দ্রুত বিচার আইনে বাঘা পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট: জুন ২৪, ২০২৪, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:


রাজশাহীর বাঘায় আ.লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় দ্রুত আইনে মামলার প্রধান আসামী করা হয়েছে পৌর মেয়র আক্কাছ আলীকে। রোববার (২৩ জুন) উপজেলা যুব লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর রহমান পিন্টু বাদি হয়ে বাঘা থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। এরপর থেকে মেয়র আক্কাছ আলীকে অফিস করতে দেখা যাচ্ছে না।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করা হয়েছে। এতে দ্রুত বিচার আইনে মামলায় বাঘা পৌর মেয়র আক্কাছ আলীকে প্রধান আসামী করে ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাকুড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম মেরাজ, মারুফ হোসেন, তরঙ্গ আলী, শাজামাল লিটন, নাসির উদ্দিন, মতিউর রহমান, গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকে মেয়র আক্কাছ আলী ও উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলুসহ তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা গ্রেফতার আতংকে রয়েছে। তবে অনেকেই গ্রেফতার এড়াতে নিরাপদ স্থানে সড়ে গেছে।

উল্লেখ্য, শনিবার সকাল ১০টার দিকে বাঘা উপজেলার সচেতন নাগরিকবৃন্দের ব্যানারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু ও বাঘা পৌর-মেয়র আক্কাছ আলীর কর্মী সমর্থকরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কতিপয় ব্যক্তি দলিল লেখক সমিতির নামে ক্রেতার কাছে জোর-পূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায়’র প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।

অপর দিকে একই দিনে সকাল সাড়ে ১০টার বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজন প্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে মানববন্ধনের ডাক দেয় বাঘা উপজেলা আওামীলীগ। উভয় পক্ষের কর্মী সমর্থকরা উপজেলা চত্বরে জড়ো হলে এরমধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ককটেল ও ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবলুসহ অনন্ত ৫০ জন আহত হন।

বাঘা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর রহমান পিন্টু বাদি হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামী করা হয়েছে। এ মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে বিকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া আক্কাছ আলীর নামে ২০২২ সালের ২১ মার্চ উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনে হামলা ও বিভিন্ন সময় একাধিক সন্ত্রাসী এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামার মামলা রয়েছে। তবে মামলায় সে জামিনে রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ