ধর্ষণ মামলায় হেফাজতের মামুনুলের বিচার শুরু

আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০২১, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


নারায়ণগঞ্জের ধর্ষণ মামলায় হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।
মামুনুল যাকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেছিলেন, সেই জান্নাত আরা ঝর্ণার দায়ের করা মামলায় হেফাজতের সাবেক এই যুগ্ম- মহাসচিবের বিরুদ্ধে বুধবার অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আনিসুর রহমান।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সকাল ৯টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গাজীপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে বেলা ১১টার দিকে তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

মামুনুলের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় গত ৩০ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেছিলেন ঝর্ণা।

তদন্ত শেষে ওই থানার পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম ১০ সেপ্টেম্বর মামুনুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক না থাকায় ওই আদালতের সরকারি কৌসুলি(পিপি) রকিব উদ্দিন আহমেদ বুধবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ধর্ষণের মামলায় অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন।
পিপি রকিব উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিচারক অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে সাক্ষ্য গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন।”
মামলার এজাহারে বলা হয়, ঝর্ণা তার স্বামী শহীদুল ইসলামের সঙ্গে ‘সুখে শান্তিতেই’ ছিলেন। তাদের ১৭ ও ১৩ বছর বয়সী দুই সন্তান আছে। স্বামীর ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে ২০০৫ সালে মামুনুল হকের সঙ্গে ঝর্ণার পরিচয় হয়।
বাদীর অভিযোগ, তাদের বাসায় অবাধ যাতায়াত থাকার সুবাধে ছোটখাটো সাংসারিক মতানৈক্যের মধ্যে মামুনুল ‘সুকৌশলে’ প্রবেশ করে স্বামী-স্ত্রী মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন। সাংসারিক টানাপড়েনের এক পর্যায়ে মামুনুলের ‘কুপরামর্শে’ ২০১৮ সালের ১০ অগাস্ট শহীদুলের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়।
এই নারী অভিযোগ করেছেন, বিচ্ছেদের পর ‘তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে’ মামুনুল তাকে ঢাকায় আসার জন্য ‘প্ররোচিত’ করেন। ঢাকায় আসার পর তার পরিচিত বিভিন্ন অনুসারীর বাসায় রেখে মামুনুল নানাভাবে তাকে ‘কুপ্রস্তাব’ দেন।
এর ধারাবাহিকতায় মামুনুলের পরামর্শে কলাবাগানে এক বাসায় সাবলেট থাকতে শুরু করেন জানিয়ে বাদী অভিযোগ করেছেন, ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে এবং ‘অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে’ মামুনুল হক তার সঙ্গে ‘শারীরিক সর্ম্পকও’ করেছেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে মামুনুল ‘করছি, করব বলে সময়ক্ষেপণ’ করতে থাকেন।
এজাহারে বলা হয়, ঘোরাঘুরির কথা বলে ২০১৮ সাল থেকে মামুনুল বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে বাদীকে নিয়ে যেতেন। ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়েল রিসোর্টে বেড়াতে নিয়ে গিয়েও মামুনুল তাকে ‘ধর্ষণ করেন’।
সেদিন সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টের একটি কক্ষে ওই নারীসহ মামুনুলকে অবরুদ্ধ করে স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ গিয়ে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় খবর পেয়ে হেফাজত ও মাদ্রাসার ছাত্ররা ওই রিসোর্টে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।

পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে ঝর্ণাকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন মামুনুল। পরে তাকে তাদের বাসায় উঠতে না দিয়ে পরিচিত একজনের বাসায় আটকে রাখেন; কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেননি। পরে তার বাবার আবেদনের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে জান্নাত আরা ঝর্ণাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই দিনের ঘটনায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভাঙচুর করেছে। পুলিশ গিয়ে তাদেরকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে হেফাজতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

রিসোর্টে মামুনুল হককে অবরুদ্ধ ও সহিংস ঘটনার উদ্ভূদ পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার ওসি রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টিএম মোশাররফ হোসেনকে বদলি করা হয়।

এর ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। পুলিশ তখন জানায়, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
রিসোর্টের ঘটনার ২৭ দিন পর সোনারগাঁ থানায় হাজির হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন ঝর্ণা।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ