দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে সতর্কের সময়, প্রস্তুতি নেয়ার সময়

আপডেট: জুন ১৮, ২০২২, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। যেখানে সংক্রমণের হার নেমেছিল এক শতাংশের নিচে, তা গত এক সপ্তাহে প্রায় চার শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এটা দেশবাসীর স্বস্তির অবস্থান পাল্টে দিচ্ছে। দুই বছরের ধকল সামলে বাংলাদেশের মানুষ জীবন-জীবিকায় মনোনিবেশ করেছে। ঠিক তখনই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ ও ভাবনার সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণের চাপ সামাল দিতে হাসপাতালগুলোতে বিশেষ শয্যা ও আইসিইউ শয্যা প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন কোভিড সংক্রান্ত সরকারের জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।
১৫ জুন কমিটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি দেশে করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য যে বিশেষ শয্যা, আইসিইউ ব্যবস্থা ও জনবল ছিলো, তা বর্ধিত হারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখার সময় এসেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, বাসার বাইরে সর্বক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা, নো মাস্ক নো সার্ভিস নীতি প্রয়োগ করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম বর্জন করা প্রয়োজন। ধর্মীয় প্রার্থনার স্থানগুলো যেমন- মসজিদ, মন্দির, গির্জাতে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা দরকার। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনসাধারণকে পুনরায় উদ্বুদ্ধ করতে গণমাধ্যমের প্রতিও কমিটি অনুরোধ জানাতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ পরিস্থিতি যে মোটেও সুবিধার নয়- সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কমিটি যে সব সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন, মূলত সরকারের সে নির্দেশনা এখনো বলবৎ আছে। কিন্তু করেনাভাইরাসের প্রকোপ কমে যাওয়ায় মাঠ পর্যায়ে সেটা একেবারে শিথিল অবস্থায় চলে এসেছে। সাধারণের ধারণাও তাই যে, করোনাকালের বোধ করি অবসান হয়েছে!
স্বাস্থ্যমন্ত্রীও করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জনগণকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, আমরা যেভাবে অসতর্ক হয়ে চলাচল করছি, হাসপাতালে রোগী বাড়তে সময় লাগবে না।
করোনা প্রকোপের বাড়বাড়ন্ত শুধু বাংলাদেশেই নয়- প্রতিবেশি দেশ ভারতেও এর ব্যাপক সংক্রমণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ১২ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এটাও বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সে ক্ষেত্রেও পরামর্শ দিয়েছেন যে, বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের জন্য ‘কোভিড নেগেটিভ’ সনদ এবং টিকা সনদ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
সময় থাকতেই সতর্কতা জারি এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ব্যাপারটি সামনে চলে এসেছে। কমিটি সেই তাগিদই দিয়েছেন। এখন দেশবাসীকে পুনরায় করেনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করা এবং স্বাস্থী সুরক্ষা মেনে চলার বিষয়টির প্রতি সময় ক্ষেপণ না করে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ