দেশে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে : লিটন

আপডেট: নভেম্বর ১৩, ২০১৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্য-পুস্তক বিতরণ করছেন, সর্বস্তরের মানুষের জন্য শিক্ষাদীক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করছেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়ছে; তখন জামায়াত-বিএনপি দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষের মনে ভীতি তৈরি করার চেষ্টা করছে। তারা চাচ্ছে এদেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ভেঙে দিতে। তারা জানে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ভেঙে দিলে পাকিস্তান-আফগানিস্তানে পরিণত করা সহজ হবে। এজন্য দেশে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহীর সরকারি মাদ্রাসা মাঠে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের পূর্ববর্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও উন্নয়ন সংক্রান্ত ভিডিও কনফারেন্সে আটটি জেলার মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে এদেশে জঙ্গিবাদের সূচনা করে। তারা রাজশাহীর বাগমারায় মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর এদেশ থেকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন  গড়ে তুলে। এখন আবার নতুনভাবে তারা এদেশের মানুষের ওপর আক্রমণ করছে। হিন্দু সম্প্রদায়-আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ করছে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে এদেশ অসাম্প্রদায়িক। এদেশে সব মানুষ তার সমান মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে। সকল অপশক্তিকে মাটিতে কবর দিয়ে কিংবা বিচারের আওতায় এনে চিরতরে নির্মূল করা হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি বলেন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে প্রত্যেকে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর যে বক্তব্য দিবেন, যে নির্দেশনা দিবেন তা পালন করতে হবে। তবেই দেশে শান্তি বিরাজ করবে। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, যে নির্বাচনী ইশতেহারকে কেন্দ্র করে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করছি, সেই আন্দোলনে আমরা সবসময় থাকব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নেব। এই ঐক্যবদ্ধতার মধ্য দিয়েই দেশ এগিয়ে যাবে। জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। কোনো অপশক্তি দেশের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
রাজশাহী-৪ আসনের সাংসদ প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, বিভিন্ন সময় দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, রুখে দাঁড়িয়েছে। বাগমারায় বাংলা ভাইয়ের মাধ্যমে যে বিভীষিকাময় ভয়ঙ্কর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তা দূর করা হয়েছে। এখন বাগমারায় উন্নয়নের জোয়ার বইছে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও জেলার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।