ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ায় বৃদ্ধের কারাদণ্ড

আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২২, ১০:৩০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


ধর্ষণ করে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইলে ছড়িয়ে দেওয়ার অপরাধে এক বৃদ্ধকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে, রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত। অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ডের রায় দিয়েছে ঘোষণা করেছে, ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান। ১৩ ও ১৪ বছর বয়সী দুই কিশোরীকে ধর্ষণ পরবর্তীতে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন আদালত।

সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামীর নাম আল-আমিন ওরফে আকিল। সে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চান্দাই গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৬ সাল এই মামলাটি করা হয়। মামলার ৫ বছর পর আসামীর অনুপস্থিতিতেই এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট ইসমত আরা। মামলার দায়েরের সময় ওই বৃদ্ধার বয়স ছিল ৬০ বছর।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার কথা বলে ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে কবিরাজি চিকিৎসার নামে ঘরে নিয়ে কৌশলে ধর্ষণ করে আল-আমিন। এরপর একাধিকবার কৌশলে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে সে। একই বছরের ১৫ নভেম্বর ১৩ বছরের আরেক কিশোরীকে কৌশলে কবিরাজি চিকিৎসার নামে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের সেই ভিডিও চিত্র ধারণ করে রাখে ওই বৃদ্ধ। ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানালে দুই কিশোরী মারা যাবে বলে তাদের ভয় দেখানো হয়। পরবর্তীতে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে পুনরাই শারীরিক সর্ম্পক স্থাপনের জন্য চাপ দেয়। পরে তারা না গেলে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইলে ছড়িয়ে দেয়।

আইনজীবী ইসমত আরা জানান, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ভুক্তভোগী এক কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় একটি মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত করে নাটোরের আদালতে বৃদ্ধ আল-আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর নাটোরের আদালত থেকে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ধারার অংশটির বিচারের জন্য ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। পরে রাজশাহীতে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন হলে এটি এখানে আসে। এখানে ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

তিনি আরও জানান, রাজশাহীর আদালতে শুধু ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার বিচার হলো। ধর্ষণের জন্য মামলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারার অংশটির বিচার চলছে নাটোরের আদালতে। ওই অংশটুকুর রায় এখনও হয়নি। মামলা একটি হলেও ধারা আলাদা থাকার কারণে বিচার দুই আদালতে চলছে বলেও জানান আইনজীবী ইসমত আরা।