ধর্ষণ মামলায় কারামুক্ত হয়ে ভুক্তভোগীকে হত্যা চেষ্টা!

আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০২২, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


বগুড়ার ধুনটে ধর্ষণ মামলার আসামি ২৪ বছর জেল খেটে আসার পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যকে গুম ও একাধিকবার হামলা করে ধর্ষণের শিকার নারীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই নারী মারাত্মক জখম নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জেল থেকে বেরিয়েই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ধর্ষণ মামলার সাজাভুক্ত ওই আসামি। তার নেতৃত্বে একাধিকবার হামলা হলেও আসামিদের পক্ষ নিয়ে ভুক্তভোগীকে হয়রানিমূলক মামলা ও অর্থের বিনিময়ে আসামিদের পক্ষ নিয়ে কাজ করার অভিযোগ ধুনট থানার ওসি ও তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারটি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এঘটনায় গত ৬ জুন ধুনট থানায় একটি মামলা ও ১১ জুন আসামিদের হয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি পুলিশের হয়রানি ও পুলিশি মদদে হামলার বিষয়টি তুলে ধরে বগুড়া পুলিশ সুপার (এসপি)কে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী নারীর ছেলে।
এই অভিযোগের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহা-পুলিশ পরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অ্যাডমিন, এপিবিএন), রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (ক্রাইম-১), বগুড়া জেলা পিবিআই পুলিশ সুপার ও বগুড়া র‌্যাব-১২ সিপিএসসি কোম্পানি কমান্ডারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার ওই নারীর ছেলে টেকনাফে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে নায়েক হিসেবে কর্মরত আছেন। মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী নারী। সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামি বাদশা মিয়া (৫৫) কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়। যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করে আসামি ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর মুক্ত হন।

মুক্ত হয়েই তার ভাই বেলাল হোসেন (৪৫) ও তার স্ত্রী বিলকিস খাতুন (৪০), দুলাল মিয়া (৫০) ও তার ছেলে রাশেদ মিয়া (২১), তোজাম মিয়া (৫২)সহ সোহের রানা (৩২), আল আমিন (৩৫) ও তার স্ত্রী শাপলা খাতুন (৩৬), দেলবার হোসেন (৭৫) রাতের অন্ধকারে অবস্থায় ঘরের বেড়া কেটে ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে মারপিট করে ও তার মাকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫ জনের বিরুদ্ধে ৬ জুন ধুনট থানায় একটি মামলা করা হয়।

ধর্ষণের শিকার ওই নারীর মাকে এখনো উদ্ধার করতে পারে নি পুলিশ। এরইমধ্যে কয়েকদফা ভুক্তভোগী নারীকে হত্যা চেষ্টা চালায় আসামিরা। কিন্তু তৎকালীন ধুনট থানার ওসি শ্রী কৃপা সিন্ধু বালা ও এসএসআই (নি.) আবু তাহের আসামিদের পক্ষ নিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগীদের হয়রানি করতে থাকে। এরপরপরই বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ধুনট থানার এই কর্তকর্তাদের বদলি করা হয়।

ভুক্তভোগী নারীর ছেলে মোস্তফা কামালের অভিযোগ, একেরপর এক তার পরিবারের প্রতি অত্যাচার করা হচ্ছে। কিন্তু পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে অর্থের কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। রোববার (৭ নভেম্বর) সকালে ওই আসামিরা আবারও তার মাকে তুলে নিয়ে মারধর করে। একা পেয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এছাড়া পূর্বের মামলা তুলে নিতে ও ধর্ষণের মামলাটি প্রশ্নবিদ্ধ করতে মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। যে বক্তব্য আসামিরা তাদের ফোনে ধারণ করেছে। এরআগে তার পরিবারের অন্য সদস্যদেরও বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে বলে দাবি তার। মোস্তফা কামালের বলেন, ধুনট থানার বর্তমান ওসি রকিবুল ইসলাম, এসআই শহিদুল ইসলাম, এসআই রুহুল আমিনসহ স্থানীয় মেম্বার এরশাদ আলী মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও চাপ প্রয়োগ করছে। তাদের ইন্ধনেই গত ৬ নভেম্বর তার মায়ের প্রতি পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। নির্যাতন শেষে পুলিশই আবার হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তার মা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ।

তবে পুলিশের প্রতি আনা অভিযোগ অস্বীকার করে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, তিনি ধুনট থানায় মাত্র দেড় মাস আগে যোগদান করেছেন। আর ৬ নভেম্বরের ঘটনায় পুলিশের একটি টিম সেখানে পাঠানো হয়েছিলো। তারা আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে এটা সঠিক না। আর গুম হওয়া ওই নারীকে উদ্ধারে তারা কাজ করছেন।