দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৩ রাজশাহীতে হাসপাতালে বেড়েছে শীতজনিত রোগির সংখ্যা

আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২২, ১০:০৯ অপরাহ্ণ


নিজেস্ব প্রতিবেদক:


দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাজশাহীতে। বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) মৌসুমের সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে- এটি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

গত কিছুদিন থেকে রাজশাহীতে তাপমাত্রা কমছে। ফলে শীতজনিত অসুস্থ রোগির সংখ্যা বেড়েছে হাসপাতালে। চিকিৎসকরা বলছেন- শীতজনতি কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট জ্বর-সর্দি নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত কয়েক দিনের তুলনায় হাসপাতালে শীতজনিত রোগির সংখ্যা বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সূর্যের দেখা মিললেও সাড়ে নয়টার দিকে কুয়াশায় ঢেকে যায়। সকালে সাড়ে ১০ টার দিকে আবার সূর্যের দেখা মেলে। এসময় কুয়াশার সাথে ছিল শৈত্য প্রবাহ। আবহাওয়া অফিস বলছে- এদিন সকাল ৬টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ ও সন্ধ্যা ৬টায় ছিল ৭৫ শতাংশ।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক আবদুস সালাম জানান, বৃহস্পতিবার সকালেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯টায় দশমিক ৪ তাপমাত্রা কমে যায়। এনিয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এদিন বেলা ৩টায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই মৌসুমের গত ২০ ডিসেম্বর রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এছাড়া চলতি মাসের গত বুধবার (১৯ জানুয়ারি) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া তার আগের দিন মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৮ ডিগ্রি।

আবহাওয়া অফিসের হিসাবে, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নামলে তা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এছাড়া ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের তাপমাত্রাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। সে অনুযায়ী রাজশাহীতে শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। শুক্রবার তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। কোনো কারণে তাপমাত্রা না কমলেও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

এদিন দুপুরে নগরীর সাহেববাজার, গণকপাড়া, লক্ষ্মীপুর, কোর্ট এলাকার অস্থায়ী শীতের কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ফুটপাতে ৫০ থেকে শুরু করে ৮০০ টাকা দামের শীতের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। সোয়েটার, মাফলার, কান ঢাকা টুপি, হাত ও পায়ের মোজা এছাড়াও জুতা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নগরীর কিছু কিছু এলাকায় মানুষকে আগুন জ্বালিয়ে শরীর উষ্ণ করতে দেখা গেছে।

ব্যবসায়ী রাজু জানান, জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ অর্থাৎ মাঘ মাস পড়ার পর থেকে শীতের পোশাক বিক্রি বেড়েছে। আগে দিনে যে টাকার পন্য বিক্রি হতো তার থেকে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে।

শামসুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা জানান, ‘শীত এখনও দেড় মাস। মাঘ মাসে বেশি শীত। এই শীত যেমন-তেমন কাপড়ে ঠান্ডা লাগে। আমি জ্যাকেটের নিচেও সোয়েটার পড়ছি; তবুও শীত লাগছে।’

অন্যদিকে, নগরীর সিএন্ডবি মোড়, তালাইমারী মোড়, ভদ্রায়, দরগাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার মোড়গুলোতে তুলনামূলক কম মানুষ দেখা গেছে। শুধু তাই নয়- শীতের কারণে শুধু মাত্র প্রয়োজনের তাগিদে বাইরে থাকা মানুষগুলোকে সড়কে দেখা যাচ্ছে।
রিক্সা চালক লুৎফর রহমান জানান, ‘শীতের কাপড় প্রতিবছরই কেনা লাগে। সোয়েটার পুরানো হলে পাতলা হয়ে যায়; তাতে শীত কমে না। আমরা খোলাগাড়িতে থাকি। বাতাস সরাসরি শরীরে লাগে। তাই বিভিন্ন কাপড়ের সাথে সোয়েটার ও জ্যাকেট পরি। তাও ঠান্ডা লাগছে।’

যাত্রী নকশী জানায়, ‘বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। কী শীত, কী বর্ষা- অফিসে যেতেই হবে। তুলনামূলক শীত পড়ছে বেশি; কাজ না থাকলে বাইরে বের হতাম না।’
রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. পার্থ মনি জানান, হাসপাতালে শীতজনিত রোগির সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসছে। সেবা দিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হচ্ছে নবজাতকদের। শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, কৃষি কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান জানান, শীতে গমের আবাদ ভালো হয়। এবছর রাজশাহী জেলায় প্রায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে গমের চাষ হয়েছে। এ শীত গম চাষিদের জন্য সুসংবাদ বয়ে আনবে বলে মনে করছি। আর একটু শীত বেশি হলে আলুর জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোছা. উম্মে ছালমা বলেন, এখন বোরো ধানের সময়। এবছর বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬ হাজার ১৪০ হেক্টর। এর বীজ তোলার পরিমাণ ৩ হাজার ৭৭৩ হেক্টর। কুয়াশার কারণে ক্ষতি হবে না। পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখছে চাষীরা।