দৈনিক ৩ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন || মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে কর্মমূখর পরিবেশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

দিনাজপুর প্রতিনিধি


উত্তোলিত পাথর ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে-সোনার দেশ

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দেশের একমাত্র কঠিন শিলা খনি মধ্যপাড়ায় পুরোদমে পাথর উত্তোলন শুরু হয়েছে। খনি এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে কর্মমূখর পরিবেশ। আশেপাশে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যপাড়া পাথর খনি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির প্রধান ফটকের সামনে ট্রাকের দীর্ঘ লাইন। পাথর নিতে এসব ট্রাক ইয়ার্ডে অপেক্ষমান।
মধ্যপাড়া কাঠনশিলা প্রকল্পের খনি থেকে পাথর উৎপাদন ও উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোটিয়াম (জিটিসি) দ্বারা নতুন স্টোপ থেকে আকার ভিত্তিক পাথর উত্তোলন শুরু করেছে। একই সাথে আরো নতুন স্টোপের উন্নয়ন কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। জিটিসি কর্তৃপক্ষ বলছেন, খনির উন্নয়ন ও উৎপাদনের কাজ দিন-রাত তিন শিফটে ২৪ ঘন্টায় চলছে পূর্বের তুলনায় দ্বিগুন হারে। এর ফলে দৈনিক ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। খনি এলাকার পুরো উন্নয়ন কাজ শেষ হলে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়বে দৈনিক ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার মেট্রিক টন।
খনি সুত্রে জানা গেছে, বর্তমানে খনিটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসির অধিনে বেলারুশিয়ান কোম্পানীর ৭২ জন খনি প্রকৌশলী, ৫০ জন স্থানীয় প্রকৌশলী ও ইন্টারপ্রিটার, ১৫০ জন স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পাচঁ’শ জন খনি শ্রমিকসহ ৮৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ৮ ঘন্টা করে ৩ শিফটে কাজ করছেন।
খনির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি কর্তৃপক্ষ জানান, বিদেশ থেকে আধুনিক ও বিশ্বমানের যন্ত্রপাতি আমদানী করে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাস থেকে নতুন স্টোপ নির্মান কাজ শুরু করে। মাত্র ১০ মাসে নতুন তিনটি স্টোপ (পাথর উৎপাদন ইউনিট) এর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ন করে ৬ নম্বর স্টোপ থেকে ৩ শিফটে পাথর উত্তোলন শুরু করে।
জিটিসি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে বলেন, পেট্রোবাংলার অধিনস্থ মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষ বিদেশী আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানী করার প্রক্রিয়া বিলম্ব করায় খনিটির উৎপাদন পিছিয়েছে। তবে জিটিসির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষ। মধ্যপাড়া কঠিনশিলা প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. মাহমুদ হাছান বলেন, যথা সময়ে মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিদেশী যন্ত্রপাতি আমদানীর জন্য এলসি খোলা হলেও, তিন মাস থেকে এক বছর বিলম্ব করেছে জিটিসি কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য মধ্যপাড়া কঠিনশিলা প্রকল্পটি ২০০৮ সাল থেকে উৎপাদন শুরু করে। শুরুতে প্রতিদিনের উৎপাদন ২ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন হলেও ২০১২ সালে এসে প্রতিদিনের উৎপাদন দাড়াঁয় মাত্র ৮০০ মেট্রিক টনে। এতে বড় রকমের লোকশানের মুখে পড়ে এই সম্ভাবনাময় পাথর খনিটি। এই কারণে ২০১৩ সালের শেষ সময়ে এসে বেলারুশ ভিক্তিক জয়েন্ট ভেঞ্জার কোম্পানী, জার্মানীয়া ট্রাস্ট কনসোটিয়াম (জিটিসি) এর সাথে খনিটির উৎপাদন ও উন্নয়নের চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৪ সালে খনিটির উৎপাদন ও উন্নয়নের দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন বর্তমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি। জিটিসি দায়িত্ব নেয়ার পরেই ৩ শিফটে পাথর উত্তোলনের কাজ শুরু করে। ৩ শিফটে পাথর উত্তোলন শুরু হওয়ায় প্রতিদিনের পাথর উত্তোলন দাঁড়ায় সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টনে। এতে খনিটি লোকশানের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করে। কিন্তু উৎপাদন যন্ত্রের অভাবে ২০১৫ সালে আবারো পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। পাথর উত্তোলন বন্ধ হওয়ার পর খনিটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি বিদেশ থেকে আধুনিক বিশ্বমানের খনিজ যন্ত্র আমদানী করে ও নতুন স্টোপ তৈরি করে। বর্তমানে নতুন করে তৈরি করা নতুন স্টোপ থেকে আবারো পুরোদমে পাথর উত্তোলন শুরু করেছে।
জিটিসি বলছে, পিছিয়ে যাওয়া মধ্যপাড়া পাথর খনিটি এগিয়ে নেয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বেলারুশিয়ান দক্ষ খনি প্রকৌশলীরা। মধ্যপাড়ার পাথর দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশ থেকে পাথর আমদানী বন্ধে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সম্ভবনা রয়েছে। খনি অঞ্চলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবাহ গতি পেয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ