ধর্ম নিরপেক্ষতা সত্তর দশকের রাজনীতিতে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ ছিল

আপডেট: আগস্ট ৬, ২০২১, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


এই উপমহাদেশে দুশ’ বছরের ওপর ধর্ম ও জাতিসত্ত্বা নিয়ে হানাহানির তিক্ত অভিজ্ঞতা বঙ্গবন্ধুর ছিল। তাই তিনি দেশ ও জাতিকে পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তি এবং অন্যদিকে কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা ও মূঢ়তা থেকে মুক্তির দৃঢ়তর অঙ্গীকার নিয়েই স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই চেতনার আলোকেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়েছে।
একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে অংকুরিত ধর্মনেরপেক্ষতার চেতনা ও রাজনৈতিক আদর্শ স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধানে অন্যতম রাষ্ট্রদর্শ ও মৌলনীতি হিসাবে স্বীকৃতি পায়। সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়। ধর্ম নিরপেক্ষতাকে একটি মূল রাষ্ট্রীয় নীতি হিসাবে গ্রহণ করা বাংলাদেশের সত্তর দশকের রাজনীতিতে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ ছিল। ভারতীয় সংবিধানে ধর্মরিপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসাবে গ্রহণ করা হয় ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে।
ধর্মনিরপেক্ষতা যে ধর্মহীনতা নয় সে ব্যাপারও সংবিধানে স্পষ্ট করা হয়েছে। সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘‘সকল নাগিরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। যেমন- কেবল ধর্ম, গোষ্ঠি, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবে না।’’
৪১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-‘‘প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে।’’ সুতরাং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মহীনতার কোন সম্পর্ক নাই। স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণ করার পর বঙ্গবন্ধু সংবিধান মোতাবেক রাষ্ট্র পরিচালনায় মনোনিবেশ করেন।
নীতি ও বিশ্বাসের জায়গাতে তিনি বলিষ্ট ও সোচ্চার ছিলেন। তাঁর এই সোচ্চার আহবান দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বকে জানান দিয়েছে। ১৯৭৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিল একটি ন্যায় পরায়ন ও শান্তিকামী উন্নত আন্তর্জাতিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপক্ষে একটি স্মরণীয় দলিল। বঙ্গবন্ধু সে দিন দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন-
‘‘চূড়ান্ত বিজয় জণগণ ও ন্যায়ের পক্ষে। এবং জনগণের অধিকার হরণের জন্য জাতিগত ও বৈষম্য সৃষ্টি, সেনাবাহিনী ব্যবহারসহ সকল জুলুম ও বেআইনি শোষক ও শাসকরা নিক্ষিপ্ত হয় ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। জয়ী হয় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষ।’’
ধর্মীয় মৌলবাদ বিশ্বজুড়ে শান্তি, প্রগতি ও উন্নয়নের পথে মারাত্মক বাধা হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে।
পৃথিবীর মানচিত্রের এখানে সেখানে সংঘটিত সন্ত্রাস ও সংঘর্ষের পিছনে এই মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা এক বড় শক্তি হিসাবে কাজ করছে। এই শক্তি একটি প্রগতি বিরোধী শক্তি। কেননা মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা প্রগতির চাকাকে সবসময় পেছনের দিকে টানতে চায়। বঙ্গবন্ধুর এখানেই ছিল তিব্র প্রতিবাদ, বিদ্রোহ, অসন্তোষ। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রেরণা এখান থেকেই তিনি পেয়েছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ