ধর্মীয় ভাব-গার্ম্ভীর্যের সাথে ঈদ উদ্যাপিত ।। জঙ্গিবাদ পরিহারের আহ্বান

আপডেট: জুন ২৯, ২০১৭, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ঈদের নামাজে মোনাজাতে অংশ নেন সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু-সোনার দেশ

যথাযোগ্য মর্যাদায় ধর্মীয় ভাব-গার্ম্ভীর্য্যরে মধ্যে দিয়ে নগরীতে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদ্যাপিত হয়েছে। গত সোমবার ঈদের নামাজ পড়তে ঈদগাহে ঈদগাহে ঢল নামে মুসল্লিদের। ঈদের জামাতগুলোতে নামাজের আগে বিশেষ বয়ানে জঙ্গিবাদ পরিহারের আহ্বান জানান ইমাম। পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
নগরীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় হজরত শাহ্ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। সকাল আটটায় জামাত থাকলেও তারও আগে থেকে ঈদগাহ ময়দানে মানুষের ঢল নামে। নগরীর বিশাল এই ঈদ জামাতে ইমামতি করেন ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামীয়া শাহ্ মখদুম (রহ.) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ শাহাদাত আলী।
সহকারি ইমাম ছিলেন, হেতমখাঁ বড় মসজিদের ইমাম মুফতি মাওলানা ইয়াকুব আলী। বয়ান করেন, জামিয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নাজমুল হক। তাকে সহায়তা করেন, মুফতি কারী রেজাউল করিম।
একই সময় ঈদের দ্বিতীয় প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় মহানগর ঈদগাহ (টিকাপাড়া) ময়দানে। তৃতীয় জামাতও অনুষ্ঠিত হয় সকাল আটটায় নগরীর সাহেববাজার বড় রাস্তায়। নগরীর শাহ্ মখদুম (র.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহে প্রায় ৫০ হাজার মুসল্লি ঈদ-উল-ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন।
এখানে রাজশাহীর সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার ঈদের নামাজ আদায় করেন।
এছাড়াও এখানে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান ও জেলা প্রশাসক হেলাল মহমুদ শরীফসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন।
ঈদের প্রধান জামাতে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় দেশ ও জাতির স্বার্থে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ পরিহারের আহ্বান জানানো হয়। পরে ঈদগাহ ময়দানে সবাই একে অপরের সাথে কোলাকুলি করে ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা এবং কুশলাদি বিনিময় করেন।
ঈদের দিন প্রায় একই সময় নগরীর ১১০টি ঈদগাহসহ আশপাশের শতাধিক ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর দরবারে প্রয়াত পিতা-মাতা ও স্বজনদের রুহের মাগফেরাত কামনার জন্য বিভিন্ন গোরস্থানে যান এবং কবর জিয়ারত করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ