দ্বিতীয় টেস্টে জয়ের ক্ষুধায় বাংলাদেশ

আপডেট: অক্টোবর ২৭, ২০১৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
২০১৫ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে ক্রিকেটে আমূল বদলে গেছে টাইগাররা। বাংলাদেশ এখন প্রতিপক্ষ দলের বিপক্ষে ফেভারিট থেকেই মাঠে নামে। হয়তো কিছু ম্যাচ হারলেও সমান তালে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত। টেস্টে সেভাবে ঠিক দেখা যাচ্ছিল না মুশফিকের নেতৃত্বে খেলা বাংলাদেশকে। যদিও গত বছর থেকে একটু একটু করে টেস্টেও বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় খুলনাতে ম্যাচ ড্র করেছে। গত বছর পাঁচটি টেস্ট খেলে একটি মাত্র ম্যাচে হেরেছে বাংলাদেশ। এর ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামে অুনষ্ঠিত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে বাংলাদেশ।
টেস্টে বাংলাদেশ ভালো খেলবে-এমনটা বিশ্বাস ক্রিকেটারদের মনে এসেছে বলেই এই সাফল্য। টেস্ট অধিনায়ক মুশফিক এমনটাই মনে করছেন। আর তাইতো চট্টগ্রামে যেখানে শেষ করেছিল বাংলাদেশ, সেখানে থেকে ঢাকায় শুরু করতে চায় তারা। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে অধিনায়ক মুশফিক বলেছেন, ‘১৫ মাস পর মাঠে নেমে দল হিসেবে আমরা অবশ্যই একটু ব্যাকফুটে ছিলাম। অবশ্যই ফেভারিট ছিলাম না। ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে ছেলেরা যেভাবে খেলেছে তাতে অবশ্যই সবার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আমি সবসময়ই বলেছি, টেস্ট ক্রিকেটেও আমরা যেন ধারাবাহিক হতে পারি। সেদিকেই আমাদের মনোযোগ। শুরুটা ভালো হয়েছে। চট্টগ্রাম যেভাবে শেষ করেছি, সেখান থেকেই ঢাকায় শুরু করতে চাই।’
প্রথম টেস্টে জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও ২২ রানে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আর তাইতো ঢাকা টেস্টে ক্ষুধাটা বেড়ে গেছে বাংলাদেশের। ঠিক এমন মনোভাবই প্রদর্শন করলেন দলের অধিনায়ক, ‘হতাশা আছে। কারণ দিনশেষে আমরা জিতিনি। তবে সেই ক্ষুধাটা আছে, আত্মবিশ্বাসও আছে। ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে টানা চারদিন খুব ভালো খেলেছি। আমরা জানি ইংল্যান্ড আরও শক্ত ভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করবে। তবে এখানে উইকেট আলাদা হবে। আশা করি ওরা আগে ভাগে বুঝে উঠার আগেই ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগাতে পারব।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটা শুধু আর দশটা টেস্ট ম্যাচের মতোই। প্রতিটি টেস্টই আমাদের জন্য স্পেশাল। কারণ আমরা বছরে একটি-দুটি টেস্ট খেলতে পারি।ইংল্যান্ড ভালো দল, দারুণ খেলছে সব ফরম্যাটেই। তাই আমাদের জন্য এটি চ্যালেঞ্জ। আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধারাবাহিক খেলা। আমরা সেদিকেই মন দিচ্ছি। সেটা পারলে ফলও আমাদের পক্ষে আসবে।’
ভালো খেলেছে বাংলদেশ-এমন আত্মতৃপ্তি নিয়ে বসে থাকতে চান না ক্রিকেটাররা। বুধবার তামিম ইকবাল এমনটাই জানিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবারও অধিনায়ক মুশফিক একই কথা বলেছেন, ‘আগের ম্যাচে আমরা যতোই ভালো খেলি না কেনও, ম্যাচ হেরেছি। সেই আক্ষেপ তো অবশ্যই আছে। সবার ভেতরে সেই জেদ আছে। ওই ম্যাচে আমরা এক শতাশংও এদিক সেদিক করতে পারতাম, তাহলে ফল আমাদের পক্ষে আসত। এই ম্যাচে আমরা সচেতন। আমরা জানি ইংল্যান্ড অনেক কঠিন প্রতিপক্ষ। তবে আমরাও চেষ্টা করব শেষ টেস্ট থেকে ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে নতুন করে শুরু করতে।’
ঢাকা টেস্টে ভালো করতে হলে স্পিনারদের পাশাপাশি ব্যাটসম্যানদেরও দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে বলে জানান মুশফিক, ‘ঢাকার উইকেট চট্টগ্রাম থেকে আলাদা হবে। এখানে উইকেটের মাটি অন্যরকম। জানি না উইকেট কেমন আচরণ করবে। তবে উইকেট যেমনই হোক, আমাদের স্পিনাররা সুবিধা পেলে সেটা কাজে লাগাতে পারবে। সেই সঙ্গে আমাদের ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারলে। ফলাফল আমাদের পক্ষে আসবে।’
ইংলিশদের টেল এন্ডাররাই চট্টগ্রাম টেস্টে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের টেল এন্ডাররা পুরোপুরি ব্যর্থ। এটা কতটা প্রভাব ফেলছে এমন প্রশ্নে মুশফিক বলেছেন, ‘ওদের টেল এন্ডারদের ১০-১১টা সেঞ্চুরি আছে। সেরকম হয়ত আমারও নেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। ওরা সেই অবদান রাখতে পারে কারণ ওরা অলরাউন্ডার। ওদের ৩-৪ জন অলরাউন্ডার আছে। আমরাও চেষ্টা করছি ভালো একটি কম্বিনেশন গড়ে তুলতে। মিরাজ ভালো অলরাউন্ডার। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ভালো খেলেছে। ভবিষ্যতে আমাদের দলেও ৩-৪ জন অলরাউন্ডার থাকবে। আর যে কোনও দলে এতজন অলরাউন্ডার থাকলে যে কোনও ফরম্যাটেই অধিনায়কের জন্য অনেক বড় সুবিধা।’-বাংলা ট্রিবিউন