দেশে নতুন মাদক ডিওবি মাদকের বিস্তার কি অপ্রতিরোধ্য?

আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২১, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে। কিন্তু মাদকের বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না। দাদক দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। চাহিদার শেষ নেই, তাই সরবরাহেও ক্ষান্তি নেই। দিনের সাথে পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন ধারণার মাদক জায়গা করে নিচ্ছে। গাজা-চরস-ভাং-আফিম কাল পেরিয়ে হেরোইন, ইয়াবা, আইস আরো কত মাদক বাজার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নতুন আরেকটি মাদক যোগ হয়েছে- সেটি হলো ডাইমেথ অক্সি ব্রোমোঅ্যামফেটামাইন অর্থাৎ ডিওবি। বাজারে ডিওবি নামেই পরিচিতি পেয়েছে। এটি দেখতে অনেকটাই এলএসডির মত। মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ডিওবি মাদকের একটি বড় চালান আটক করেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অধিদপ্তরের মতে বাংলাদেশে এ ধরনের মাদক এই প্রথমবার আটক করা হয়েছে। ভয়াবহ এই মাদক কুরিয়ারের মাধ্যমে পোল্যান্ড থেকে দেশে এসেছে। এটি দেশের তালিকাভুক্ত ‘ক’ শ্রেণির মাদক।

এক তথ্যে জানা যায়, দেশে সেবনকারীরা প্রতিদিন গড়ে ২০ কোটি টাকার নেশাদ্রব্য গ্রহণ করে থাকে। বছরের হিসেব এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৩শো কোটি টাকা। মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে আছে ২ শো গডফাদার। এবং বিক্রির নেটওয়ার্কে কাজ করে ১ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ। প্রতিবছর পাল্লা দিয়ে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মাদক সম্পর্কে জানেন না এমন ব্যক্তি নেই। মাদকের ভয়াবহতা লিখে বা বলে শেষ করা যাবে না। বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এর আগ্রাসনের শিকার দেশের তরুণ ও যুবসমাজ। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে এর চাহিদা রয়েছে, আছে সরবরাহও।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা ও মাদকাসক্তি অনেক বেড়ে গেছে। এটি একটি গুরুতর জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে, সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। তবে যেটা গভীর উদ্বেগের সেটা হলো- সরকার বিষয়টিকে কেবল সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখছে। ফলে করোনাকালীন কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও থেমে নেই মাদক কারবার। মাদকের ভয়ঙ্কর ছোবল কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ, বিপথগামী দেশের তরুণ-তরুণী।

সম্প্রতি দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন মানুষ মাদকাসক্ত। যাদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ শিক্ষিত এবং ৪০ শতাংশ অশিক্ষিত। তবে দেশের বেকার জনসংখ্যারও বেশ বড় অংশ মাদকাসক্ত। এদের মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশ যৌন অপরাধী, যাদের ৭ শতাংশ হলো এইচআইভি ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত।

মাদকের হাতছানি সারাদেশে। শুধু শহরেই নয়, গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে মাদক। তার বিষাক্ত ছোবল শেষ করে দিচ্ছে তারুণ্যের শক্তি ও সম্ভাবনা। সর্বনাশা মাদক ধ্বংস করে একটি মানুষের শরীর, মন, জ্ঞানবিবেক ও তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তার পরিবারের সব স্বপ্নকে এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

মাদকের প্রবেশ ও ব্যবসা রোধে কঠোর পদক্ষেপের বিকল্প নেই। কাজেই মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ