দেশে কমেছে টিকা নিয়ে কুসংস্কার ও অনীহা অসহায় মানুষের জন্য নিবন্ধন সহজকরণে ভাবা উচিত

আপডেট: মার্চ ২, ২০২১, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

দেশে করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে প্রথম দিকে অনেকের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের কুসংস্কার ও অনীহা লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু সেই কুসংস্কার ও অনীহা কাটিয়ে আস্তে আস্তে টিকাদান কর্মসূচি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশে টিকা নিতে অনীহা প্রকাশ করা মানুষের সংখ্যা কমলেও নিবন্ধন নিয়ে অনেকেই দুর্ভোগে পড়ছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসহায় এবং অশিক্ষিত অনেক মানুষদের ব্যাপারে ভাবতে হবে। করোনার টিকা পাওয়ার অধিকার ধনী-দরিদ্র সবারই সমান হলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে কম্পিউটার বা স্মার্টফোন না থাকায় তারা বেশি করে নিবন্ধন করতে গিয়ে ভোগান্তির মধ্যে পড়বে। তাই তাদের জন্য সহজ কোনো পদ্ধতি বের করা উচিত বলে মনে করছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। অনেকেই মনে করছেন, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকার নিবন্ধন সীমাবদ্ধ না রেখে কেবল জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে টিকা গ্রহণের সুযোগ রাখা উচিত। আবার কম্পিউটারের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদে দক্ষ জনবল রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের অসহায় মানুষকে নিবন্ধনের বিষয়ে সাহায্য করতে পারেন। এক্ষেত্রে সরকার থেকে ইউনিয়ন পরিষদে দিকনির্দেশনা দিতে হবে। অন্যদিকে টিকা গ্রহণে অনীহা কাটাতে সরকারকেই বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। স্বচ্ছতার সাথে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। দেশের সর্বস্তরের মানুষকে আস্থার জায়গায় নিতে হবে। কারণ টিকা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার মানে নিজে অনিরাপদ থাকা এবং সমাজ তথা জাতিকেও নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি মধ্যে ফেলে দেয়া।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেয়া তথ্যমতে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে শুরু হওয়া জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে টিকা নিয়েছেন ৩১ লাখ ১০ হাজার ৫২৫ জন। তাদের মধ্যে সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে মাত্র ৭৩৩ জনের।
ভারতে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই টিকার আমদানি প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হলেও টিকাটি নিয়ে অবশ্য দেশে তেমন কোনো সমালোচনা কখনোই হয় নি। ইতিমধ্যেই মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মী, ক্রীড়া ও বিনোদন জগতের তারকাসহ অনেকেই এই টিকার দুটি ডোজের প্রথমটি নিয়ে ফেলেছেন।
ভারত থেকে টিকা আনায় এটা নিতে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনীহা প্রকাশ করেছেন। টিকা কিভাবে এতো দ্রুত পাওয়া গেলো, এর কার্যকারিতা শতভাগ কিনা, টিকা নেয়ার অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা, বয়োজ্যেষ্ঠদের টিকা দিয়ে লাভ আছে-কি-নেই ইত্যাদি অনেক বিষয় নিয়েই অতিকথন বা গুজব ছড়িয়ে পড়েছিলো। টিকা নিয়ে শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের মানুষের মধ্যেও শুরুতে অনীহা ছিল। ধীরে ধীরে সেটা কেটে গেছে। আমরা মনে করি, বিশ্বব্যাপি এই চলমান সঙ্কট উত্তরণে সবাই টিকা নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ