দেশে বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বাড়ছে কার কতটুকু দায়!

আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০২২, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

রাস্তায় যন্ত্রদানবের সন্ত্রাস প্রতিদিনের ঘটনা। সংবাদ মাধ্য সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুও খবর প্রতিদিনের। এ নিয়ে দেশে কম হইচই হয় নাÑ কিন্তু সুরাহা হয় না। প্রতিদিন মর্মান্তিক ঘটনার সাথে দেশবাসীকে পরিচিত হতে হয়। এটা বেদনাদায়ক, উদ্বেগেরও।
ইদানিং পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বাইক দুর্ঢ়টনায় নিহতের সংখ্যা। তরুণ-আধিক্যই এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে। হিরোইজম প্রদর্শন করতে গিয়ে সহসাই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বাইকচালকসহ সহযাত্রী। এরা সড়কে বেশ বেপরোয়া। বাইক ওইসব বেপরোয়া চালকদের হাতে পড়ে দানবে রূপ নেয়। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের করা এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছেÑ গেল সেপ্টেম্বর মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ৪০৭টি। এতে নিহত হয়েছেন ৪৭৬ জন, আর ৭৯৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে নারী ৬২ ও শিশু ৭৭ জন। এছাড়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। দুর্ঘটনায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬২ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। শিক্ষক নিহত হয়েছেন ১৪ জন। এছাড়া দুর্ঘটনায় ১৯-৬৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ৩৮৪ জন, অর্থাৎ ৮০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। বেশ উদ্বেগজনক তথ্য। নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীর মৃত্যুহার গভীর ভাবনার দাবি রাখে।
অপেক্ষাকৃত তরুণ বয়সে মনের মাঝে অনেক বেশি অ্যাডভেঞ্চার আর থ্রিল কাজ করে। এটা অস্বাভাবিক না। কিন্তু এই আবেগের বাস্তবিক গ্রহণযোগ্যতা আদৌ আছে কী না সেটা তরুণ যেমন তেমনি তার অভিভাবকও খতিয়ে দেখেন না। এটা লক্ষ্য করা যায়, অধিকাংশ তরুনেরই বাইক চালালোর যথার্থ সক্ষমতা নেই। এ বিষয়টি অভিভাবকরাও বিবেচনা করেন না। সন্তানের প্রতি বাৎল্যের নিদর্শন স্বরূপ বাইক কিনে দিতে কার্পণ্য করেন নাই। এর ফল অনেকের ক্ষেত্রেই ভাল হয় নি। শোকের গল্প হয়েই তা আছে। এখন তো তরুণের মোটরসাইকেল চালানো যেন একটা ফ্যাশন। একটা বাইক না থাকলে যেন অনেকেরই বন্ধুমহলে মর্যাদা থাকছে না। কখনও কখনও মা-বাবারাও শখ করে কিনে দিচ্ছেন আবার কখনওবা ছেলে বাধ্য করছে কিনে দেবার জন্যে।
বাইকে ওঠার পর সে ছেলে আর নিজের মধ্যে থাকে না। সে যেন হয়ে যায় হলিউডের কোনো নায়ক। ডুবে যায় ফ্যান্টাসিতে। সামনের মানুষ, গাড়িঘোড়া, সিগন্যাল আর কিছুকেই যেন সে তোয়াক্কা করে না। যার ফলশ্রুতিতে পঙ্গু হাসপাতাল আর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো ভরে যায় তাদের নিহত ও আহত ক্ষতবিক্ষত শরীরে।
বিষয়টি তরুণদের যেমন বোঝার দরকার, তারচেয়েও বেশি বোঝার দরকার অভিভাবকের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ