দেশ বিক্রির রাজনীতি || বিএনপির ভ্রান্তি বিলাসের শেষ কবে?

আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০১৭, ১১:৫২ অপরাহ্ণ

সেই ভ্রান্তিবিলাস আর ভারত বিরোধিতার রাজনীতিÑ বিএনপির অস্থিমজ্জায়, এখনো। অগ্রসর চিন্তা, ভবিষ্যত মুখিনতার আশপাশ দিয়েই হাঁটতে চায় না দলের নেতৃত্ব। সনাতনি কুপম-কতার আবরণ থেকে দলটি বেরিয়ে আসতে পারছে না। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে মানুষ বদলাচ্ছে, মানুষের চিন্তা ও কৌশল পদ্ধতি বদলাচ্ছেÑ বদলাচ্ছে জ্ঞান প্রযুক্তির ধারাÑ শুধু বদলায় না বিএনপির পশ্চাদপদ রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণা। বিএনপি বদলাচ্ছে না বলে দলটির ভাবষ্যত আবছা- অন্ধকারই প্রকট হয়ে আসেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সফর করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে এ পর্যন্ত মোট ৩৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। যদিও এর আগে মোট ২২টি চুক্তির কথা বলা হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এবং ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বিষয় নিয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন ও মুখপাত্রগণ যে সব কথা বলছেন তার সবই চর্বিত চর্বন। যে সব বক্তব্যের সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক কোনো সারসংক্ষেপ নয়Ñ যা যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য খুবই প্রয়োজন। বাংলাদেশ-ভারত এমওইউ ও চুক্তি সম্পাদনের পর বিএনপি চেয়ারপার্সন যে বিষোদগার উদগীরন করেছেন তা সেই একই কুমিরের বাচ্চা বার বার দেশের মানুষের কাছে প্রদর্শন করার মতই। একই কুমির ছানা দেশের মানুষ স্বাধীনতার পর থেকেই দেথে আসছে কিন্তু এর বাস্তবভিত্তি আজো পাওয়া যায় নি। অর্থাৎ ‘ভারতীয় জুজু’ বিএনপি নেতৃত্বের মস্তিস্ক ছাড়া অন্য কোথাও লক্ষনীয় নয়। মনস্তাত্বিক বিকারের একটি অনুসঙ্গও এটি।
শনিবার রাতে এক অনুষ্ঠানে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির বিষয়ে ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ক্ষমতায় থাকতে আওয়ামী লীগ দেশ বিক্রি করে দিয়েছে।  দেশের অন্যতম বড় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান যদি দায়িত্বহীন- অসাড় বক্তব্য দেন তা হলে জনগণের ভবিষ্যত কী? দেশ কীভাবে বিক্রি হলো, কোন কোন কারণে বা কোন চুক্তির কারণে বিক্রি হয়ে গেল কিংবা একটি দেশ বারবার বিক্রি হয় কীভাবেÑ তার সদুত্তর তো বিএনপি দিচ্ছে না। শুধু কথার কথা বললেই হবে নাÑ এর জন্য জাতির কাছে যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে, জনগণকে সংগঠিত করতে হবে। দেশ বিক্রির সমর্থনে বিএনপির কাছে কি কোনো প্রমাণ আছে? যদি থাকে তাহলে তারা জনগণের কাছে তুলে ধরছে না কেন?
বিএনপির রাজনীতিতে দেশবিক্রির এই ফর্মূলা নতুন কিছু নয়। দলটির জন্মের মধ্যেই ভারত বিরোধিতার মনস্তাত্বিক ধারণা লালন-পালন করে আসছে। এর মধ্যে যে শুধু জাতীয় ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রেই নয় বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক ধারণার বিস্তর পরিবর্তন ঘটে গেছে। এই পরিবর্তনের সাথে নিজেদের মেলাতে ব্যর্থ হলে তাকে পশ্চাদপদ হতেই হবে। গঙ্গা চুক্তি যে মুহূর্তে হয় তখনও বিএনপি বলেছিল দেশকে ভারতে কাছে বিক্রি করে দেয়া হলো। পার্বত্য শান্তিচুক্তিকালে বিএনপির বক্তব্য ছিল এই চুক্তি হলে বাংলাদেশ ফেনী পর্যন্ত ভারতের দখলে চলে যাবে।  উভয় চুক্তির দীর্ঘ সময়ের পরেও বাংলাদেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জায়গায় অটুট আছে। শুুধু তাই নয়- বিশ্বে বাংলাদেশ এখন একটি মর্যাদার দেশ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। অথচ উল্লিখিত দুটি চুক্তির পর বিএনপি সরকার পরিচালনা করেছে কিন্তু তাদের সেই দেশবিক্রির চুক্তি বাতিল করেনি কিংবা চুক্তির ফলে বাংলাদেশ কোনে কোনে দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাও দেশবাসীর কাছে তুলে ধরেন নি।
বিএনপি ক্ষমতার বাইরে আছে এক দশেকেরও বেশি সময় ধরে। জাতীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কূটনীতির সর্বত্রই বিএনপি রাজনীতির অন্তঃসারশুন্যতাই জাতির কাছে প্রকট হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বিএনপি অবস্থা ‘ না ঘর কা না ঘাট কা’। দিশেহারা বিভ্রান্তির মধ্য দিয়েই দলটি মশগুল আছে। এই মায়াজাল ছিন্ন করে বাস্তবতার আলোকে বিএনপি ফিরবে কিÑ না কখনো ফিরতে পারবে, সময়ই বলে দিবে। ততদিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ