দেয়ালে লিখে প্রতিবাদ রাবি’র প্রগতিশীল ছাত্র নেতাদের

আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২২, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক:


বিভিন্ন অন্যায়-অবিচার, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সচেতনতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম-দূর্নীতি, নারীদের উপর সহিংসতা, খাবারের মান বৃদ্ধি, রাকসু নির্বাচনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদী দেয়াল লেখার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রগতিশীল ছাত্র-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এসব প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশন, নাগরিক ছাত্র ঐক্য, ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।

সরেজমিনে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশের দেয়াল, টিএসসির দেয়াল, বিজ্ঞান কারিগরি ভবন, রাকসু ভবনের দেয়াল, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের পাশের দেয়াল, কাজলা গেইট দিয়ে ভিতের প্রবেশের দেয়াল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবন, সিরাজী ভবনের পাশের দেয়াল, বিনোদনপুর গেইটের পাশের দেয়াল, মতিহার হলের পাশের দেয়ালসহ বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও হলগুলোর দেয়ালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে দেয়াল লিখনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।

এসব দেয়াল লিখনির মধ্যে রয়েছে, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’, ‘উন্নয়নের যাঁতাকলে ছাত্র মরে শ্রমিক মরে’, ‘রাকসুর ফি যায় কোথায়, প্রশাসন জবাব দাও’, ‘কল্যাণ রাষ্ট্রের শপথ নিন’, ‘নারী প্রতিরোধের মিছিল তুমি সবচেয়ে নিরাপদ’, ‘শিক্ষাখাতে শতাংশ বরাদ্দ চাই’, ‘লাইব্রেরী ২৪ ঘন্টা খোলা চাই’, ‘শিক্ষা শেষে কর্মসংস্থান চাই’, ‘মানুষ স্বপ্ন নিয়ে বাঁচে আমরা স্বপ্ন দেখি মানবিক বিনির্মামের’, ‘আড্ডায় বাধা দেওয়া যাবে না, টর্চলাইট মারা বন্ধ করো’, ‘খাবারের মান বৃদ্ধি করো, পর্যাপ্ত ভর্তুকি দাও’, ‘অবিলম্বে রাকসু নির্বাচন চাই’ এমন আরো বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেয়ালে লিখে রেখেছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেয়াল লিখন বাংলাদেশ রাজনৈতিক চর্চার এক অন্যতম নিদর্শন যা অনেক বছর ধরেই চলছে। শিক্ষার্থীদের অধিকার বিষয়ে সচেতন করার জন্যই মূলত দেয়াল লিখন। বর্তমান যুগে অনলাইন মিডিয়া সব সহজ করে দিয়েছে। কিন্তু অতীতে যখন প্রযুক্তির বিকাশ ঘটেনি তখন রাজনৈতিক সংগঠন ও জনগণের মাঝে যোগোযোগের মাধ্যম ছিলো দেওয়াল লিখন, প্রচার মিছিল, লিফলেট বিতরণ ও পত্রিকায় কলাম লিখন ইত্যাদি। বিভিন্ন প্রোগ্রামে দাবি দাওয়া উপস্থাপনে করলে তা সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের কাছে পোঁছান। কিন্তু দেয়াল লেখনির মাধ্যমে সেই দাবিগুলো সকলের কাছে পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র-সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহবায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, দেয়াল লিখন আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটা অংশ। পাকিস্তানী শাসনামলে এই চর্চাটা বেশি ছিল। বিভিন্ন জুলুম-নিপীড়ন এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের ওলিগলি ও রাস্তার দু-পাশের দেয়ালজুড়ে বিভিন্ন শ্লোগান লিখতো। বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে এই চর্চাটা বেশি ছিল, যা এখনও তারা অব্যাহত রেখেছে। প্রশাসনের বাঁধা-নিষেধের ফলে অনেকটাই কমে গেছে এই চর্চা। এখন বেশিরভাগ দেয়াল সরকারী ছাত্র সংগঠনের একক প্রচার এবং বিভিন্ন কম্পানির বিজ্ঞাপন চিত্রের দখলে চলে গেছে। ফলে এর নান্দনিকতা হারাচ্ছে। এই সৃজনিক চর্চা টিকিয়ে রাখাটাও জরুরী।

নাগরিক ছাত্র ঐক্যের সভাপতি মেহেদী হাসান মুন্না বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেওয়ালে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেওয়াল লিখন অব্যাহত রেখেছি। ক্যাম্পাসের অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহ যেখানে তুলনামূলক শিক্ষার্থীদের পদচারণা বেশি সেইসব দেওয়ালে আমরা বিভিন্ন অন্যায়, অবিচার ও অসংগতি তুলে ধরেছি। এতে করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে এক প্রকার প্রতিবাদী চেতনা জাগ্রত হচ্ছে। জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এখানে পরিমার্জিত রাজনৈতিক প্রতিবাদের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনে অরাজকতা পরিহার করে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রেখে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন মিলন জাগো নিউজকে বলেন, রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও চর্চায় দেয়াল লিখন অপরিহার্য অংশ। বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও রাজনৈতিক দর্শন নির্মাণে দেয়াল লিখন বড় প্রভাবক। বাংলাদেশের সূচনালগ্ন থেকে আজ অবধি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে এই দেয়াল লিখন। গণতান্ত্রিক চর্চা ও চিন্তার পরিধিকে বিকশিত করার লক্ষ্যে আমরা ছাত্র ফেডারেশন এই কাজটা করে থাকি। যার মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীসহ জনগণের বিভিন্ন দাবিকে তুলে ধরা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড.মো. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন যাবত যেহেতু এই দেয়াল লিখন বিষয়টি হয়ে আসছে তা একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব না। দেয়াল লিখন বা পোস্টার টাঙানোর জন্য আমরা ৯ টি পয়েন্ট দিয়েছি যাতে তারা সেখানে এ কাজগুলো করতে পারে। প্রয়োজন হলে আরও জায়গা দেওয়া হবে। তবুও ক্যাম্পাস পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুক এটাই আমাদের শিক্ষার্থদের কাছে আমার প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ