারের মাধ্যমে আমরা যেসব বস্তুকে দেখতে পাই বা যেসব বস্তু কল্পনা করি সেগুলোরও ত্রিমাত্রিক অবকাঠামো তেরি করা সম্ভব। এ জন্য কেবল নির্দিষ্ট বস্তুর থ্রিডি ড্রয়িং প্রয়োজন হয়।
প্রথম থ্রিডি ল্যাবরেটরির প্রতিষ্ঠাতা এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে এই থ্রিডি প্রিন্টিং ব্যবহার করে দ্রুত, কম খরচে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বিভিন্ন ভবন যেমন, বাড়ি, শিল্পকর্ম ইত্যাদি তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের দেশেও এর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির তেমন কোনো ধারণা নেই। এই প্রদর্শনী তাদেরকে এ সম্পর্কে ধারণা দিতে সাহায্য করবে।
প্রদর্শনীতে যে এই প্রিন্টারের প্রদর্শনী করা হয়েছে তার নাম হলো র‌্যাপর‌্যাপ থ্রিডি প্রিন্টার। অটোক্যাড বা অটো ডেস্ক সফটওয়্যারের সাহায্যে অর্ডার নিবে এই র‌্যাপর‌্যাপ প্রিন্টার। এই সফটওয়্যারের সাহায্যে যা অর্ডার করা হবে তা হুবহু প্রিন্ট করবে র‌্যাপর‌্যাপ প্রিন্টার। প্রদর্শনীতে এই প্রিন্টার ব্যবহার করে থ্রিডি প্রিন্টেড নকশা আকারে বাড়ি, মানচিত্র, মোটরগাড়ি, শিল্পকর্মের প্রতিরূপ ইত্যাদি তৈরি প্রদর্শন করা হয়। এই প্রদর্শনীতে থ্রিডি প্রিন্টিং ব্যবহার করে তৈরি যেসব প্রযুক্তি দেখানো হয়-
অ্যানড্রোয়েড কন্ট্রোল ডোর
কম্পিউটার বা অ্যানড্রোয়েড ফোনের সাহায্যে ব্লুটুথ কন্ট্রোল অ্যাপস দিয়ে দরজা বন্ধ ও খোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কেউ গাড়িতে বসেই এই অ্যাপসের সাহায্যে দরজা অন-অফ করতে পারবে। এই দরজার অবকাঠামো তৈরি করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ থ্রিডি প্রিন্টারের সাহায্যে তৈরি করে এই ডোর বানানো হয়েছে।
রোবোটিক আরম
এটি ক্রেন এর মতো কাজ করবে। এক জায়গা থেকে কোনও জিনিস বা বস্তু তুলে নির্দিষ্ট জায়গায় স্থানান্তর করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে এই রোবটিক অরম কে যেভাবে অর্ডার দেয়া হবে সেভাবেই কাজ করবে। অজউঘওঘঙ নামের একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে এই রোবটকে অর্ডার দেয়া যাবে। আর এই রোবোটের সব ক্ষুদ্র অংশগুলো থ্রিডি প্রিন্টিং ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। পরে এই অংশগুলো একটি অন্যটির সঙ্গে যুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ এই রোবটিক আরম তৈরি করা হয়েছে।
থ্রিডি প্রিন্টেড কারবোট
এই কারে একটি ব্লুটুথ মডুল লাগানো আছে। যা সিগনাল রিসিভ করে। আর এতে সিগনাল পাঠানো হয় অ্যানড্রোয়েড ফোনের মাধ্যমে ব্লুটুথ ডিভাইস ব্যবহার করে। এই ডিভাইস দিয়ে অর্ডার দিয়ে কারটিকে পরিচালনা করা সম্ভব। এই কারের অবকাঠামো থ্রিডি প্রিন্টারের সহায্যে প্রিন্ট করা হয়েছে।
প্রদর্শনীর আয়োজক কমিটির সদস্য ও বিভাগের শিক্ষর্থী দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আকিফ মাহ্দী বলেন,  কোনও জিনিস তৈরি করতে হলে সাধারণত আমাদেরকে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আনতে হয়। কিন্তু আমরা যদি তা নিজেরা তৈরি করতে পারি তাহলে খরচ অনেক কমে যাবে।
আকিফ আরও বলেন, এই প্রিন্টারের সাহায্যে পরীক্ষামূলক বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। কোনও সমস্যা থাকলে সেগুলো ওভারকাম করার প্রক্রিয়া চলছে। পরে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার জন্য এগুলো কারখানায় পাঠানো হবে। তখন বিভিন্ন ভবনও একই প্রিন্টারের মাধ্যমে তৈরি করা সম্ভব। ছোট ছোট অংশে একটি ভবনের অবকাঠামো তৈরি করে তা একত্রিত করে পুনাঙ্গ রূপ দেয়া সম্ভব হবে। শুধু ভবন নয়, বিভিন্ন শিল্পকর্মের প্রতিরূপ, কৃত্রিম হাত-পা, যন্ত্রপাতি, মোটরগাড়িও তৈরি করা যাবে।
প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম থ্রিডি ল্যাবও তৈরি করা হয়েছিল এই বিভাগেই। ২০১৫ সালের ২ মার্চ উদ্বোধন করা হয়।#

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ