দেশে দেশে অসহিষ্ণুতা || মানবাধিকার সুরক্ষাই বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বজুড়েই চলছে ভীষণ অস্থিরতা। অসহিষ্ণুতা ছড়িয়ে পড়েছে দেশে দেশে। জাত-পাত-বর্ণ বিদ্বেষ, উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা ক্রমশই জেঁকে বসছে। মানবিক মূল্যবোধ, তিলি তিলে অর্জিত সভ্যতার অহংকার আজ ম্লান হতে বসেছে। স্পর্শকাতরতা, সহমর্মিতার জায়গায় দখল করে নিচ্ছে হিংসা-বিদ্বেষ। এখন বড়ই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সময় পার করছে বিশ্ববাসী।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা বদলের পর থেকেই বিশ্ব এক নতুন অস্থিরতায় মধ্যে পড়েয়ে। এই অস্থিরতাই মানবিক মূল্যবোধের দ্রুত পতন ঘটাচ্ছে। তা হলে সামনে কি যুদ্ধ-বিগ্রহ, হানাহানি-রক্তপাত কিংবা আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ!
গণমাধ্যমের মুখোমুখি দাঁড়ালেই পৃথিবীর পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় তা বোঝা যায়। প্রতিদিনের খবরে এক দেশ আরেক দেশকে হুশিয়ারি, হুমকি, যুদ্ধের দামামা কিংবা আক্রমণ এখন নিয়মিত ঘটনা। এই পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বব্যাপি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ ভীষণভাবে মাথাচাড়া দিয়েছে। সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলা ব্যর্থতায় উগ্রবাদী ধারণা আরো প্রসারিত হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। বিশ্বের দেশে দেশে জাতীয় রাজনীতিতে জন্ম নিচ্ছে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা। গণতান্ত্রিক রাজনীতির মধ্যেই এসব মূল্যবোধহীন ধারণা জায়গা করে নিচ্ছে। উন্নয়কামী দেশগুলোতে জাতীয় রাজনীতিতে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও রক্ষণশীলতা আশ্রয়-প্রশ্রয় লাভ করছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগ- উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, সভ্যতা যেন উল্টো পথে হাঁটেÑ অন্ধকার লক্ষ্য করে।
এমনি ভীতিজনক পরিস্থিতিতে আকস্মিকভাবেই সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব প্রদেশের খান শেইখৌন শহরে সরকারি বাহিনী রাসায়নিক হামলা চালিয়েছে সন্দেহে ৫ এপ্রিল হমস প্রদেশের ওই বিমান ঘাঁটিটিতে ৫৯টি টমাহক ক্রুজ নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির বিমান শক্তির ২০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার হুঁশিয়ার করে বলেছেন, আরো হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার ঘটনায় বিশ্ব পরিস্থিতি এখন টালমাটাল অবস্থায়।  পুনর্বার হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়ানক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুশিয়ার করে দিয়েছে রাশিয়া ও তার মিত্র দেশগুলো। ইতোমধ্যেই উত্তর কোরিয়া যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছে। আঞ্চলিকভাবেও পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হচ্ছে। ভারতের সাথে চিনের, চিনের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের, পাকিস্তানের সাথে ভারতের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি দেশসমূহের জাতীয় রাজনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দেশে দেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তহীন হয়ে পড়ছে, আক্রমণের শিকার হচ্ছে। পৃথিবীতে অভিবাসী মানুষের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। এক ভয়ঙ্কর অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে মানবজাতি। অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য, বিদ্বেষের মুখে মানবিক মূল্যবোধ আজ বিপর্যস্থ। এখনই বিশ্বের শুভবোধসম্পন্ন মানুষের সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে। মানবাধিকার সুরক্ষাই প্রথিবীর মানুষের জন্য এখন প্রধান চ্যালেজ্ঞ। এখানে ব্যর্থ হলে পৃথিবী খুব শিগগিরিই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ