‘দেশ ও মানুষকে ভালোবেসে যুদ্ধ করেছি’

আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০১৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


images
দীর্ঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নিজের জীবন বাজি রেখে যারা মা, মাটি ও মানুষের অস্তিত্ব রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাদেরই একজনের নাম আমজাদ হোসেন। সেই নয় মাসের যুদ্ধে জয়ী হলেও আজ ৭০ বছর বয়সে এসে তিনি সংসার জীবনে পরাজিত এক সৈনিক। পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনের শেষ মুহূর্তে তিনি এক অসহায় স্বীকৃতি না পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা।
জানা যায়, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার গোচর গ্রামে ১৯৪৭ সালে মৃত ময়েন উদ্দিন প্রামানিকের ঘরে জন্ম নেন আমজাদ হোসেন।
আমজাদ হোসেন বলেন, আমার বসয় যখন ২৪ তখন শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দেশ, মাটি আর মানুষের টানে সেই দিন ঘরে বসে থাকতে পারিনি। মা-বাবার নিষেধ সত্বেও জোর করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই দেশের ভালোবাসার টানে। ৭ নম্বর সেক্টরে কর্নেল ওসমাস গনির অধীনে প্রথমে ভারতের শেখ পাড়ায় এক মাস, পরে মালদহের আদমপুরে এক মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধ করি পাক সেনাদের বিরুদ্ধে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করলাম অথচ এই স্বাধীন দেশে আজ আমার মাথা গোঁজার মতো একটু জায়গা  পেলাম না।
তিনি বলেন, মালদহের আদমপুরে এক মাস প্রশিক্ষণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। দেশ স্বাধীনের পর আড়ানী এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সমিতি গঠন করেন। সেই সমিতিতে সার্টিফিকেট জমা দিলে ঋণ দেয়া হবে। তিনি ঋণের জন্য সার্টিফিকেট জমা দিয়ে আর ফেরত পান নি।
দেশ স্বাধীন হওয়ার কিছুদিন পর পেটের তাগিদে তিনি ১৯৭৮ সালে আড়ানী মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ে এমএলএসএস পদে মাসিক ১২০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেন আমজাদ হোসেন। তিনি ২০০০ সালে অবসর গ্রহণ করেছেন। আমজাদ হোসেনের  তিন ছেলে ও দুই  মেয়ে।  ছেলেদের বিয়ে  দেয়ার পর তারা যার যার সংসার নিয়ে আলাদা হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে এক বেলা থেয়ে না খেয়ে কোন রকম বেঁচে আছেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি উপজেলার নিজ বাড়ি আড়ানী গোচর উত্তরপাড়া গ্রামের জামে মসজিদের মোয়াজিম হিসেবে কর্মরত আছেন।  এখান থেকে প্রতি মাসে ১২০০ টাকা পান। এই টাকা দিয়ে কোন রকম দিন পার করছেন। এছাড়া তার স্ত্রী চায়না বেগম অসুস্থ। তার জন্য প্রতিদিন ১২ টাকা থেকে ১৫ টাকার ওষুধ লাগে। বর্তমানে তিনি সরকারী বরাদ্দের কোন ভাতাও পান না বলে জানান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যদি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে সরকারী বরাদ্দের টাকা প্রতি মাসে পেতাম তাহলে অন্তত স্ত্রীর চিকিৎসা ভালোমতো করতে পারতাম।