দ্বিতীয়বার রাবির অভিভাবক সোবহান ।। ৪৮ দিন পর উপাচার্য পেল রাবি, নিয়োগ হয় নি উপউপাচার্য

আপডেট: মে ৮, ২০১৭, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


নতুন উপচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন অধ্যাপক ড.এম আব্দুস সোবহান-সোনার দেশ

দ্বিতীয়বারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান। গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এসময় বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর এন্তাজুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক মজিবুল হক আজাদ খানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোববার বিকেলে আব্দুস সোবহানকে রাবি উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদানের প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ প্রজ্ঞাপণ প্রকাশ করা হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বলেন, ‘ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়ায় মাননীয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। বিশ^বিদ্যালয়ের স্বার্থে সকলের সাহায্য সহযোগিতা কামনা করছি।’ সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় বিশ^বিদ্যালয়কে এগিয়ে নেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনে দল-মত নির্বিশেষে সব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতা করার আহ্বান জানান নতুন রাবি উপাচার্য।
অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের নিয়োগের ফলে ৪৮ দিন পর উপাচার্য পেল রাবি। এর আগের উপাচার্য অধ্যাপক মিজানউদ্দিন, উপউপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহানের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ১৯ মার্চ থেকে রাবির শীর্ষ পদ দুটি দীর্ঘদিন শূন্য ছিল। তবে উপাচার্য নিয়োগ দিলেও উপউপাচার্য পদটি এখনো শূন্য রয়েছে। এই পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয় নি। তবে শিগগিরই উপউপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
এর আগে ২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথবার চার বছরের জন্য রাবির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন অধ্যাপক আব্দুস সোবহান।
অধ্যাপক আব্দুস সোবহান রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের’ আহ্ববায়কের দায়িত্বে ছিলেন। এছড়া সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যসহ বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
দায়িত্বভার গ্রহণের পর উপাচার্য প্রফেসর আব্দুস সোবহান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালন এবং মোনাজাত করেন। তিনি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ড. শামসুজ্জোহার মাজার ও শহিদ মিনারেও পুষ্পস্তবক অর্পণসহ মোনাজাত করেন। পরে তিনি অন্যতম শহিদ জাতীয় নেতা এএইচএম কামারুজ্জামানের কবরেও পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত করেন।
ড. সোবহানের সংক্ষিপ্ত জীবনী : প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান ১৯৫৩ সালে নাটোরের বৈদ্যবেলঘরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী বোর্ড থেকে ১৯৬৯ সালে এসএসসি ও ১৯৭১ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে ফলিত পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে বিএসসি অনার্স ও ১৯৭৫ সালে ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেক্ট্রনিক্স বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা জীবনে সকল পরীক্ষায় তিনি প্রথম বিভাগ ও প্রথম শ্রেণি অর্জন করেন।
১৯৭৯ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগ দেন ও ১৯৯৭ সালে প্রফেসর পদে উন্নীত হন। ১৯৯২ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাস্ল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপ-এ পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র হচ্ছে, এক্সপেরিমেন্টাল সারফেস ফিজিক্স, কনডেন্সড ম্যাটার ফিজিক্স, সোলার এনার্জি ও থিন ফিল্মস।
প্রফেসর সোবহান বিভিন্ন সময়ে দেশ-বিদেশে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সেমিনারে সভাপতিত্বসহ অংশগ্রহণ করেন। এ যাবত তাঁর একটি পাঠ্যপুস্তকসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গবেষণা প্রবন্ধ বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন।
অধ্যাপনার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে তিনি বিভাগীয় সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ও সিনেট সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাফেটেরিয়ার প্রশাসক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সহসভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি পেশাজীবী, বুদ্ধিবৃত্তিক ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংগঠনের সদস্য।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ