ধর্ষণ : সাজা নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট: জুলাই ১, ২০১৭, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

ড. মির্জা গোলাম সারোয়ার পিপিএম


ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি। বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে এই ব্যাধি ক্রমশঃ বেড়েই চলেছে। যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর সাথে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে, সম্মতি ছাড়া, মৃত্যু বা আঘাতের ভয় দেখিয়ে সম্মতিক্রমে অথবা ভুল বুঝিয়ে বা বিশ্বাস জন্মিয়ে সম্মতিক্রমে যৌন সঙ্গম করে তখন তা ধর্ষণল বলে গণ্য হবে। ধর্ষণের ক্ষেত্রে নারীর ইচ্ছা সম্মতি ছাড়া অপরাধটি সংঘটিত হয়। অর্থাৎ ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক মিলনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাধ্য করলেই তা ধর্ষণ হবে। এই ইচ্ছার বিরুদ্ধে হতে পারে বল প্রয়োগ বা প্রভাব খাটানো বা পরিস্থিতির সুযোগ নেয়া। এই সংজ্ঞার আওতায় একজন স্ত্রী এবং পতিতাও ধর্ষিতা হতে পারেন। প্রভাবের জোরে আপাতঃ দৃষ্টিতে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণকারী একজনও আসলে ধর্ষিত বা ধর্ষিতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। ধর্ষণল শুধু নারীদের ক্ষেত্রেই নয়, পুরুষদের ক্ষেত্রেও হয়।
আবার জোরপূর্বক বিক্রির মাধ্যমে যখন নারীকে যৌন কাজে ব্যবহার করা হয়, তা অবশ্যই ধর্ষণ। সামাজিকভাবে একজন ধর্ষিতা নারীর গ্রহণযোগ্যতা নেই, আর নারীকে ধর্ষণের শারীরিক ফলাফল বয়ে বেড়াতে হয়। তাই অপরাধ না করেও সমাজের দৃষ্টিতে ধর্ষিতা নারী তার সতীত্ব হারিয়ে ফেলে। আবার অসম শক্তির সম্পর্কে নিরাপত্তার ভয়ে এবং ব্যক্তিত্বের দুর্বল অবস্থার কারণে আপাত দৃষ্টিতে স্বেচ্ছা-মিলন হলেও তা ধর্ষণ পর্যায়ে পড়ে যায়। পেশাগত জীবনে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে দেশের বিভিন্ন থানায় ১৮ হাজার ৬৬৮টি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ৩ হাজার ৭১৭টি, ২০১৫ সালে ৩ হাজার ৯২৮টি, ২০১৪ সালে ৩ হাজার ৬১৯টি, ২০১৩ সালে ৩ হাজার ৬৫০টি এবং ২০১২ সালে ৩ হাজার ৬৮৪টি মামলা হয়। এসব মামলার মধ্যে প্রতি বছর গড়ে ৪ ভাগ আসামীর সাজা হয়। বাকিদের অধিকাংশই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মামলা থাকা অবস্থায় মাঝপথে বাদিপক্ষ আদালতের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এমতাবস্থায় পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে জানা যায়, বাদিপক্ষ আসামি পক্ষের সঙ্গে বিয়ে বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সমঝোতা করে ফেলেছে।
ধর্ষণ মামলায় অগ্রসর হলে নিরাপত্তার ঝুঁকির সাথে সাথে ধর্ষিতাদের সামাজিক মর্যাদার এবং ব্যক্তিগত ক্ষতিও জড়িত থাকে। অবিবাহিত নারী হলে তার বিবাহ অনিশ্চিত হয়, বিবাহিতা হলে তার বিবাহিত জীবন এবং তার সন্তানদের সামাজিক জীবন অনিশ্চিত হয়। আর্থিক অসঙ্গতি, চক্ষু-লজ্জা, সমাজের অগ্রহণযোগ্যতা, আইনের প্রতি অনাস্থা, ক্ষমতার অভাব ইত্যাদি কারণে অধিকাংশ ধর্ষণ অপ্রকাশিত থাকে। আবার অনেকেই লোক চক্ষুর ভয় এবং লজ্জায় মামলা করার জন্য থানায় যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে ধর্ষণ মামলার প্রকৃত পরিসংখ্যান পাওয়া সম্ভব হয় না।
ধর্ষণের শিকার মেয়েদের সারাদেশে ৮টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে কাউন্সেলিং, পুলিশ ও আইনি সহায়তা দেয়া হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে চিকিৎসা সহায়তা নিতে আসেন ২২ হাজার ৩৮৬ জন নারী। তার মধ্যে মামলা হয় ৫ হাজার ৩টি ঘটনার। এর মধ্যে ৮০২টি মামলার রায় দেয়া হয়েছে। শাস্তি পেয়েছে ১০১ জন। রায় ঘোষণার হার ৩ দশমিক ৬৬ ভাগ। তার সাজার হার ০ দশমিক ৪৫ ভাগ। তবে শারীরিক পরীক্ষা ঠিক সময়ে না হলে ধর্ষণ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আর প্রমাণই যদি না থাকে তবে কিসের ভিত্তিতে আইনি লড়াই হবে? বেশির ভাগ সময়ে প্রমাণের অভাবেই হেরে যান ক্ষতিগ্রস্তরা। ২৬ বছর থানায় ওসির দায়িত্ব পালনকালে দেখেছি, অনেক সময় ধর্ষিতা হওয়ায় ২/৩ দিন পর ক্ষতিগ্রস্ত নারী থানায় মামলা করতে এসেছেন। সে ক্ষেত্রে ঘটনা প্রমাণে আমরা পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য প্রমাণের উপর গুরুত্ব দিয়েছি। তবে সব ক্ষেত্রেই সাজার হার খুবই কম।
নারীপক্ষের এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশের ৬টি জেলার ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে করা ৩ হাজার ৬৭১টি মামলায় মাত্র ৪ জনের সাজা হয়েছে। ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত নারীপক্ষ ঢাকা, জামালপুর, ঝিনাইদহ, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট ও নোয়াখালিতে এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে। গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ পায় গত মার্চে। এতে দেখা যায় যে, ওই সময়ে ঢাকায় ধর্ষণের অভিযোগে ৯২০টি এবং ধর্ষণের চেষ্টা সংক্রান্তে ১১৭টি মামালা হয়েছে। এ ছাড়া বাকি ৫ জেলায় ধর্ষণ সংক্রান্ত ১ হাজার ৬৭৭টি এবং ধর্ষণ চেষ্টা সংক্রান্ত ৭৫৭টি মামলা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ধর্ষণসংক্রান্ত মামলা সিরাজগঞ্জে ৫৩৬টি, জামালপুরে ৬০৭টি, ঝিনাইদহে ১৭৭টি, জয়পুরহাটে ৯২টি এবং নোয়াখালিতে ২৬৫টি। এছাড়া ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে সিরাজগঞ্জে ১৬৮টি, জামালপুরে ৩২৫টি, ঝিনাইদহে ৮১টি, জয়পুরহাটে ৩২টি এবং নোয়াখালিতে ১৫১টি। ৬ জেলায় ৭টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে করা মামলার ভিত্তিতে এ গবেষণা চালায় নারীপক্ষ।
পুলিশ সদর দপ্তর এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলাগুলোর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় চারভাগেরও কম মামলার। আর সাজা পায় হাজারে মাত্র ৪ জন আসামি। আইনের ক্রটি, ফরেনসিক টেস্টের সীমাবদ্ধতা প্রভাবশালীদের চাপ এবং সামাজিক কারণে এ রকম হচ্ছে বলে মনে করে ধর্ষণের শিকার নারী ও তার পরিবারকে আইনি সহায়তা দেয়া মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘ বিচার সূত্রিতা ইত্যাদি কারণে বাদিপক্ষ অনেক সময় ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত হন। অনেক সময় ধর্ষণ মামলায় সমাজের উচ্চবিত্ত প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় অভিযুক্তদের সাজা নিশ্চিত করা কঠিন হয়। ধর্ষণের বিচারহীনতার কারণ হিসেবে বাদিপক্ষ এবং আদালত পুলিশের তদন্তে গাফিলতি এবং ত্রুটির প্রসঙ্গটি বারবারই সামনে আনে। থানায় মামলা করা থেকে শুরু করে ভিকটিমের সঙ্গে আচরণ, তদন্ত এবং অপরাধীকে গ্রেফতার ইত্যাদি সবক্ষেত্রেই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এটা ঠিক কখনো কখনো কিছু অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা তদন্তে গাফিলতি প্রদর্শন কিংবা অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়েন। তাই বলে ঢালাওভাবে পুলিশকে দায়ী করা ঠিক নয়। তার প্রমাণ আমরা সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার এবং ঘটনার রহস্য সাফল্যজনকভাবে উদঘাটনের ক্ষেত্রে দেখেছি। এক্ষেত্রে পুলিশের কর্মকা- অবশ্যই প্রশংসনীয়।
অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমাদের গ্রামের এক দিন মজুরের মেয়েকে এক প্রভাবশালী মাতবরের বখাটে ছেলে তার কয়েক বন্ধু মিলে ধর্ষণ করে। এমনকী ঘটনার বিষয়ে মেয়েটির বাবাকে থানায় না যাওয়ার জন্য ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শনের মাধ্যমে সমঝোতা করতে বাধ্য করে। সমঝোতায় মেয়েটির চিকিৎসার কথা থাকলেও তারা তা করে না। আস্তে আস্তে ঘটনাটি চাপা পড়ে যায়। কিন্তু মেয়েটি ধর্ষণের দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারে না। মানসিকভাবে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ধর্ষণ করেও কোন কিছু না হওয়ায় মাতবরের ছেলে ও তার বন্ধুরা আরো বেশি প্রশয় পেয়ে যায়। ফলে কয়েক মাস পর তারা আবার মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। কিন্তু এবার বিষয়টি পত্র-পত্রিকায় ফলাও করে ছাপার কারণে পুলিশের টনক নড়ে। তারা এই বিষয়ে একটি মামলা করে দ্রুত মাতবরের ছেলে এবং তার বন্ধুদেরকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন মামলা চলার পর আসামীদের প্রত্যেকের সাজা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, প্রথম বার ধর্ষণের বিচার হলে আসামীরা মেয়েটিকে দ্বিতীয় বার ধর্ষণ করার মতো সাহস পেতো না। উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালী আসামীদের সাজা হওয়ায় আমাদের গ্রামে আর কোনো দিন ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে দেখিনি। ছোটকালে এই একটি ঘটনা থেকে আমার উপলব্ধি হয়েছে যে বিচারহীনতার কারণেই অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে।
ওয়ান্ডার লিস্ট সংবাদপত্রের খবর অনুসারে ধর্ষণের ঘটনায় বিশ্বে এক নম্বরে অবস্থান করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ ভারতের অবস্থান তালিকার চতুর্থ নম্বরে। দশটির মধ্যে চারটিই পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশ। ২০১৬ সালের ধর্ষণ অপরাদের শীর্ষে থাকা ১০টি দেশের নাম প্রকাশ করেছে ওয়ান্ডারলিস্ট। আগের বছর তালিকায় থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা দু’য়ে নেমেছে। ভারতের আগে ৩ নম্বরে রয়েছে ইউরোপের দেশ সুইডেন। গবেষকরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ৩ জন নারীর একজন পুরো জীবনের একবার হলেও ধর্ষণের শিকার হয়। গড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৯১ শতাংশ নারী ধর্ষণের শিকার হন। সেখানে প্রতি ৬ জন নারীর মধ্যে ৫ জন ধর্ষণের শিকার অথবা ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হন। আর ভারতে প্রতি ২২ মিনিটে ১জন নারী কোন না কোন ভাবে নির্যাতনের শিকার হন। ধর্ষণ অপরাধের শীর্ষে থাকা বাকি দেশগুলো হলো যুক্তরাজ্য ৫, জার্মানি-৬, ফ্রান্স-৭, কানাডা-৮, শ্রীলংকা-৯, আর ইথিওপিয়ার অবস্থান-১০ নম্বরে।
শুধু পুলিশকে দোষারোপ করলেই হবে না। অনেক সময় বাদি এবং সাক্ষিগণ আসামীদের দ্বারা প্রভাবিত হন। সেক্ষেত্রে বাদি মামলা চালাতে অপারগ হন কিংবা আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য হাজির হন না কিংবা হাজির হলে ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। তদের এ ধরনের ভূমিকার কারণে আসামীরা পার পেয়ে যায়। তাছাড়া ধর্ষকরা প্রভাবশালী হলে তারা বাদিকে নানাভাবে প্রভাবিত করে মামলায় সমঝোতার চেষ্টা করে। কখনো ধর্ষণের শিকার নারী ও তার পরিবার সামাজিক মান-মর্যাদার ভয়ে ঘটনাটি চেপে যায়। ফলে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যায় না। তার এই সুযোগে আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের থেকে শুরু করে প্রতিটি জায়গায় একজন নারীকেই প্রমাণ করতে হয় যে তিনি ধর্ষিত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে ধর্ষিতা নারী বেশিদিন তার মনোবল ধরে রাখতে পারেন না। উপনিবেশিক অনেক আইনের হাত থেকে আমাদের নিষ্কৃতি মিললেও ধর্ষণের প্রমাণ দিতে হবে নারীকে। অথচ প্রতিবেশী ভারতে যার কিংবা যাদের বিরুদ্ধে এমন ঘৃণ্য অপরাধের অভিযোগ আসে, তাকেই প্রমাণ করতে হয় সে নির্দোষ। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মামলার ত্রুটি বিচ্যুতি, আইনের ফাঁক-ফোকর ইত্যাদির কারণে ধর্ষিত নারী সঠিক বিচার পান না। পুলিশি তদন্তে ত্রুটি এবং অবহেলা ছাড়াও এর পেছনে কাজ করছে নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা।
মানবাধিকার নেত্রী অ্যাডভোকেট এলিনা খান এ প্রসঙ্গে বলেন, বিচারহীনতার কারণে ধর্ষণের সংখ্যা আরও বেড়ে চলেছে। আইনে আছে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। বিশেষক্ষেত্রে কারণ দেখিয়ে বাড়তি সময় নেয়া যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, মামলা শেষ হতে ১০-১২ বছর লেগে যায়। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে ভিকটিম বারবার ধর্ষণের বিবরণ ও প্রমাণ উপস্থাপন করতে গিয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান, দ্বিতীয় বার ধর্ষিত হন। থানায় মামলা নেয়ার সময় বা আসামি পক্ষের আইনজীবী যেভাবে প্রশ্ন করেন তখন ওই নারী আবারও ধর্ষণের বীভৎস অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। অনেকে একঘরে হয়ে পড়েন। একটা সময় তার মধ্যে বিচার পাওয়া নিয়ে হতাশা শুরু হয়। আদালতে যাওয়া বন্ধ করে দেন ভিকটিম। এ সব কারণেই মূলত আসামীরা পার পেয়ে পেয়ে যায়।
বাংলাদেশ দ-বিধি অনুসারে ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- এবং তৎসহ অর্থদ-। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধন) ২০০৩ এর ১০ (১) ধারা অনুযায়ী যৌনপীড়নের শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর ও সর্বনি¤œ ৩ বছর সশ্রম কারাদ- তৎসহ অর্থদ-। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচারের ক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত সচেষ্ট আছি। আইন সংশোধন করে বিশেষ আদালতে এ ধরনের ঘটনা বিচার হচ্ছে। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো মন্ত্রণালয় দেখবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা চাই শতভাগ অপরাধীর সাজা হোক।
ধর্ষণ অত্যন্ত অমানবিক এবং ক্ষমার অযোগ্য একটি অপরাধ। ধর্ষণ একটি শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন। ধর্ষিতা নারীর প্রতি গ্রহণ করতে হবে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম সুফিয়া কামাল বারবার একটি বিষয়ের প্রতি সবার দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন- যে নারী অন্যায়-অপমানের শিকার হয় তাকে কেউ যেন নতুন করে আঘাত না করে। তার মানবাধিকার নতুন করে যেন লঙ্ঘিত না হয়। আইনের মাধ্যমে ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত হলে এ ধরনের অপরাধ কমে যাবে। আইনের শাসন এমন হতে হবে যেখানে ধর্ষক যেন কোনো আশ্রয় না পায়। পাশাপাশি সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এ অপরাধকে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। তবেই ধর্ষণ কমবে, নচেৎ নয়।
লেখক : পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তা (অব.)(আই.জি ব্যাজ, জাতিসংঘ ও রাষ্ট্রপতি পদক প্রাপ্ত)