দোষীদের শাস্তির দাবিতে নগরীতে আদিবাসীদের অবস্থান কর্মসূচি ।। গোবিন্ধগঞ্জে বাগদাফার্মে হামলা

আপডেট: মার্চ ৭, ২০১৭, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের আদিবাসীদের ওপর হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হয়রানির প্রতিবাদে নগরীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আদিবাসীরা। রাজশাহী জেলা আদিবাসী পরিষদের উদ্যোগে গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় রাজশাহী কোর্ট শহিদ মিনার চত্বরে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানানো হয়।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক গণেষ মার্ডি, দফতর সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, রাজশাহী মহানগর সভাপতি সুমিলা টুডু, তানোর থানা সভাপতি কর্নেলিউস মার্ডি, আদিবাসী যুব পরিষদ রাজশাহী জেলা যুগ্মআহব্বায়ক হুরেন মুরমু, আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিভূতি ভুষণ মাহাতো, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হেমন্ত চন্দ্র মাহাতো, সদস্য তরুন মুন্ডা।
এছাড়াও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু, বাংলাদেশ যুবমৈত্রী রাজশাহী জেলা সভাপতি মনির উদ্দিন পান্না, একাত্তরের ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির রাজশাহী জেলা সভাপতি শাহজাহান আলী বরজাহান, মুক্তিযোদ্ধা চেতনা বাস্তাবায়ন মঞ্চ রাজশাহী মহানগর সভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, গত ৬ নভেম্বর বাগদাফার্মে আদিবাসীদের ওপর হামলা, মামলা, লুটপাট, খুন, উচ্ছেদ ও হয়রানির ঘটনা সংবিধান, মানবিকতা ও আইন সবকিছুকেই লঙ্ঘন করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করতে পারেনি। গত ২৩ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দদের মধ্যেকার বৈঠকে আদিবাসীদের আশ্বাস দিলেও কোনো ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি।
বক্তারা দাবি জানান, আক্রান্ত আদিবাসীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে। বিনষ্ট করা ক্ষেতের ফসল, পুকুরের মাছের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণ নিশ্চয়তাসহ আবারো তাদের নিজ বাসভূমে স্থায়ীভাবে বসবাসের নিশ্চয়তা দিতে হবে। পুড়ে যাওয়া বাসস্থান, স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অবিলম্বে তৈরি এবং ফার্ম এলাকার আদিবাসীদের বসত ঘেঁষা কাঁটাতারের বেড়া তুলে দিতে হবে। হামলায় পরিকল্পনাকারী, ইন্ধনদাতা ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান বক্তারা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ