ধর্মঘটে দুর্ভোগ, জনসাধারণই জিম্মি || পরিবহণ সেক্টরে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা চাই

আপডেট: মার্চ ৩, ২০১৭, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

পরিবহণ ধর্মঘট নিয়ে এবার ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্ষো- আক্ষেপ তো ছিলই এবার নাগরিক কণ্ঠও ছিল বেশ রেসাচ্চার। দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে তাদের অযৌক্তি ধর্মঘট ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। পরিবহণ ধর্মঘটে সরকারের দুই মন্ত্রীর আচরণে আরো বেশি বিরক্তের উদ্রেক হয়েছে। ওই মন্ত্রীদ্বয়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট উস্কে দেয়ার অভিযোগও করা হচ্ছে। তাঁরা আরো বেশি সমালোচিত হয়েছে এই কারণে যে, মন্ত্রিদ্বয় সরকারের থেকে পরিবহণ ধর্মঘটÑ াতে সাধারণ মানুষের দুভোগের শেষ নেই তা কোনোভাবে সমর্থন করতে পারে কি? তাও আবার ধর্মঘট ডাকা হয়েছে  আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে। জনগণের জন্য, জনগণের কল্যাণে যাঁরা শপথ নেন তারা শপথ ভঙ্গ করে কী করে আইনের পরিপন্থী কাজের প্রতি সমর্থন দিতে পারেÑ এমন প্রশ্ন দেশের মানুষের সনামনে এসেছে। জাতীয় রাজনীতির জন্যই এই ঘটনা শিক্ষনীয় হয়ে রইল। তদুপরি সরকার পরিবহগণ ধর্মঘটের শান্তিপূর্ণ সমাধান টানতে পেরেছে বলে তারা প্রশংসার দাবি রাখে। তবে এই ধর্মঘটের নেপথ্যে ও প্রকাশ্যে যে বা যাদের ভূমিকা আছে তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা রেনয়া বাঞ্ছনীয় হবে বলেইা দেশের মানুষ মনে করে। একই সাথে পরিবহণ সেক্টরে যে অব্যবস্থাপনা তা দূর করতে হবে।
উন্নত ব্যবস্থাপনার মধ্যে পরিবহন সেক্টরকে আনার উদ্যোগটাই নেই। বিচ্ছিন্ন-অব্যাহতভাবেই চলছে দেশের পরিবহন খাত। ফলে এ খাতে নৈরাজ্য ও দুর্বৃত্তায়ণ নিত্যদিনের ব্যাপার। দেশের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত অসহায় ও প্রতারণার শিকার।
পরিবহণ শ্রমিকরাও এই অব্যবস্থপনার বাইরে নয়Ñ তারা দৃশ্যপটে ভীষণ দাপাদাপি করলেও তারাও অব্যবস্থাপনারই শিকার এবং সেটি নির্মমভাবে। সেই নির্মম চেহারাটা পরিবহণ শ্রমিকদের এখনো বোধের বাইরে।
আমরা সড়ক দুর্ঘটনার দায় পরিবহণ শ্রমিকদের ওপরেই বর্তাচ্ছি। কিন্তু পুরো ব্যবস্থপনার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যদের দিকে তেমনভাবে আঙুল তুলছি না। অথচ পুরো অব্যবস্থপনার সাথে সম্পৃৃক্ত হয়ে আছে মালিক পক্ষ, সড়ক  জনপথ বিভাগ, বিআরটিএ কর্তপক্ষ ও পথচারী। পরিবহণ শ্রমিক বাদে কোনো পক্ষই দায় নিচ্ছি না বরং ‘সমস্যাটা গাড়ি চালকদের’, এমনটাই প্রমাণের চেষ্টা হচ্ছে। এতে করে বাকি পক্ষ দায়মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে। এটা এক ধরনের অন্যায় সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে। পরিবহণ শ্রমিকদের পারিশ্রমিক ও সময়ঘণ্টাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলোর ব্যাপারে জোরালো দাবি উঠছে না। এমনকী এই দাবিতে পরিবহণ শ্রমিকরা পর্যন্ত সোচ্চার নয়। এসব মৌলিক দাবি নিয়ে পরিবহণ শ্রমিকদের ধর্মঘট করতে দেখা যায় না। অথচ তাদের ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষী মহল ব্যবহার করে ঠিকই তাদের স্বার্থ হাসিল করে চলেছে। এদের কাছে দেশের মানুষ সবসময় জিম্মি হচ্ছে। দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে। অখচ এ গুলি নিরাপদ সড়কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় ব্যাপার।
পরিবহণ শ্রমিকদের গাড়ি চালানোর দক্ষতার ওপরই অধিক গুরুত্ব দেয়া হয় এবং দক্ষতার প্রশ্ন তুলেই সমস্যা সমাধানের  প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয় কিন্তু শারীরিক ও মানসিক দক্ষতার বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। অথচ একজন চালক কত সময় পর্যন্ত গাড়ি চালাতে পারে, এর জন্য তার বেতন ও অন্যান্য সুযোগ- সুবিধা কেমন হবে সে ব্যাপাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এসব বিষয়ের সাথে একজন চালকের শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা এবং একই সাথে তার দায়বোধের বিষয়টি নির্ভর করে।
পরিবহণ শ্রমিকদের বাস্তবানুগ ও ন্যায়ত অধিকারগুলি আমলে নিয়ে পরিবহণ সেক্টরে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করার সময় এসেছে। সকল পক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারলেই কেবল পরিবহণ সেক্টরের দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করা যাবে বলে আমরা মনে করি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ