দ্বন্দ্ব আর কোন্দলে রাজশাহী বিভাগে বিপর্যস্ত বিএনপি ৩৯ আসনে শতাধিক প্রার্থী

আপডেট: জুলাই ২৭, ২০১৭, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

তানজিমুল হক


এগিয়ে আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে প্রত্যেকটি দলের নেতাকর্মীরাই উজ্জীবিত। প্রত্যেক দলই চাইছে তাদের প্রার্থীরা বিজয়ী হোক। আর এ নিয়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রত্যেকটি বড় দলেরই হাইকমান্ড সংসদীয় আসনগুলোতে তাদের প্রার্থী বাছাই করতে শুরু করেছে। আর এর অংশ হিসেবে থেমে নেই বিএনপিও। রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে বিএনপি। আর ৩৯ আসনের বিপরীতে দলটির শতাধিক আগ্রহী প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও এবারের নির্বাচনে যাবে বিএনপি। আর নির্বাচনে যাবার প্রস্তুতি হিসেবে প্রার্থী বাছাই শুরু করেছে দলটির হাইকমান্ড। কিন্তু সারা দেশের মতো রাজশাহী বিভাগেও দলীয় নেতাকর্মীদের কোন্দল, দ্বন্দ্ব, পারস্পরিক অবিশ্বাস আর গ্রুপিঙের কারণে বিপর্যস্ত দলটি। আর একারণেই প্রত্যেকটি আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা অনেক বেশি। মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতার সংখ্যা বেশি হবার কারণে প্রত্যেকটি আসনে বাড়ছে দ্বন্দ্ব। নেতাকর্মীরা হয়ে পড়েছেন বিভক্ত। এ অবস্থায় রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বিচ্ছিন্ন  দলটি আগামি নির্বাচনে কতটুকু ভালো ফলাফল করবে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা ও তাদের সমর্থকদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, বিভেদ, সন্দেহ আর কোন্দল সম্পর্কে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। নিজের দলের নেতাকর্মীরাই একে অপরকে সম্পর্কে বিষোদগার করছেন। করছেন গ্রুপিং। ফলে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। আর এর ফলে ভেঙে পড়ছে সাংগঠনিক কাঠামো। আর বিপর্যস্ত এ সংগঠন নিয়ে নির্বাচনে কতটুকু ভালো ফলাফল আসবে- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলা নিয়ে রাজশাহী-১ আসন। এ আসনে সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত সচিব জহুরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক যুববিষয়ক সম্পাদক সাজেদুর রহমান মার্কনি ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির যুগ্মসম্পাদক অধ্যাপক শাহাদৎ হোসেন শাহিন মনোনয়ন প্রত্যাশী। আর এ মনোনয়নের দৌড়ে ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও সাবেক সচিব জহুরুল ইসলাম গণসংযোগ করছেন। অন্য তিন প্রার্থীও পিছিয়ে নেই। আর একারণে এ আসনে ইতোমধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
রাজশাহী নগরীর পুরো এলাকা নিয়ে রাজশাহী-২ (সদর) আসন। সাবেক এমপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু এ আসনের প্রার্থী। এ আসনে মিনুর পাশাপাশি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি রিজভী আহমেদের নাম শোনা যা”েছ। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় নির্দেশে মিজানুর রহমান মিনুর প্রার্থীর হবার সম্ভাবনাই বেশি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নগর বিএনপির নেতৃত্বে নিয়ে মিনু বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন বলে নেতাকর্মীদের অভিযোগ রয়েছে। নগর বিএনপির সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সঙ্গে মিনুর দ্বন্দ্ব এখন ওপেন সিক্রেট। বিরোধের এ ইস্যুটি মিনুকে ভোগাতে পারে বলে ধারণা করছেন নেতাকর্মীরা। আর একারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেকায়দায় পড়তে পারেন বিএনপির ‘অতি কৌশলী ও ম্যানেজ ম্যান’ হিসেবে খ্যাত মিজানুর রহমান মিনু।
পবা ও মোহনপুর নিয়ে রাজশাহী-৩ আসন। আর এ আসনটিকে টার্গেট করেছেন বিএনপির ‘বহিরাগত’ মনোনয়ন প্রত্যাশিরা। এ আসনে যারা মনোনয়ন চাইছেন, তারা সকলেই অন্য এলাকার বাসিন্দা। এ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশিরা হলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবির হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কামরুল মনির, বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু। এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশির সংখ্যা বেশি হবার কারণে দলটির মধ্যে বিরোধ ইতোমধ্যে প্রাকাশ্যে এসেছে।
বাগমারা উপজেলা নিয়ে রাজশাহী-৪ আসন। এ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশিরা হলেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাবেক সাংসদ অধ্যাপক আবদুল গফুর ও জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু। তবে সাবেক সাংসদ সচিব আবু হেনাও মনোনয়ন লাভের চেষ্টা করছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভের চেষ্টা করায় আবু হেনার প্রতি সাধারণ নেতাকর্মীরা অসন্তুষ্ট। এছাড়া আসনটিতে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোও দুর্বল। আর নেতাদের দ্বন্দ্বের কারণে এ আসনটিতে নেতাকর্মীরাও বিভক্ত। ফলে এ বিভক্তি কাটিয়ে উঠে বিএনপির জেতার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পুঠিয়া-দুর্গাপুর নিয়ে রাজশাহী-৫ আসন। এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, সাবেক সাংসদ নাদিম মোস্তফা, সাবেক সাংসদ আবদুস ছাত্তার মণ্ডল, জেলা বিএনপির সহসভাপতি নজরুল ইসলাম মণ্ডল, পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জুম্মা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু বকর সিদ্দিক। তবে এ আসনে বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফার সঙ্গে সকল মনোনয়নপ্রত্যাশিরই রয়েছে চরম বিরোধ। একারণে এ বিরোধ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আরো প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
বাঘা-চারঘাট উপজেলা নিয়ে রাজশাহী-৬ আসন। এ আসনে দলের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চারঘাট উপজেলার চেয়ারম্যান আবু সাইদ চাঁদ, বাঘা উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুজ্জামান খান মানিক, জেলা বিএনপির সহসভাপতি বজলুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন এবং জেলা যুবদলের আহবায়ক সাবেক ছাত্রদল নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশিদের মধ্যে রয়েছে চরম দ্বন্দ্ব। আর একারণে নেতাকর্মীরা হয়ে পড়েছেন বিভক্ত।
লালপুর ও বাগাতিপাড়া নিয়ে নাটোর-১ আসন। এ আসনে বিএনপি থেকে বেশ কয়েকবার সাংসদ নির্বাচিত হন সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটল। এ আসনে এবার মনোনয়নপ্রত্যাশি পটলের স্ত্রী কামরুন নাহার শিরিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, জেলার সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা নয়ন ও ছাত্রদলের সহসভাপতি তরিকুল ইসলাম টিটু। তবে এ আসনে তাইফুল ইসলাম টিপুর সঙ্গে অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশিদের বিরোধ রয়েছে।
নাটোর শহর ও সদর উপজেলা নিয়ে নাটোর-২ আসন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী এক রকম চূড়ান্তই হয়ে আছে। জেলা বিএনপির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু একক প্রার্থী এখানে। তবে কোনো কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ না নিলে বিকল্প হিসেবে থাকছেন তার স্ত্রী জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন ছবি। উত্তরবঙ্গ তথা রাজশাহী বিভাগে বিএনপির এ আসনটিতেই দুলুর বিপরীতে কোন প্রার্থী নেই বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
সিংড়া উপজেলা নিয়ে নাটোর-৩ আসন। এ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে চান জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাবেক সাংসদ কাজী গোলাম মোরশেদ, সিংড়া পৌর বিএনপির সভাপতি শামিম আল রাজী, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহীন ও সিংড়া উপজেলা বিএনপির যুুগ্মসম্পাদক জিয়াউর রহমান লেনিন। তবে এ আসনে সাবেক সাংসদ কাজী গোলাম মোরশেদ অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশিদের বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধ দীর্ঘদিনের। আর এ মনোনয়নকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষরেও আশঙ্কা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা নিয়ে নাটোর-৪ আসন। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন, সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপির সভাপতি মোজাম্মেল হক, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ও স্থানীয় নেতা গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল আজিজ। তবে এ আসনে সাবেক সাংসদ মোজাম্মেল হকের মনোনয়ন পাবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আর একারণে মনোনয়ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার আংশিক অংশ নিয়ে পাবনা-১ আসন। এ আসনটি এর আগে বিএনপির প্রধান শরিক জোট জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে এবার সাবেক সাংসদ মেজর (অব) মঞ্জুর কাদের মনোনয়ন পেতে পারেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা আবদুল আজিজ ও বিএনপি নেতা ইউনুস আলীও প্রার্থী হতে আগ্রহী। আর এই তিন নেতার মনোনয়ন দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
সুজানগর-বেড়া উপজেলার আংশিক অংশ নিয়ে পাবনা-২ আসন। সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট একেএম সেলিম রেজা হাবিব, বিএনপিপš’ী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের মহাসচিব হাসান জাফির তুহিন ও পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবদুল হালীম সাজ্জাদ এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশি। তবে এ আসনে অ্যাডভোকেট একেএম সেলিম রেজা হাবিবের মনোনয়ন পাবার সম্ভাবনা বেশি বলে ধারণা করছেন নেতাকর্মীরা।
চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর নিয়ে পাবনা-৩ আসন। এ আসনে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক বয়েন উদ্দীন মিয়া, সাবেক সাংসদ কেএম আনোয়ারুল ইসলাম ও বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান ফখরুল আযম প্রার্থী হতে আগ্রহী। আর এ আসনের তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশি হেভিওয়েট প্রার্থী হবার কারণে নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-৪ আসন। এ আসনে জেলা সভাপতি সাবেক সাংসদ সিরাজুল ইসলাম সরদার, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব ও শিল্পপতি আকরাম আলী খান সঞ্জু প্রার্থী হতে আগ্রহী। তবে এ আসনে সাবেক সাংসদ সিরাজুল ইসলাম সরদার ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের রাজনৈতিক তৎপরতা চোখে পড়ার মত। আর এ দুই নেতাকে কেন্দ্র করে এ আসনে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
পাবনা শহর ও সদর উপজেলা নিয়ে পাবনা-৫ আসন। এ আসনে একক প্রার্থী হতে পারেন দলের চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শিমুল বিশ্বাসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিতর্কিত হবার কারণে এ আসনে বিএনপি বিকল্প প্রার্থীর সন্ধানে রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা নিয়ে বগুড়া-১ আসন। এ আসনে বিএনপি দলীয় তিনজন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ শোকরানা, সংস্কারপন্থি’ হিসেবে পরিচিত সাবেক সাংসদ আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান আহসানুল তৈয়ব জাকির।
শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে বগুড়া-২ আসন। এ আসনে সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট একেএম হাফিজুর রহমান পুনরায় মনোনয়নপ্রত্যাশি। এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তরুণ রাজনীতিবিদ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিবগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মীর শাহে আলম।
আদমদিঘি ও দুপচাঁচিয়া নিয়ে বগুড়া-৩ আসন। এ আসনে সাবেক সাংসদ আবদুল মোমিন তালুকদার খোকা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে থাকায় তার অনুসারীরা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে এ আসনে খোকা ছাড়াও উপজেলা বিএনপির সদস্য সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল দলীয় সমর্থন পেতে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খোকা পলাতক। সে ক্ষেত্রে তার ছোটভাই বর্তমানে আদমদিঘি উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মহিত তালুকদার প্রার্থী হতে পারেন। এ আসনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট।
কাহালু-নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে বগুড়া-৪ আসনে সাবেক সাংসদ প্রকৌশলী জেড আই মোস্তফা আলী মুকুল, জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রাফী পান্না, জেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোশারফ হোসেন মনোনয়নপ্রত্যাশি। এ ছাড়া সাবেক সাংসদ ডা. জিয়াউল হক মোল্লার এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকলেও সংস্কারপন্থি হওয়ায় বিগত নির্বাচনে বিএনপি তাকে মনোনয়ন দেয়নি। বর্তমানে তিনি দলে ফেরার চেষ্টা করছেন। তিনি দলে ফিরলে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন এমনটি প্রায় নিশ্চিত। আর তাকে মনোনয়ন দিলে দলীয় বিভেদ আরো প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে নেতাকর্মীরা ধারণা করছেন।
শেরপুর ও ধুনট উপজেলা নিয়ে বগুড়া-৫ আসন। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশিদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক শেরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কেএম মাহবুবার রহমান হারেজ, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জানে আলম খোকা, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আনোয়ারুল ইসলাম শাহিন। এ ছাড়া সংস্কারপন্থি হিসেবে গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ দলে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
বগুড়া শহর ও সদর উপজেলা নিয়ে বগুড়া-৬ আসন। এ আসনে বরাবরই নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এবারও তিনি এ আসনে ১৮ দলীয় জোটের একমাত্র প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন জোটের নেতারা।
গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে বগুড়া-৭ আসন। এ আসনেও ১৮ দলীয় জোটের সবাই খালেদা জিয়ার পক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। এখানে বিএনপির নেতৃত্বে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হলেও নির্বাচনে দলীয় স্বার্থে গাঁটছড়া বেঁধে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান হওয়ার কারণে এ আসনে বেগম জিয়াই প্রার্থী হবেন। তবে আইনগত জটিলতা না থাকলে তারেক রহমান হতে পারেন এ আসনের শক্তিশালী প্রার্থী।
জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা নিয়ে জয়পুরহাট-১ আসন। এ আসনে সাবেক সাংসদ জেলা সভাপতি মোজাহার আলী প্রধান, সহসভাপতি ফজলুর রহমান ও অধ্যক্ষ শামসুল হক মনোনয়নপ্রত্যাশি। আক্কেলপুর, ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলা নিয়ে জয়পুরহাট-২ আসন। এ আসনে সাবেক সাংসদ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা, যুগ্মসম্পাদক আলী হাসান মুক্তা ও স্থানীয় নেতা আরিফ ইফতেখার আহমেদ প্রার্থী হতে চান। প্রার্থী সংখ্যা বেশি হবার কারণে এ আসনে নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসন। এ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক সাংসদ অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা, রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, বিএনপি নেতা শামীম কবির হেলিন মনোনয়নপ্রত্যাশি। তবে এ আসনে সাবেক সাংসদ অধ্যাপক শাহজাহান মিঞার সঙ্গে শামীম কবির হেলিনের বিরোধ রয়েছে।
নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন। এ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, বিএনপির মহিলা দলের নেত্রী ও সাবেক সংরক্ষিত আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট সৈয়দা আশরাফি পাপিয়া, গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান বাইরুল ইসলাম মনোনয়নপ্রত্যাশি। এ আসনে পাপিয়ার সঙ্গে অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশিদের বিরোধ রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ও সদর উপজেলা নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন। এ আসনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদ মনোনয়ন পেতে পারেন। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ মনোনয়নপ্রত্যাশি বলে শোনা যাচ্ছে।
সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলা নিয়ে নওগাঁ-১ আসন। এ আসনে সাবেক সাংসদ ডা. সালেক চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সাপাহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবদুন নূরের নাম রয়েছে।
ধামইরহাট ও পত্নীতলা উপজেলা নিয়ে নওগাঁ-২ আস। এ আসন থেকে সাবেক সাংসদ বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক শামসুজ্জোহা খান, নজিবুল্লাহ চৌধুরী ও মাহবুবুল আলম চপল চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে।
মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলা নিয়ে নওগাঁ-৩ আসন। এ আসন থেকে মনোনয়ন চান সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আখতার হামিদ সিদ্দিকী, বদলগাছী উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফজলে হুদা বাবুল ও জেলা বিএনপির সদস্য সাবেক ছাত্রদল নেতা রবিউল আলম বুলেট। তবে সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীকে কেন্দ্র করে এ আসনে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
মান্দা উপজেলা নিয়ে নওগাঁ-৪ আসন। এ আসনে সাবেক সাংসদ শামসুল আলম প্রামাণিক, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল মতিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ডা. একরামুল বারী টিপু ও সহসভাপতি আলম চৌধুরী মনোনয়নপ্রত্যাশি।
নওগাঁ শহর ও সদর উপজেলা নিয়ে নওগাঁ-৫ সদর আসন। এ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল হক সনি, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলুও মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে।
রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে নওগাঁ-৬ আসন। এ আসনে বিএনপির নেতা আনোয়ার হোসেন বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) আবদুল লতিফ খান এবং প্রয়াত সাংসদ চৌধুরী মোতাহার হোসেনের ছেলে মামুন চৌধুরী মনোনয়নপ্রত্যাশি বলে জানা গেছে।
কাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ সদরের একাংশ নিয়ে সিরাজগঞ্জ-১ আসন। এ আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা তালুকদার, জেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, সদস্য টিএম তহজিবুল এনাম তুষার ও কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা মনোনয়ন চাইতে পারেন।
সিরাজগঞ্জ সদরের একাংশ ও কামারখন্দ নিয়ে সিরাজগঞ্জ-২ আসন। এ আসন থেকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুক। কোনো কারণে অংশগ্রহণ না করলে তার সহধর্মিণী ও জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ প্রার্থী হতে পারেন।
রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলা নিয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ আসন। এ আসনে সাবেক সাংসদ আবদুল মান্নান তালুকদার, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম শিশির, তাড়াশ উপজেলা বিএনপি নেতা খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর, উপজেলা চেয়ারম্যান আইনুল হক ও ঢাকা আইনজীবী ফোরামের নেতা গোলাম মোস্তফা মনোনয়নপ্রত্যাশি।
উল্লাপাড়া উপজেলা নিয়ে সিরাজগঞ্জ-৪ আসন। এ আসনে সাবেক সাংসদ এম আকবর আলী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী কামাল, নারীনেত্রী সিমকী ইমাম, যুবদলের সদস্য আবদুল ওয়াহাব, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা কেএম শরফউদ্দিন মঞ্জু ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান সরকার মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। এ আসনে প্রার্থী সংখ্যা বেশি হবার কারণে নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলা নিয়ে সিরাজগঞ্জ-৫ আসন। এ আসনে দলের সহ-প্রচার বিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম, জেলা বিএনপির সদস্য রাকিবুল করিম পাপ্পু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের ও চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মামুন মনোনয়ন চাইতে পারেন।
শাহজাদপুর উপজেলা নিয়ে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন। এ আসনে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী প্রয়াত ডা. এমএ মতিনের ছেলে ডা. এমএ মুহিত, সাবেক সাংসদ কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিশ ও স্বে”ছাসেবক দলের সহসভাপতি গোলাম সরোয়ার মনোনয়নপ্রত্যাশি।
রাজশাহী বিভাগে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব ও কোন্দল সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, সারা দেশের মতো রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনেও দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর একটি খসড়া তালিকা করা হচ্ছে। সব আসনেই প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। এটি হতেই পারে। কারণ বিএনপি একটি বড় দল। অনেকেই দল থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন। আর একারণে কিছুটা বিশ”ড়খলা স”ষ্টি হতে পারে। তবে মনোনয়ন নিয়ে দলের মধ্যে যারা ভাঙনের চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।